বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে দুই ছাত্রীকে ফেল করানোর হুমকি শিক্ষকের
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :
Published : Friday, 5 April, 2019 at 8:11 PM
কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে দুই ছাত্রীকে ফেল করানোর হুমকি শিক্ষকেরগোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মো. আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষক থিসিসের কথা বলে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই দুই ছাত্রী বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত বছর নভেম্বরে আরেকটি অভিযোগ এসেছিল এবং তখন সেই শিক্ষককে মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন।
লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রীরা জানান, সিএসই বিভাগের শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রতি ব্যাচকে চতুর্থ বর্ষে থিসিস করতে হয়। সে অনুযায়ী সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আক্কাস আলী আমাদের সুপারভাইজার হন। তার তত্ত্বাবধানে আমরা তিন ছাত্রী মিলে একটি গ্রুপ গঠন করে কাজ শুরু করি। থিসিসের কথা বলে ওই শিক্ষক আমাদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করেছেন। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে ফেল করিয়ে দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন। এ অবস্থায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি।
এক ছাত্রী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ওই শিক্ষক আক্কাস আলী তাকে থিসিসে কাজ আছে বলে একা বিভাগে ডেকে নিয়ে যান। পরে সেখানে তিনি তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন। এতে বাধা দিলে ওই শিক্ষক তাকে ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। আর রাজি হলে থিসিসে নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন। এ অবস্থায় তিনি কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পরে তিনি বিভাগের শিক্ষকদের কাছে এ বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। শিক্ষকদের পরামর্শে তিনি বিভাগীয় প্রধানের যৌন হয়রানির বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। অপর ছাত্রীও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করেন।
এ ঘটনা গত ২৫ জানুয়ারির এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি এবং তার বিভাগের আরেক ভিকটিম বিভাগে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রায় দুই মাস পরেও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা।
এক ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, তার মেয়ের কাছ থেকে ওই শিক্ষকের যৌন হয়রানির বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ভিসির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। তবে বারবার চেষ্টা করেও তিনি ভিসির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। উপরন্তু ভিসি তার অধীনস্থদের দিয়ে জানিয়ে দেন তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন। তবে অভিযোগের এক মাস পেরিয়ে গেলেও যৌন নিপীড়ক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এদিকে তার মেয়ে ওই ঘটনার পর থেকে ফলাফল নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক টেনশনে রয়েছে। তিনি যৌন নিপীড়ক ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, ঘটনা সমাধানে দায়িত্ব নিয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ফাতেমা খাতুন ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনও তদন্তের বিষয় সম্পর্কে তিনি জানেন না। এই ঘটনার বিষয়ে তিনি অবহিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না আমার জানা নেই।’
প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভূইয়া বলেন, তিনি এমন কোনও অভিযোগের বিষয়ে জানেন না।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আক্কাস আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিভাগের এক শিক্ষক এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলছেন, গত নভেম্বরে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তিনি পেয়েছিলেন এবং মৌখিকভাবে সেই শিক্ষককে সতর্ক করার পাশাপাশি তিনি যেন আর কোনও নারী শিক্ষার্থীকে সুপারভাইজ করার সুযোগ না পান সেটিও নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মাসের কোনও অভিযোগ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি, আমি নানাভাবে ঘটনাটি আজকে জানতে পারছি, কিন্তু কোনও অভিযোগ আসেনি আমার কাছে। নভেম্বরে একটি ঘটনা ঘটেছিল এবং মেয়েটি তার পরীক্ষায় পাস করা নিয়ে শঙ্কা জানানোর পর আমি ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ রক্ষায় ঘটনাটি যেন জানাজানি না হয় সে বিষয়েও সতর্ক ছিলাম।’
এরকম ঘটনায় মৌখিক সতর্ক করা যথেষ্ট কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সবার সামনে বলে দিয়েছি কোনও সুপারভাইজ করতে পারবে না। এরপর কিছু ঘটলে তার চেয়ারম্যানশিপ থাকবে না বা পড়াতে পারবে না সহ অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তো আছে। মেয়েদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনও কাজে থাকবে না। ’
দিনের বেলা ক্লাস চলে যখন সে সময় ছাড়া অফিসে মেয়েদের আসতে নিষেধ করা হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অফ টাইমে কোনো শিক্ষক আসতে বললে তারা আসতে বাধ্য না, কেউ বাধ্য করলে যেন জানায়। ফেব্রুয়ারিতে কোনও অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। এরা নতুন করে কী করেছে সেটা আমি বলতে পারব না। হয়তো তারা অফিসিয়াল অভিযোগ না করে ফেসবুকেই স্ট্যাটাস দিয়েছে। আমাদের নলেজে আসলে সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করি।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft