সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯
আক্কেল চাচার চিঠি (আঞ্চলিক ভাষায় লেখা)
বাইচে থাক যশোর জিলা পরিষদের ভবনডা
Published : Saturday, 19 January, 2019 at 6:10 AM
বাপ মা বুড়োহাড়া হলি বুড়োআশ্রমি দিয়ে দিয়া, জিনুস পত্তর পুরোন হলি বেইচে দিয়া, ঘরদোর পুরোন হলি ভাইঙ্গে দিয়ে নতুন করা গড়া একন চারিদিকি রিয়াজ হয়ে দাড়াচ্চে। অথচ কিচু পুরোনোর সাতে জড়ায় থাকে ভালোবাসা, ইতিহাস আর ঐতিহ্য, থাকে নাড়ির সম্পক্ক। ইচ্চে কল্লিই ভুলে যাওয়া যায় না অনেক কিচু। ইতিহাস ভুলা মানে নিজির অস্তিত্তরে অস্বীকার করা। সুমায়তি মানুস অনেক কিচু মাইনে নিতি চাইনা কিন্তুক অসুমায়তি ফিত্তি হয় সেই অতীতির কাচেই। যিরাম বড় বড় মানুস বাইচে থাকতি হয়তো গাও গিরামে ভুলিও আসেনা কিন্তুক মইরে গেলি ঠিকই মাটি দিয়া হয় বাপ দাদার ভিটেয়। মানসির মন মোমরী কাড না যে ইচ্চে হলিই ফরমেট দিয়ে সব ডাটা মুচে দিলাম। মন সুমায় পালি পুরোনোতেই ফেরবেই। মুনিষিরা কইয়েচেন যে জাতির ইতিহাস নেই সে জাতি নিঃস্ব। যশোর জিলার মানুস হিসেবে আমরা অনেক সম্পদশালী। ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিয়ে আমাগের আছে গৌরোব করার অনেক কিচু। বিটিশ আমলতে শুরু কইরে মহান মুক্তিযুদ্দ আর হালের অনেক কিচুর পেত্তম যশোর। দেশের পেত্তম শত্তুর মুক্ত জিলা যশোরে আচে অনেক প্রাচিন নিদশশন আর স্থাপনা। দুইশ’ বচরের ডিসি বাংলো ভবন, কালেক্টর ভবন আর জিলা পরিষদ ভবন এ সবের অন্যতম। হালি কইরে জানতি পাল্লাম জিলা পরিষদ ভবন ভাইঙ্গে ফেলা হবে। শুনতিচি সেকেনে হরকলি সুবিদেয়ালা বহুতালা আধুনিক ভবন বানানো হবে। যশোর জিলা পরিষদ ভবনডা যুক্ত বাংলার পেত্তম জিলা যশোরের দ্বিতীয়  পোশাসনিক ভবন। এর আগে নতুন কইরে গড়া হয়েচে জিলার পেত্তম কালেক্টরেট ভবন যশোর জিলা রেস্টি অপিস ভবন। ঝুকিপূন্ন অজুহাতে পড়–টে কইরে ফেলায় রাকা হয়েচে পুরোনোডা। ইবার লাগা হয়েচে জিলা পরিষদ ভবনের ঘাড়ে। স্থানীয় পোশাসনিক কাযযোকোরোম চালানোর জন্যি ১৯১৩ সালে এই ভবনডা বানানো হইলো। সেই হিসেবে ভবনডার বয়স একশ’ ছয় বচর। শত বচরের এই ভবনডা ভাঙ্গার সিদ্দান্ত নেচে কত্তিরপক্ক। কোন বুজবাজে এই সিদ্দান্ত নেচেন সিডা তারাই ভালো কতি পারবেন। কিন্তুক বুদ্দিজীবি সুশীল সুমাজ সহ সাধারন মানুস এই সিদ্দান্ত মানতি নারাজ। তাগের সাফ কতা যশোর জিলাবাসী সমৃদ্দ ইতিহাস ঐতিহ্যের অধিকারী। কিন্তুক এসব ইতিহাস ঐতিহ্যেগুলোন রক্কে করার দায়িত্ব যাগের, তাগের অজ্ঞতা, অদূরদশশিতা আর নিজিগের স্বাত্তের কারনে এট্টা এট্টা কইরে ঢংস হইয়ে যাচ্চে। জিলা পরিষদ ভবনডা দরকার হলি সংস্কার কত্তি হবে। মূল নকশা না বদলায়ে সংস্কার কইরে তা ভবিষ্যত পোজম্মরে যশোরের ইতিহাস জানার সুযোগ দিতি হবে। তা না কইরে ভাইঙ্গে দিয়ে নতুন কইরে গড়ার সিদ্দান্তডা হটকারী ছাড়া আর কি হতি পারে। যশোরের ১০ জন বিশিষ্ট সুম্বাদিক বিবৃতি দেচেন এই বিষয়ডা নিয়ে, কাল রাত্তিরি মিটিং কইরেচেন যশোরের সাংস্কৃতিকি সংগটনের নিতারা। যে কইরেই হোক বাচাতি হবে জিলা পরিষদ ভবনডা। এই আওয়াজডা হোক যশোরসহ সারা দেশবাসীর।
শব্দার্থ
বাইচে = বেঁচে, রিয়াজ = রেওয়াজ, হালি = সম্প্রতি, হরকলি = নানাবিধ, ঢংস = ধ্বংস, পোজম্ম = প্রজন্ম



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft