রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কেশবপুরের বুড়িভদ্রা খনন ৩০ ভূমিহীন পরিবার যাবে কোথায়?
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
Published : Friday, 26 April, 2019 at 6:08 AM
কেশবপুরের বুড়িভদ্রা খনন ৩০ ভূমিহীন পরিবার যাবে কোথায়?কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ব্রিজের নিচে জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে বসবাস ৩০ ভূমিহীন পরিবারের। সম্প্রতি বুড়িভদ্রা নদীর খনন কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে উচ্ছেদ আতঙ্কে মানবেতর জীবনযাপন করছে এ পরিবারগুলো। লিলি বেগমের দু’ ছেলে মেয়ে স্কুলে পড়াশুনা করে। স্বামীর ভ্যান চালানোর যৎসামান্য আয়ে চলে তাদের চার জনের সংসার। বহু আগেই হারিয়েছেন বাস্তুভিটা। এক খন্ড সরকারি খাস জমি পাওয়ার আশায় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। প্রায় তিন যুগ ধরে বসবাস করছেন ব্রিজের নিচে। বর্তমানে উচ্ছেদ আতঙ্কে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে তার। শুধু লিলি বেগমের পরিবার নয়। তাঁর মতো আরও অন্তত ৩০ পরিবারে শতাধিক মানুষ রয়েছে অজানা উচ্ছেদ আতঙ্কে। কেশবপুর সদর ইউনিয়নের আলতাপোল গ্রামের বাসিন্দা ভূমিহীন আজিজুর রহমান, লিলি বেগম, শহিদুল ইসলাম, ফতেমা বেগম, আসাদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সিরাজ সরদারসহ ৩০টি ভূমিহীন পরিবারের মাথা গোজার ঠাঁই না থাকায় বাধ্য হয়ে ব্রিজের নিচে  বসবাস করে আসছিল। ৩০ বছর আগে তাঁরা মাথা গোজার ঠিকানা পান মঙ্গলকোট ব্রিজের নিচে বুড়িভদ্রা নদীর চরে। সেখানে ব্রিজের নিচে ও দু’পাশে একে একে ছোট ছোট টোংঘর বেঁধে কোনো মতে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিয়েছিলেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভ্যান চালানো ও দিনমজুরের টাকায় চলে পরিবারগুলোর সংসার। প্রতিদিনের ন্যায় সকালে পুরুষেরা কেউ যায় ভ্যান চালাতে আবার কেউ যায় পরের ক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করতে। একদিন কাজ না হলে তাদের অর্ধাহারে অনাহারে জীবনযাপন করতে হয়। সকাল হলেই এসব পরিবারের মহিলারা যান সংসারের রান্না-বান্নার কাঠ খোঁজার সন্ধানে। শত অভাবের পরও তারা ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া চালাতে পিছপা হন না। তাদের কোনো চাহিদা নেই। শুধু একটিই আকুতি মাথা গোঁজার এক খন্ড জমি। এই জমির আশায় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিক বার আবেদন করেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি সেই কাঙ্খিত দাবিটি অপূর্ণই রয়ে গেছে।  
ব্রিজের নিচে বসবাসকারী বিধবা রাবেয়া বেগম জানান, আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে থাকি। কিন্তু আমাদের খবর কেউ রাখে না। তাছাড়া আমরা দখলদার নই, এই পৃথিবীতে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই বলেই ওই স্থানে বাধ্য হয়ে থাকতে হয়। এক মাস আগে থেকে বুড়িভদ্রা নদীর খনন কাজ শুরু হয়েছে। নদী খননের মাটি রাখলে তাদের উঠে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কিন্তু কোথায় থাকবো, কিভাবে ছেলে মেয়েদের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেব এনিয়ে তার রাতে ঘুম হয় না। আমিসহ এখানকার পরিবারগুলো বর্তমান উচ্ছেদ আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে।      
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য গৌতম রায় জানান, ওই ৩০ ভূমিহীন পরিবার বুড়িভদ্রা নদীর চরে বসবাস করে। পাশের আশ্রয়ন প্রকল্পে ৮০টি পরিবার বসবাস করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এর অবকাঠামো ধ্বংসের পথে। আশ্রয়ন প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধিসহ পুনঃসংস্কার করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে। নতুন ঘর বরাদ্দের জন্যে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান জানান, তারা ওই নদীর তীরের জমি অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করছে। আমার হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরকারি জমি নেই। যেটুকু আছে তা ফকিরদের পুনর্বাসনের জন্যে রাখা হয়েছে। তাদের বসবাসের জন্যে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটা উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দেখা হবে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft