সারাদেশ
দরিদ্র মেধাবী তনুশ্রীদের ঝড়ে পড়তে দেয়া যাবে না
৩৪ জন দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর দায়িত্ব নিলেন হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি
সাহেব, দিনাজপুর :
Published : Monday, 23 October, 2017 at 8:50 PM
কবি গানের আলোচিত গায়ক গনপতি রায় এখন ক্লান্ত। কবি গান গেয়ে ৩ সন্তানের পড়াশুনার অর্থ যোগার করতে আর পারছে না। সন্তানদের  শিক্ষিত করার স্বপ্ন আর হয়ত পূরণ হচ্ছে না। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ছে শরীর। আর পারছে না কবি গান গেয়ে অর্থ উর্পাজন করতে। এদিকে সন্তানরা  পড়ালেখা ছাড়তে রাজি নয়। এ অবস্থায় গণপতির কন্যা তনুশ্রী রায়ের পড়ালেখার  খরচের দায়িত্ব নিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। দিনাজপুর-১ আসনের কাহারোল উপজেলার রসুলপুর গ্রামের গনপতি রায়ের ঘরে জন্ম নেয় ৩ মেধাবী সন্তান। ছোট বেলা থেকেই বড় কন্যা জয়শ্রী রায় পড়ালেখায় মেধাবী। জয়শ্রী বর্তমানে দিনাজপুর সরকারি কলেজে উদ্ভিদ বিদ্যায় মার্ষ্টাস পড়ছে। এর খরচ চালাতেই হিমসিম খাচ্ছে পিতা গনপতি রায়। এরমধ্যে ২য় কন্যা অসাধারন মেধাবী তনুশ্রী রায় এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ দিনাজপুরে নির্বাচনী পরিক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু ভর্তি হতে লাগছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার টাকা। কোথায় পাবে তনুশ্রী এ টাকা। এ চিন্তা ঘুড়পাক খেতেই এগিয়ে আসলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। ভর্তি ফি ও আনুসাঙ্গক খরচের জন্য ২০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, ‘‘তোমার সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ পর্যন্ত পড়াশুনার খরচ আমি বহন করবো’’। গনপতি রায় এক পুত্র পৃতম রায় কাহারোলের প্রভাতী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীর ছাত্র। ওই এলাকার বাসিন্দা কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য বরদা ভূষন রায় বলেন, গনপতি রায় প্রত্যন্ত হাটে বাজারে, পূজা বাজারে, মেলায় কবি গান গেয়ে সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে আসছে। তনুশ্রী কাহারোল শিশু নিকেতন থেকে কৃতিত্বে সাথে ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি ও কাহারোল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ নিয়ে এসএসসি পাশ করার পর মেডিকেলে নির্বাচনী পরীক্ষা দিয়ে উর্ত্তীন হয়। তনুশ্রীর স্বপ্ন সে বড় চিকিৎসক হবে। কিন্তু এত খরচ পিতা গনপতি রায়ের  বহন করা সম্ভব নয়। স্বপ্ন ও ইচ্ছার প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল তনুশ্রী। হুইপ ইকবালুর রহিম তনুশ্রীর সেই ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসে। তনুশ্রী আনন্দের সাথে বললেন, আমি একদিন দেশের বড় চিকিৎসক হয়ে মানব সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবো। যেমনটি করছেন মানবতার উর্ধ্বে যার স্থান জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন জানান, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর মরহুম এম.আব্দুর রহিম তার নিজ গ্রাম জালালপুরে দরিদ্র মানুষদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘‘এম.আব্দুর রহিম প্রাথমিক বিদ্যালয়’’। এছাড়াও দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার জন্য প্রতিবছর প্রায় ২০০ জন ছেলে মেয়েকে ইকবালুর রহিম এমপিসহ তার বড় ভাই  বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বোন ডাঃ নাদিরা সুলতানা, ডাঃ নাসিমা সুলতানার অর্থায়নে প্রতিবছর পিতা-মাতার নামে দরিদ্র মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের নাজমা রহিম বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। এম.আব্দুর রহিম ২ পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তানকে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন। হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ছাত্র জীবন থেকে অসংখ্য দরিদ্র ছেলেমেয়েদের শিক্ষার খরচ বহন করে আসছে। ইকবালুর রহিম সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই সংসদ থেকে প্রাপ্ত সম্মানি ভাতা দরিদ্র মেধাবীদের শিক্ষার জন্য দিয়ে থাকেন। বর্তমানে দিনাজপুর সরকারি কলেজ, এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ দিনাজপুর, রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটে বর্তমানে ৩৪ জন ছাত্রছাত্রীর পড়াশুনার  খরচ বহন করছে। এরিমধ্যে ৪ জন এমবিবিএস পাশ করে চিকিৎসক হয়েছে ও ৩ জন পড়ালেখা শেষ করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, অর্থের অভাবে মেধাবী তনুশ্রীদের ঝড়ে পড়তে দেয়া যাবে না। আমি আমার সংসদের সম্মানী ভাতার সমুদয় অর্থ দিয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের খরচ বহনের এ দায়িত্ব পালন করছি। দরিদ্র তনুশ্রীরা এভাবেই একদিন লেখাপড়া শেষ করে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft