শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২০
আক্কেল চাচার চিঠি (আঞ্চলিক ভাষায় লেখা)
সেরের উপর সুয়া সের !
Published : Wednesday, 30 January, 2019 at 6:39 AM
আগে মানসি শুক্কুরবাররে কইতো জুম্মাবার। একন হালি কইরে এই দিনির নাম চাউর হয়েচে গোস্তবার। শুক্কুরবারে পেত্তেক বাড়ি একন কম বেশী গোস্ত খাওয়ার রিয়াজ চালু হইয়েচে সব জাগায়। শহর বা হাট বাজারের পাশাপাশি একন এলেকার আমতলা, জামতলা, কাঠালতলায়ও গরু ছাগল বা পোল্টি জবোই করা হয়।
আমাগের এক ম্যা’ভাই গ্যালো শুক্কুরবার এলেকার আমতলার এক গরুর গোস্তের দুকানে গিলো। এক সুমায় ছিলো এলেকায় গরু ছাগল জবোই কল্লি আগের দিন বাড়ি বাড়ি যাইয়ে চুতা কইরে আসা হতো কিডা কিডা এ গোস্ত নেবে। এমনও দিন গেচে গোস্ত যে দিনই নিক দাম দেবে ধান উটলি। সে সুমায় গোস্তের দুকানে খতে ফেলায় থুয়ে গেলি ভাগের গোস্ত পাওয়া যাইতো। আর একন সব জাগায় সুনামুখী বাজার। কোন মাল উটলি খদ্দের আগেই হুবড়ি খাইয়ে পড়ে। চোকির পলকে জিনুস বিক্কির সারা। দাম দর নিয়ে ভাবার কোন টাইম নেই। ফেলো কড়ি মাকো তেল। পাল্লাপাল্লি কইরে কিনার কচনে দরদারির কোন জাগা নেই। দোকানদার যে দাম কবে সিডাই শেষ কতা। দামাদামি কত্তি গেলিই মাল আরাক জনের খতেই চলে যায়।
ম্যা’ভাই পুরোন দিনির মানুস। তার দশ জাগা দেইকে দর দাম কইরে কিনার স্বভাব। গ্যালো শুক্কুরবার গোস্তের দুকানে যাতি এট্টু দেরী হওয়ায় গোস্তে টান টান অবস্তা। গোস্ত যট্টুক আচে এক পুয়া কইরে বেচলিও তার চাইতিও হাবাতে খদ্দের বেশী। তাই ঝামেলীতে না যাইয়ে দুকানদারের কাচে যাইয়ে ঝমাত কইরে খতে ফেলায়ে দুই কেজি গোস্তের অডার দেচে। দুকানদার কচ্চে ম্যা’ভাই ৮ শ’ লগত ছাড়া কিন্তুক হবেন না। ম্যা’ভাই কচ্চে ওরে দুবানে। তেবে দুই কেজিতি ৪০ কম রাকসেনে। কমের কতা শুইনে গোস্ত কাটা বন্দ কইরে চোক মুটা কইরে ম্যা’ভাইরে দিকি তাকানো দেইকে ভাই কলে চা পানি খাতি যাইয়ে ৪০ খচ্চা হইয়ে গেচে। কম না নিস আজকের মতো দে, সুমকির দিন পুষায় নিসেনে। তাই শুইনে মুক বেজার কইরেই দুই কেজি গোস্ত খতেই ভরে দেচে। ম্যা’ভাই খুশী হইয়ে বাড়ি যাচ্চে আর মনে মনে কচ্চে এই ৪০ টাকা তোরে আর দিচ্চি। বচর শেষে হালখাতা করিস, তকন দেকা যাবে নে। বিরাট জিতা জিতে গিচি ভাইবে বাড়ি আইসে খতে থুইয়ে গা গোসল ধোবে, ইরাম সুমায় গোস্তয়ালা বাড়ি আইসে হাজির। কচ্চে, ভাই গোস্ত কি রান্দায় চইলে গেচে। ম্যা’ভাই কচ্চে ক্যান? গোস্তয়ালা আমতা আমতা কইরে কচ্চে, না মানে ১০০ গিরামের বাটখারাডা খুইজে পাচ্চিনে, মনে হয় গোস্তের সাথে চইলে আইয়েচে। পরে খইতে তলাশ কইরে গোস্তের মদ্দিতে পাওয়া গ্যালো ১০০ গিরামের বাটখারা। ঘটনাডা হইলো ম্যা’ভাই ৪০ কম দিয়ে ভাইবেচে জিতা। আর ও দিকি গোস্তয়ালা চাপনিতি গোস্তের পাল্লায় ১০০ গিরামের বাটখারা চাপায় দেচে। গোস্ত ২ কেজি হলিও আসলে তা ১ কেজি ৯০০ গিরাম। মানে দুই জনিই জিতা। শুদু হুড়োতাড়া কত্তি যাইয়ে বাটখারাডা নামাতি মনে ছিলো না এই যা।
আগে মনে কত্তাম, এই সব চালাকি মনে হয় গিরামে হয়। একন দেকচি শহরে এর চাইতি বেশী জুরালো। কাল পিপারে পড়লাম ঢাকার বানিজ্য মেলায় বেঙ্গল প্লাস্টিকির ২১০ টাকা দামের জগের উপর ২৩০ টাকার ইস্টিকার লাগায়ে তাতে আবার শতকরা ১০ ভাগ ছাড়ের অফার দিয়ে বিক্কির কচ্চিল। তাই কত্তি যাইয়ে মুবাল কোটে ধরা খায়েচে। আলাম কনে, মলাম যে !




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft