রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯
আক্কেল চাচার চিঠি (আঞ্চলিক ভাষায় লেখা)
বৈশেকের পোস্তুতি, পচা মিস্টি মজুদ!
Published : Wednesday, 3 April, 2019 at 6:03 AM
এপ্রিল মাস পইড়ে গেচে। ইংরেজি এপ্রিল মানে বাংলায় চৈত মাস। সুমকি চইলে আসচে বৈশেক। ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশেক। বৈশেকরে বরন কইরে নিতি চলচে নানান পোস্তুতি। সাংস্কৃতিক সংগটনতে শুরু কইরে পোশাসন পযযন্ত বৈশেকের জন্যি হরকোলি আয়োজন কত্তেচে। পুষাক আশাক খাওয়া দাওয়া সাজা গুজা মঙ্গল শুভাযাত্তারা নিয়ে কতজনের মাতার ঘাম পা’র তলায় চইলে যাচ্চে। কারণ বৈশেক বাঙালীর সার্বজনীন উসসব। শুনিচি বৈশেকে ঈদ পুজো কিম্বা বড়দিনির চাইতে বেশী বিক্কির বাট্টা হয় আমাগের দেশে। সে কারনে সবারই আলাদা আলাদা পরিকল্পনা থাকে বৈশেক বরনরে ঘিরে।
কাল পিপারে পড়লাম আরাক পোস্তুতির কতা। বৈশেকে বেচপে বিলে মিয়াদ চইলে যাওয়া মিস্টি কোলস্টোরে মজুদ কইরে রাকিল কিচু অসৎ ব্যবসায়ী। কাল তা মবিলকোটে ঘের খাইয়েচে। কৃষি মুন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপরেশনের (বিএডিসি) সবজি ও মাছ রাকা কোলস্টোরে মবিল কোটের অভিযান চালাইলো র‌্যাব। অভিযানে মিয়াদ চইলে যাওয়া ৩৪৫ মন গোস্ত আর ১১০ মন মিষ্টি জব্দ কইরেচে। সোমবার বিকেলে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সারওয়ার আলম চাচার নেতৃত্বে বিএডিসির কোলস্টোরে অভিযানডা শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১১টা পযযন্ত। অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী মাজিস্টেট সারওয়ার আলম চাচা কইয়েচেন অভিযানে মিয়াদ চইলে যাওয়া গোস্ত আর পচা মিষ্টি পাওয়া গেছে। মিষ্টিগুলো আরো দিন ১৫ আগে বানায় রাইকে দিলো পয়লা বৈশেকে বেচার জন্যি। অভিযানে আলীবাবা সুইটসহ পাচ পোতিষ্টানরে ৪১ লাখ টাকা জরিপানা করা হয়েছে। বিএডিসির কোলস্টোরে গোস্ত ও মিস্টি রাকার বিদান না থাকলিও কি কইরে রাকা হলো তার কোন উত্তর বাত্তার দিতি পারিনি কোলস্টোর কত্তিরপক্ক। মবিলকোটে এ বিষয়ে জানতি চালি বালিশ চালাচালি খেলার মতো এ ওর ঘাড়ে দোষ চাপায় দিয়ার চিস্টা দেচে। যে কারনে মোবিল কোট বিএডিসির কোলস্টোরের দায়িত্ব পিরাপ্ত কম্মকত্তাগের বিরুদ্দে ব্যবস্তা নিতি নিদ্দেশ দেচে।
ইডাতো মাত্তর এট্টা অভিযান। আরো কত জাগায় যে ইরাম কত ধান্দা ভুকচি মাইরে আচে আল্লায় জানে! দিন দিন মানুসির নীতি নৈতিকতা কনে চইলে যাচ্চে কওদিনি বাপু! আমাগের সুমায় বৈশেকে এত আনজাম না হলিও গিরামের গাঙের কান্দায় বটতলায় যে বৈশেকে মেলা হইতো স্যানে কত পদের মিস্টির পসার বসতো। ময়রারা সারারাত জাইগে মিস্টি বানানোর পোস্তুতি নিতো। বিয়ান বেলাত্তে মিস্টি গড়ার ধুম পইড়ে যাইতো। শুকনো মিস্টি আগের রাত্তিরি বানালিও ভিজে আর গরম মিস্টি জাগায় বানানো হইতো। গরম জিলেপী, পানতুয়া আর রসগুল্লার স্বাদ যেন জিবেয় একনও লাইগে আচে। আর একন কিচু খালিও জিবেয় স্বাদ পাইনে।
তুমাগের চাচী খালি দোষ দিতো, পান খাইয়ে জিবে আড়ায় ফেলিচি, তাই কোন জিনুসির স্বাদ পাইনে আগের মতো। কিন্তুক একন দেকচি বিষয়ডা তা না। ইরাম মিয়াদ চইলে যাওয়া মাল যদি জিবেয় পড়ে তালি জিবের কি দোষ? দিন দিন দেশ আগোয় যাচ্চে। খালি পাছোয় যাচ্চে মানুস আর মানুসির নীতি। আলাম কনে, মলাম যে!



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft