বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান কর্মসূচি
অনুসন্ধান সহজ করেছে তথ্য অধিকার আইন
কাগজ সংবাদ :
Published : Sunday, 9 December, 2018 at 6:21 AM
অনুসন্ধান সহজ করেছে তথ্য অধিকার আইন“দরিদ্র মা’র জন্যে মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান” কর্মসূচি নিয়ে যশোর জেলার আটটি উপজেলায় ভাতাভোগীদের তালিকা সংগ্রহসহ অন্যান্য দলিলপত্র সংগ্রহ করা সহজ ছিলো না। মাঠে নামার বেশ আগে থেকে শুরু হয় গ্রামের কাগজের প্রস্তুতি। কিন্তু অধিকাংশ উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও তাদের অধিনস্তরা বরাবরই তথ্য লুকানোর চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে তথ্য অধিকার আইন। এ আইনে আবেদন করতেই আবার সাথে সাথে তথ্য প্রদান করেছেন অনেক উপজেলা কর্মকর্তা।
২০১৭ সালের নভেম্বরের শুরুতে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাসহ প্রত্যেকটি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরে যোগাযোগ করা হয় ভাতাভোগীদের তালিকা প্রদানের জন্যে। কিন্তু শার্শা ব্যাতিত তালিকা দিতে বেঁকে বসেন যশোর সদর, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, অভয়নগর, বাঘারপাড়া, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা। এ সাতটি উপজেলার মধ্যে ঝিকরগাছা ব্যাতিত বাকি চারটি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে ভাতাভোগীদের তালিকার ফটোকপি চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে ১৬ নভেম্বর আবেদন করা হয়। আবেদন গ্রহণের দিনই চৌগাছা, অভয়নগর ও মণিরামপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ভাতাভোগীদের তালিকা প্রদান করা হয়। বাঘারপাড়া উপজেলা থেকে তথ্য আসে ১৮ নভেম্বর। ঝিকরগাছা উপজেলায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয় ১৯ নভেম্বর। ওই দিনই তথ্য পাওয়া যায়। যশোর সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কমকর্তার কাছে তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয় ২৮ আগস্ট। ওই দপ্তর থেকে তথ্য পাওয়া যায় ৩১ আগস্ট। কেশবপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য চেয়ে প্রথম দফায় আবেদন করা হয় ৫ সেপ্টেম্বর। ওই সময় দায়িত্বে ছিলেন মৌসুমী আক্তার। তার বদলীজনিত কারণে তথ্য প্রাপ্তির বিষয়টি আটকে যায়। কানিজ ফাতেমা শেফা নামে নতুন কর্মকর্তা যোগদান করার পর তথ্য চাইতে গেলে জানানো হয় পূর্বের আবেদনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন আবেদন করতে হবে। বাধ্য হয়ে পুনরায় আবেদন করা হয় ৩০ অক্টোবর। এরপর ২ নভেম্বর তথ্য প্রদান করা হয়। অনুসন্ধান সহজ করেছে তথ্য অধিকার আইন
এদিকে, চৌগাছা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তথ্য প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ ও তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে আইনের বাইরে যাননি। তিনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ভাতাভোগীদের তালিকা প্রদানের ক্ষেত্রে ৪৬ পৃষ্ঠা ফটোকপি বাবদ ৯২টাকা (প্রতি পৃষ্ঠা ২টাকা) গ্রহণ করেন। ওই টাকা তিনি ১-৩৩০১-০০০১-১৮০৭ নম্বর কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক চৌগাছা শাখায় ২১ নভেম্বর জমা দিয়েছেন। তার একটি ফটোকপিও সংগ্রহ করা হয়েছে।
এরপর চলতি বছরের ৮ মে চৌগাছা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা বেগমের কাছে তথ্য অধিকার আইনে আরেকটি আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে ২০১৬-২০১৮ অর্থ বছরের জন্যে “দরিদ্র মা’র জন্যে মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান” কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের তালিকা চূড়ান্তকরণের জন্যে ফুলসারা, ধুলিয়ানী, স্বরুপদাহ ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন থেকে প্রেরিত কমিটির অনুমোদিত কমিটি, উপজেলা কমিটি, ব্যাংকে প্রেরিত অ্যাডভাইজ ও ভাতাভোগীদের আবেদনে সংযুক্ত ডাক্তারী সনদের ফটোকপি চাওয়া হয়। ১০ মে তথ্য প্রদান করা হয়। ৯৫ পৃষ্ঠা ফটোকপি প্রদানে গ্রহণ করা হয় ১শ’ ৯০টাকা।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও শার্শা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো ঝক্কি ঝামেলায় পড়তে হয়নি। তথ্য চাওয়া মাত্রই তারা স্ব-প্রনোদিত হয়ে তথ্য দিয়েছেন। কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী। বরং তাদের বক্তব্য হচ্ছে, ভাতাভোগীদের তালিকাসহ যাবতীয় তথ্য উন্মুক্ত। এ ক্ষেত্রে কোনো লুকোচুরির কিছু নেই। ফলে যে কেউ চাইলেই এসব তথ্য দেয়া যেতেই পারে।



আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft