বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০
শিক্ষা বার্তা
ভিসির পদত্যাগ দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে
বরিশাল সংবাদদাতা :
Published : Wednesday, 24 April, 2019 at 6:04 PM
ভিসির পদত্যাগ দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনেউপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বুধবার (২৪ এপ্রিল) থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম আজ সকাল ১০টার দিকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে এই কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া আমাদের আর উপায় ছিল না। আমাদের কর্মসূচিতে কয়েকজন শিক্ষকও অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। ১০টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও একটু দেরি হচ্ছে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি তা শুরু করতে পারব।
উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ২৬ মার্চ থেকে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছে শিক্ষক সমিতির একাংশ।
সরকারি ছুটি ও শবে বরাতের জন্য দুদিন কর্মসূচি স্থগিত থাকার পর গতকাল সকাল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আবারও আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক সমিতির একাংশও এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গতকাল তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হক গত রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও নিজেদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাঁদের একাডেমিক কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে উপাচার্যের লিখিত বিবৃতি এবং আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এ আবেদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে উপাচার্য বলেন, ‘১৮ এপ্রিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ব্যানারে হাতেগোনা ও চিহ্নিত কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী মানববন্ধন করেছেন। যেখানে তাঁরা আমার (উপাচার্য) পদত্যাগ দাবি করেন। ইতিপূর্বে চিহ্নিত কিছু শিক্ষার্থী একই দাবি করে আসছিল। কিন্তু আমার মেয়াদকালের শেষ সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থসিদ্ধির জন্য চিহ্নিত গোষ্ঠী আমার পদত্যাগের দাবিতে প্রায় এক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারগুলোতে তালা লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে অবৈধভাবে ব্যাহত করে আসছে। এই অহেতুক আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা এক কল্পিত সন্ত্রাসের ভয়ে ভীত হয়ে এর প্রতিবাদ করে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসছে না। এ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণ অবশ্যম্ভাবী, অন্যথায় দক্ষিণ বাংলার এই বাতিঘরের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।’
উপাচার্য বলেন, ‘যারা মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্যোগ নিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্যেই আমি বক্তব্য রেখেছিলাম। সেই বক্তব্যে কেউ আহত হয়ে থাকলে তাদের উদ্দেশ্যে দুঃখ প্রকাশও করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি, কোনো এক অদৃশ্য ও অশুভ শক্তির প্ররোচনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় তা এত দূর গড়িয়েছে। দুঃখ প্রকাশের পরও কেন এই আন্দোলন? কেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে?’ তাঁর মতে, এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ৫ শতাংশের বেশি হবে না। এরা কার স্বার্থ হাসিলে বাকি ৯৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস করার জন্য নেমেছে—এ প্রশ্নও রাখেন উপাচার্য।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘পরবর্তী কর্মদিবসে তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসো। তোমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্লাসে যাও। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে তোমাদের শিক্ষাজীবন জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তিনি বরিশালের বিদ্যোৎসাহী, শিক্ষানুরাগী, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্টজনসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি লোকমান হোসেন বলেন, ‘উপাচার্য লিখিত আবেদনে বলেছেন, ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর আন্দোলন এটি, বাকিরা নাকি তাঁর পক্ষে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। যদি তা–ই হয়, তাহলে তিনি কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন না?’ তাঁরা বলেন, বিগত ৩ বছর ১০ মাসে তিনি (উপাচার্য) শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছেন। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউ ক্লাসে ফিরে যাবেন না এবং তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বরিশাল নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত চা-চক্র অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার প্রতিবাদে ওই দিন সকাল থেকেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ওই অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন। পরে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর প্রতিবাদে ২৭ মার্চ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২৯ মার্চ উপাচার্য তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি দেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাজনৈতিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকে হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই দিনই তা প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে অনড় থাকেন।
উপাচার্য এস এম ইমামুল হকের চার বছরের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৭ মে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft