বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯
অর্থকড়ি
সুন্দরবনে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কেটে খুশীতে বাড়ি ফিরেছে বাওয়ালীরা
লক্ষ্যমাত্রার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫শ’ ৬১ মণ গোলপাতা সংগ্রহ
শেখ মনিরুজ্জামান মনু, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি :
Published : Monday, 8 April, 2019 at 6:34 AM
সুন্দরবনে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কেটে খুশীতে বাড়ি ফিরেছে বাওয়ালীরাসুন্দরবন থেকে গোলপাতা আহরণ মৌসুম শেষ হয়েছে। কোন প্রকার হয়রানী ছাড়াই গোলপাতা কেটে বাড়ি ফিরে বাওয়ালীরা এখন বিক্রির কাজে মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের সন্দেহ ছিল। বনের ২টি কূপে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকায় ছিল বন বিভাগ। সেই আশংকা থেকে বের হয়ে তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তবে সুন্দরবনে এবার ভালভাবে গোলপাতা কাটতে পেরে বেজায় খুশি বাওয়ালীরা। কোন সমস্যায় না পড়ে নির্বিঘেœ তারা গোলপাতা কেটে ফিরে খুশীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এখন তাদের ব্যস্ততা গোলপাতা বিক্রি নিয়ে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, গোলপাতা আহরণের ভরা মৌসুমে এবার বাওয়ালীদের বিএলসি (অনুমতি) দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই কঠোর ছিল বনবিভাগ। ফলে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা সংকটে বাওয়ালীরা খানিকটা দেরিতে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের ২টি কূপ (জোন) থেকে গোলপাতা কাটার অনুমতি গ্রহণ করে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এরপরে তারা বনে গিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে গোলপাতা কাটতে পেরেছে। এ ওপর নির্ভরশীল কয়রা অঞ্চলের কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ।
এ বিষয়ে খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) আবু সালেহ বলেন, বাওয়ালীরা যাতে বন অভ্যন্তরে নির্বিঘেœ গোলপাতা কাটতে পারে, তার জন্য বনবিভাগ থেকে বরাবরের মত এবারও কঠোর নিরাপত্তা নেয়া হয়। চলতি বছর সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জে কুপে গোলপাতা সংগ্রহের জন্য ২৭৪টি বিএলসির অনুকূলে বাওয়ালিরা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫শ’ ৬১ মণ গোলপাতা সংগ্রহ করার অনুমতি (পারমিট)  নিয়েছিল। তবে বন বিভাগের কঠোর নজরদারির কারনে কোন প্রকার ঠেসপাতা, মাইজপাতা নষ্ট না করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা কেটে বাড়ি ফিরেছে বাওলীরা। সুন্দরবন খুলনা বিভাগের বনপ্রহরী কল্যাণ সমিতির সভাপতি অলিয়ার রহমান মিলন বলেন, গত ২৪ জানুয়ারি থেকে এ সকল বিএলসির অনুকুলে পারমিট দেয়া শুরু হয় এবং গোলপাতা আহরণ মৌসুম ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলে। তবে প্রথমে ধারণা করা হয় এবার ব্যবসায়ীদের আগ্রহ না থাকায় শুরুতেই গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কিনা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পুরন হওয়ায় বন বিভাগও খুশি। খুলনা গোলপাতার কূপ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ হাওলাদার বলেন, নিয়ম মেনেই গোলপাতা আহরণের অনুমতি দেয়া হয়। আর আমাদের নিয়ম মেনে বাওয়ালীরা এ বছর গোলপাতা কাটার কারণে তারা লাভবান হয়েছে।
বন বিভাগের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বরাবরের মতো এবারো গোলপাতা আহরণের ক্ষেত্রে বাওয়ালীদের বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ৫শ’ মণের বেশি ধারণ ক্ষমতার নৌকা বিএলসির বাইরে থাকবে। গোলপাতা আহরণের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় বনে অবস্থান করা যাবে না। আহরণের সময় বনবিভাগের নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। গোলপাতা ঝাঁড়ের মাইজপাতা ও ঠেকপাতা কোনোভাবেই কাটা যাবে না এবং গোলপাতার আঁড়ালে যাতে কোনো ধরণের ‘বনজদ্রব্য পাচার না হয় সে বিষয়টি নিবিঢ়ভাবে নীরিক্ষণ পূর্বক নিশ্চিত করতে হবে।
সুন্দরবন উপকূলীয় কয়রা উপজেলার সুতির খালধার এলাকার বাওয়ালী নুর ইসলাম সানা জানান, ২০ বছর ধরে তিনি সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বন বিভাগের এবারকার মতো কড়াকড়ি আগে কখনও তিনি দেখেননি। একই উপজেলার খুচরা গোলপাতা ব্যবসায়ী সোলায়মান হাওলাদার বলেন, আগের মত এখন আর গোলপাতার চাহিদা নেই। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক খুচরা বিক্রেতাদের গেল বছরের গোলপাতা এখনো রয়ে গেছে। তবে বাওয়ালীদের অনেকে বলেন, গোলপাতায় যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করতে হয়, সে তুলনায় ব্যবসা হয় না। তাই বাওয়ালীদের সহজ শর্তে আগের মত এখন আর টাকা লগ্নি করতে চান না সংশ্লিষ্ট মহাজনরা। এত কিছুর পরেও বাপ দাদার ব্যবসা ধরে রাখতে চেষ্ঠা করছেন এর সাথে সংশ্লিষ্টরা।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বশিরুল আল-মামুন জানান, সুন্দরবনের উপর থেকে অব্যাহত চাপ কমাতে বনজদ্রব্য আহরণ সীমিত করা হয়েছে। তিনি এ বছর প্রতিটি স্টেশনে ও কূপে নিয়মিত তদারকি করে বিএলসি নবায়ন করার অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি কূপে বিএলসির সাথে সংশ্লিষ্ট নৌকার মিল রেখে গোলপাতা কাটার নির্দেশনা দেয়া হয়। এক্ষেত্রে কেউ যাতে মলম বাণিজ্য করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারি রাখার কথা বলেন তিনি। তবে গোলপাতা সম্পর্কে কোন অভিযোগ ছাড়াই শেষ হয়েছে গোলপাতা মৌসুম বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft