বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯
সারাদেশ
চট্টগ্রামে পাটকল শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ
মুহাম্মদ দিদা্রুল আলম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
Published : Tuesday, 2 April, 2019 at 2:58 PM
চট্টগ্রামে পাটকল শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভপাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, মজুরি কমিশন কার্যকরসহ ৯ দফা দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন আমিন জুটমিলের শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর আতুরার ডিপু এলাকায় তারা ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন। এসময় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের ডাক দেন পাটকল শ্রমিকরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। বুধবার ও পরশু বৃহস্পতিবারও অবরোধ পালন করা হবে বলে তারা ঘোষণা দেন।
এদিকে শ্রমিক অবরোধের কারণে  সকাল থেকে মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন রোডে যানচলাচল বন্ধ ছিল।
আমিন জুট মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আরিফুল রহমান বলেন, ‘মোট পাঁচ স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য মজুরি কমিশন ২০১৫ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি স্তরে মজুরি কমিশন ২০১৫ বাস্তবায়িত হয়েছে। শুধু কারখানা শ্রমিকদের জন্য এখনও এই স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়নি৷ এটা আমাদের শ্রমিকদের প্রতি অন্যায় আচরণ। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করছি। আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো অবশ্যই মেনে নিতে হবে।’
শ্রমিকরা আরো জানান, বিগত চার বছর ধরে বিজেএমসি মজুরি কমিশনসহ শ্রমিকদের দাবি পূরণের কথা বললেও তা বাস্তবায়ন করেনি। এছাড়া বকেয়া মজুরি, পিএফ’র টাকা প্রদান ও বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে দাবি আদায়ে অবরোধ-ধর্মঘটের কর্মসূচি দেওয়া হয়। পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের ৮ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মচারীদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। আর্থিক সঙ্কটে কাঁচা পাট কিনতে না পারায়, পাটকলগুলোতে উৎপাদনে ধস নেমেছে। এর মধ্যে বিজেএমসি ২৮ মার্চের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু দাবি না মানায় বাধ্য হয়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে শ্রমিকরা।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সীতাকুণ্ড উপজেলার হাফিজ জুট মিলস, গুল আহম্মদ জুট মিলস, আর আর জুট মিল গালফ্রা হাবিব এবং এম.এম জুট মিলস এর হাজার হাজার শ্রমিকরা সকাল ৮টা থেকে ৪ ঘণ্টা সড়কপথ ও অবরোধের ঘোষণা করলেও প্রশাসনের আশ্বাসে সীতাকুণ্ডের হাফিজ জুট মিলস এলাকায় একঘন্টা পর শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়। অবরোধ চলাকালে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া পাহারিকা এক্সপ্রেস আটকা পড়ে।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে অবরোধ শুরু হলে অবরোধের স্থানে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়, এএসপি সীতাকুণ্ড সার্কেল শম্পা রানী সাহা, সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আহসান হাবীব, ফৌজদার হাট পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট রফিক আহমেদ মজুমদারসহ আইন শৃংখলার বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ। এসময় প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ স্থগিত করেন।
৯ দফা দাবির অন্যান্য দাবিগুলো হলো গ্র্যাচুইটি, পিএফ ফান্ডের টাকা দেওয়া, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, অবসর শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ। এই ৯ দফা দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২, ৩, ৪ এপ্রিল মোট ৩ দিন সারাদেশে সড়ক ও রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন কারখানা শ্রমিকরা।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft