সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯
জাতীয়
বিহারীদের আবাসনে ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 7 March, 2019 at 4:29 PM
বিহারীদের আবাসনে ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগমুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় আটকে পড়া বিহারীদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে সরকারের ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (০৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত কাউন্সিলরগণের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি কথা জানান।
শপথ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। সঞ্চালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এসএম গোলাম ফারুক।
শেখ হাসিনা বলেন, বিহারীদের আবাসনে ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। ইতোমধ্যে তাদের জন্য জায়গা খুঁজে নিচ্ছি। যেন তারাও একটু ভালোভাবে বসবাস করতে পারে। তারা বসে থেকে নয়, যেন কাজ করে খেতে পারে। তারা যেন কাজ করে তাদের সংসার চালাতে পারে। সেই ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন এখানে অনেক বিহারী আছে, যারা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য পোষণ করেছিল। কিন্তু পাকিস্তান কখনও তাদের নেয়নি। এখন জেনারেশনের পর জেনারেশন- এখন তারা তৃতীয়-চতুর্থ জেনারেশনে এসে গেছে। তাদের জেনেভা ক্যাম্পে যেখানে রাখা হয়েছিল, তারা পরিবার বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু তারা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় জীবন-যাপন করে।
১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার সময় উর্দুভাষী বিহারীরা মুসলিমপ্রধান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বসবাস শুরু করে। কিন্তু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বাঙালিদের দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেলেও এই বিহারীরা পাকিস্তানে ফেরত যেতে পারেনি। ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে আটকে পড়া উর্দুভাষী পাকিস্তানিদের সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি। এদের মধ্যে তিন লাখ এখনো শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করে। তাদের বড় একটি অংশ বাস করে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে।
আটকে পড়া পাকিস্তানিরা ২০০৭ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট করলে পরের বছর হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে উল্লেখ করা হয়, ‘এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী উর্দুভাষী সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।’ পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রণীত বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের খসড়ায় বলা হয়, ‘জন্মসূত্রে যিনি নাগরিক হবেন, তার পিতা মাতাকেও এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করতে হবে। পিতা মাতা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে অথবা বাংলাদেশের শত্রু, এমন দেশের প্রতি আনুগত্য দেখালে, তাদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবে না।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বস্তিবাসীদের মানবেতর জীবন-যাপন থেকে মুক্তি দিতে তাদের জন্য ফ্ল্যাট বাসায় আবাসনের জন্য ইতোমধ্যে নেওয়া প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন।
ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মতো ডিএনসিসির কর্মীদের আবাসনে ভবন নির্মাণ করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের (দক্ষিণ সিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মী) চারটি মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং হয়ে গেছে। মোট ১৩টা বিল্ডিং হবে। সেইসঙ্গে উত্তরে যারা পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য এ ধরনের বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট বাসা করার পরিকল্পনা আমাদের আছে।
জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে ভোট দিয়েছেন সেই বিশ্বাসের মর্যাদা আপনারা রাখবেন। সেটাই চাই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসি’র মেয়র পদে, দু’টি ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন ও নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচন ও ডিএসসিসি’র নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft