সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আক্কেল চাচার চিঠি (আঞ্চলিক ভাষায় লেখা)
কনতে আইসলো সিঙ্গাড়া
Published : Wednesday, 6 February, 2019 at 6:28 AM
আমাগের দেশে এট্টা জনপিয় খাদ্যের নাম সিঙ্গাড়া। বটতলাত্তে-আটতালা সব জাগায় সিঙ্গাড়ার রইয়েচে অবাদ যাতাযাত। হাট বাজারেত্তে শুরু কইরে বড় বড় হোটেল রেস্তরায় বিক্কির হয় সিঙ্গাড়া। তেবে গরীবির সিঙ্গাড়ার মদ্দি থাকে আলু আর বড়লোকের সিঙ্গাড়ায় থাকে খাসির কইলজে, গরু খাসির গোস্ত, পনির, ক্ষির, কিম্বা দামি সবজি। ইরাম কোন মানুস খুইজে পাওয়া যাবে না যারা জীবনে অন্তত একবার হলিও সিঙ্গারা গালে দিয়ে চাইকে দেকিনি। হালি কইরে মটু পাটলু নামের এট্টা কাটোন গুড়োগাড়া ছেলেপিলের কাচে খুব জনপিয়। এই কাটুনির মূল চরিত্র মটু বিপদে পড়লি এট্টা ডায়লগ দেয়, খালি পেটে দিমাগের বাত্তি জ্বলে না। এই কতা যকন কয় তকন মটুর দোস্ত পাটলু বুদ্দি কইরে তারে গরম গরম সিঙ্গাড়া খাওয়ায় দেয়। ব্যাস সেই সিঙ্গাড়া খাইয়ে মটুর গায় বিশ্বঘাতি পাওয়োর চইলে আসে। তারপর হ্যামন কোন কাজ নেই সে পারে না।
সব জিনুসির ইতিহাস থাকে। কাল পড়তি পড়তি পালাম সিঙ্গাড়ার ইতিহাস। ইতিহাস মানে কনতে আইসলো। ইতিহাসবিদগের মতে, ফারসি শব্দ ‘সংবোসাগ’ থাকেই এই সিঙ্গাড়া শব্দের জম্ম। তাগের দাবি, গজনবী সমরাজ্যে সম্রাটের দরবার বসলি এক ধরনের নুনতা মুচমুচে খাবার খাতি দিয়া হতো। যার মদ্দি থাইকতো কিমা, শুকনো বাদাম জাতীয় নানান কিচু। সেই ‘সংবোসাগ’ ই নাই একনকার সিঙ্গাড়া। তেবে এই দাবি ইরানের ইতিহাসবিদরা মানতি নারাজ। বিখ্যাত ইরানি ইতিহাসবিদ আবুল ফজল বায়হাকির দাবি, ইরানেত্তেই নাই সিঙ্গারা এ দেশে আয়েচে। তার মতে, সিঙ্গাড়ার জম্মস্তান ইরান। আবুল ফজল বায়হাকির ‘তারিখ-এ-বেহাগি’ বইতিই ‘সাম্বোসা’ নামের খাবারের নাম উল্লেক আচে। এ কারনে তার দাবি ইরানের এই ‘সাম্বোসা’ই একনকার সিঙ্গাড়া। ইরানী কবি আমির খসরুর লিকা জুকায়ও সাম্বোসার কতা আচে। ইরানের মাইয়েরা মোগল স¤্রাটগের বউ হইয়ে আসার পর তাগের সাতে সাতে এ সব খাওয়া দাওয়াও উপমহাদেশে চইলে আয়েচে। ইরানের সাম্বোসা ভারতে আইসে হইলো সামোচা। আর আমাগের দেশে উচ্চারণের ফেরে হইয়েচে সিঙ্গাড়া। তেবে য্যানতে আসুক উপমহাদেশে সিঙ্গাড়া আইসে এর স্বাদ আর মাল মেডিসিন বদলায় গেচে। ইতিহাসবিদরা হ্যাও কইয়েচেন, ষোল শতকে পত্তুগালেত্তে পত্তুগিজ ভারতে আসার সুমায় আলু নামের সবজিডা সাথে কইরে নিয়ে আইলো। ব্যাস সেইত্তে সিঙ্গাড়া আর আলু মিলেমিশে একাকার। আলু ছাড়া সিঙ্গাড়া একন ভাবাই যায় না। অনেকেই আচেন, যারা কাজ না থাকলি গবেষুণা করেন সিঙ্গাড়ার মদ্দি আলু গ্যালো কিরাম কইরে। হালি কইরে একন অনেক জাগায় আধলা সাইজির মতো হাম্বুরে সিঙ্গাড়া বানাচ্চে। সাইজ বয়লার কল্লি নাই বসান দিতি যুইত হয় না।
তেবে সিঙ্গাড়ার কতা উটোতিই এক ম্যা’ভাই কলে যত সিঙ্গাড়ায় জীবনে খালাম যশোরের বিডি হলের সুমকি কুলতলা হোটেলের কুটি সিঙ্গাড়ার মতো স্বাদ আর কোনটোয় পালাম না। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft