বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২০
আক্কেল চাচার চিঠি (আঞ্চলিক ভাষায় লেখা)
ঘাটের বিটিরা কি লজ্জাডাই না পালে...
Published : Sunday, 25 November, 2018 at 6:30 AM
এক সন্দেয় গিরামের চা’র দুকানে চা আড্ডা চলচে। এর মদ্দি একজন চা খাতি খাতি কচ্চে আজ গাঙের ঘাটে চ্যান কত্তি যাইয়ে দেকলাম ঘাটের বিটিরা কি লজ্জাডাই না পাইলো। নিচ্চয় ইরাম কিচু ঘইটেচে, না হলি বিটিরা লজ্জা পাবে ক্যান ভাইবে স¹লি আস্তের আস্তের আগোয় আইসে কচ্চে, কি ফ্যারা ম্যা’ভাই কওদিনি। ঘাটের বিটিরা লজ্জা পালে ক্যান? সেই ম্যা’ভাই গরম চা’তে ফু মাইরে খাতি খাতি কচ্চে, আর কইয়োনা। আজ দুপারে গাঙে গিলাম চ্যান কত্তি। ড্যাঙায় লুঙি খুইলে গামচা পইরে গ্যাঙে লাইবে চ্যান কচ্চি। তারপর যেই পানিত্তে উইটে ড্যাঙায় আইচি সেই ঝমাত কইরে গেচে পরনের গামচা খুইলে। আর যে সব বিটিরা গ্যাঙে আইলো চ্যান কত্তি তারা গামচা খুলার দৃশ্য দেইকে কি লজ্জাডাই পালে। কইয়ে ইরাম হাসি দেলে, শুইনে মনে হলো সব লজ্জা ঘাটের বিটিগের! যার গামচা খুইলে পড়ে গ্যালো তার কোন লজ্জা নেই।
কাল টিবির খবরে এট্টা ঘটনা দেইকে ঘাটের বিটিগের মতো লজ্জা পালাম। শুক্কুরবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হইলো ফিডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা। ঢাকা আবাহনী আর বসুন্ধরা কিংস ফাইনালে উটিল। খেলার পেত্তম আদ্দেকে ১ গোলে আগোয় ছিলো বসুন্ধরা কিংস। খেলার ১৯ মিনিটি গোলডা করেন বসুন্ধরার হয়ে খেলা কুস্টারিকার তোকড় ফুটবলার ডানিয়েল কলিনডেস। হাফ টিবিনির পর গোল শোধ কইরে খেলায় ফেরে আবাহনী। ৫০ মিনিটি আবাহনীর নাইজেরিয়ার খেলোয়াড় সানডে চিজোবার গোলে ১-১ সমতা আনে দলডা। ৭০ মিনিটি আবার গোলের দেখা পায় আবাহনীর হয়ে খেলা নাইজেরিয়ার এই তারকা। ৮২ মিনিটি আবাহনীরে ৩-১ ব্যবধানে আগোয় দেয় কেভন বেলফোট। খেলা তকন পিরায় শেষের দিকি। রিফারি বারবার হাতঘড়ি দেকছেন। কিছুক্ষণের মদ্দি লম্বা বাঁশি বাজায় শেষ কইরে দেবেন। ইরাম সুমায় মাটের মদ্দি যা ঘইটলো তা দেইকে আকাটা মাইরে গিলাম। পেত্তমে শুরু কইল্লো বসুন্ধরা। আবাহনীর সানডে বল নিয়ে আগোয় যাচ্চে গোল কত্তি। তারে সুমকিত্তে একজন আইসে হাটুর মালায় ঘা দিয়ে ফেলে দেলে। এই ঘটনার জেরে জটলা বাইদে গ্যালো। কতা কাটাকাটি আর ঢেক্কাঢেক্কি কত্তি কত্তি বসুন্দরার একজন আইসে আবাহনীর একজনের প্যাটে মাইল্লো লাথি। লাথি খাইয়ে পাটায় পড়লো মাটে। তারে দেকার জন্যি সবাই কাচায় আইয়েচে অমনি দুরিত্তে দৌড়োয় আইসে আবাহনীর একজন যে লাথি মারিল তার ঘাড়ে লাফায় উইটে হাটু দিয়ে ঘা দিয়ে দেলে ফেলায়ে। এর মদ্দি চইল্লো চুরায় ঘা দিয়াদিয়ি। আবাহনীর যে হাটু মাইল্লো তারে আবার বসুন্দরার আরাক জন তাবড়ায় নিয়ে গিলো মারার জন্যি। তকন কিডা কারে ঠেকায়। এক টিকিটি দুই সিনেমা দেকার মতো তকন মাটে এক টিকিটি দুই খেলা দেকার মতো অবস্তা। টিকিট কাইটে ফুটবল খেলা দেকতি আইসে স¹লি ফিরি রেসলিং খেলা দেকতি লাইগলো। ম্যালাক্ষণ চইল্লো এই মারামারি। পরে মাঠে পুলিশ লাইবে সেই গন্ডগোল ঠেকালো। রিফারি আর কি করবে দুই দলতে যে চারজন রেসলিং ট্যাগ টিমি খেলিলো তাগের রাঙা কাড দেকায়ে মাটেত্তে দেলে বাইরো কইরে। বাকি কয় মিনিট দুই দল নয়জন খেললো। আর গোলটোল না হওয়ায় চ্যাম্পিয়ন হইলো আবাহনী।
জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছিলো দুই দলেই, জাতীয় লিগির খেলা স্যানে এই দশা দেইকে ঘাটের বিটিগের মতো কি লজ্জাডাই না পালাম।  
শব্দার্থ
সন্দেয় = সন্ধ্যায়, গাঙ = নদী, চ্যান = গোসল, কত্তি = করতে, ড্যাঙায় = ডাঙ্গায়, ঝমাত




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft