বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২০
শিক্ষা বার্তা
প্রাথমিক শিক্ষা ও কিছুকথা
রমেশ চন্দ্র সরকার :
Published : Wednesday, 24 April, 2019 at 5:34 PM
প্রাথমিক শিক্ষা ও কিছুকথাদেশে হাজার কোটি টাকা পাচার হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুদক কেন? সংবাদটি আমার অনেক বন্ধু  বেশ জোর দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। বিষয়টি আমার দৃষ্টি গোচর হয় এবং বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করি। আমার জানামতে, দেশে প্রায় ৬৪ হাজারের মতো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যমান। যার প্রায় সবগুলোতে আছে সুউচ্চ ভবন,প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বিস্তৃত খেলারমাঠ,পর্যাপ্ত শিক্ষাপোকরন , প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও উচ্চ শিক্ষিত দক্ষ শিক্ষক মন্ডলী।
পক্ষান্তরে দেশে বিভিন্ন তথ্যমতে, প্রায় ৭০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখিত সুযোগ সুবিধার গুলোর কোনটিই নেই। যদিও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে বিতর্কিত  কারিকুলাম, তথাকথিত শিক্ষাবিদের রচিত পাঠ্যপুস্তক ও চাপ প্রয়োগ করে পড়ানোর। তার পরও কি কারনে শিক্ষার্থীরা  সেদিকে ছুটছে তা ভাবনার বিষয়। এভাবে  চলতে থাকলে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে একদিন শিক্ষার্থী শুন্য হবে। এ কথা বলা বাহুল্য যে,শিক্ষার্থীদের মাঝে খাদ্য ও উপবৃত্তি প্রদান করা না হলে  শিক্ষার্থীর সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে  তা ভাবনার বিষয়। হয়তো এ নিয়ে সরকার ভাবতে শুরু করছে। প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে শিক্ষার শুধু প্রাথমিক স্তরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে এত গুলো কিন্ডারগার্টেনের মতো  বিকল্প প্রতিষ্ঠান তৈরী  হলো কেন? এর উত্তরে বেরিয়ে এলো নানান সমস্যা (শিক্ষকস্বল্পতা,বেতন বৈষম্য, পাঠদানের বাহিরে কাজ) ও কতিপয়  শিক্ষকের  কর্তব্যের অবহেলার  কথা। এখন আর আগের মত অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘন্টা বেজে ক্লাসে যাওয়া হয় না। প্রিয় পাঠক,প্রাথমিক শিক্ষার এই যখন অবস্থা তখন নগণ্য হলেও সত্যি যে এখনো কোনো কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাফল্যের সিঁড়ি বেঁয়ে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের আর্থিক দূর্নীতি গুলো হয়তো একদিন কাঁটিয়ে উঠা সম্ভব হবে। কিন্তু শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে দূর্নীতি হলে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়। কারন  প্রজন্ম কখনো থেমে থাকে না। তাই আগে চাই শিক্ষা। জনগণ সুশিক্ষিত হলে দেশে দূর্নীতি কমবে। তাই হয়তো সরকার গাছের গোড়ায়  আগে জল দেওয়া শুরু হয়ছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারের যে ভাবনা (যা ইতিমধ্যে পত্রিকায় প্রকাশিত) তা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবক সবার জন্য সুখকর। এ মতামত আমার একান্ত নিজস্ব। ধন্যবাদ।
লেখকঃ রমেশ চন্দ্র সরকার (শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট) 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft