সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
জাতীয়
গঙ্গার পানি নিয়ে সাত বছরের মধ্যে নতুন চুক্তি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক :
Published : Saturday, 27 April, 2019 at 8:19 PM
গঙ্গার পানি নিয়ে সাত বছরের মধ্যে নতুন চুক্তি : পররাষ্ট্রমন্ত্রীগঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি চুক্তি সই করে বাংলাদেশ ও ভারত। আগামী সাত বছরের মধ্যে আবার দর কষাকষি করে নতুন চুক্তি করতে হবে দুই দেশকে। এটি একটি ক্রিটিক্যাল টাইম।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমি সুগন্ধায় ‘ওয়াটার ডিপ্লোম্যাসি’ নিয়ে আট দিনব্যাপী সার্টিফিকেট কোর্সের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে অবস্থা আছে সেটি চলমান থাকেলে ভালো। আমি যখন ভারতে গিয়েছিলাম তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। এসময় তারা বলেছেন তারা বাকি নদীগুলোর সমস্যার বিষয়েও নীতিগতভাবে সম্মত এবং এটি এই অববাহিকার উপকারের জন্য হবে।
নদীর পানি বন্টন ইস্যুতে উভয় দেশের মানসিক অবস্থান একই রকম, তবে এখন কিছুটা দেন দরবার চলছে বলে তিনি জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি থাকার সময়ে তিনি সুমদ্রসীমার বিরোধ সংক্রান্ত মামলায় ভূমিকা পালন করেন।
আব্দুল মোমেন বলেন, শেখ হাসিনা না হলে সুমদ্রসীমা জয় হতো না। আমার নিজের কথা বলি। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে আমার ওপর দায়দায়িত্ব ছিল একটি আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান অনেক টাকা চায়। আমি যেদিন সই করতে গেলাম সেদিন আমার মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হলো, এতগুলো টাকা দেব, আবার মামলায় জিতবো কিনা।
মন্ত্রী বলেন, আমি নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। নেত্রী বললেন, আপনি বিসমিল্লাহ বলে সই করে দেন, সব ক্ষেত্রে রিস্ক নিতে হয়। এরপরে আমি আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করলাম।
বাংলাদেশে বিদেশি তেল কোম্পানি না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশি কোম্পানিগুলি হঠাৎ করে বিনিয়োগ করে না। বিনিয়োগের আগে তারা অনেক কিছু তারা বিবেচনা করে। আমি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বিশেষ করে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুমদ্র বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী, তারা এখানে কাজ করতে চায়।
আব্দুল মোমেন বলেন, চুক্তির দর কষাকষিতে আমরা মনে হয় কিছুটা দুর্বল আছি। একটা কোর্স মনে হয় চালু করা উচিত কন্ট্রাক্ট নেগোসিয়েশনে কীভাবে পরিপক্কতা অর্জন করা যায়।
এর আগে কোর্সের উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আমরা যখন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করি আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। আমরা নদীর অববাহিকার বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম এবং এটা তুলে ধরতে অনেক কষ্ট হয়েছিল। কারণ আমাদের প্রতিবেশী এটা চায়নি। আমরা চেয়েছিলাম উজান ও ভাটির দেশের ক্ষেত্রে অববাহিকা ব্যবস্থাপনায় সমান অধিকার থাকবে। কিন্তু ওরা চাচ্ছিলেন এটার ওপর এককভাবে তাদের অধিকার থাকবে। আমাদের তখন জ্ঞানেরও অভাব ছিল। ইউরোপের রাইন নদীর তীরবর্তী দেশগুলো এবং আফ্রিকার নীল নদের দেশগুলোর কাছে গেলাম এবং জানতে চাইলাম তারা কীভাবে করে। তারা বললো তারা সবাই মিলে এটি ঠিক করে। কোনও একক দেশের এটি ক্ষমতা নেই।
৭০ এর দশকে বাংলাদেশে যখন সামরিক সরকার ছিল তখন গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে বেশ সমস্যা হয় বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, তখন একটি সামরিক সরকার ছিল দেশে। আমার মনে হয় সেটি ১৯৭৭ সাল। তখন সেই সরকার ঠিক করলো তারা গঙ্গা পানি চুক্তি বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করবে। সে সময়ে আমরা যারা শিক্ষকতা করতাম তারা বলেছিলাম এই বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে গেলে এটি খুব ভালো কাজ করবে না। যখন বাংলাদেশ সরকার এটি জাতিসংঘে নিয়ে গেল, এটি একটি বিপর্যয়কর অবস্থার সৃষ্টি হলো। ভারতের অনেক প্রভাব আছে, অনেক বন্ধু আছে। তারা ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে কোনও অধিবেশন করতে দেয়নি। আমাদের গঙ্গা বিষয়টি জাতিসংঘে নিয়ে গিয়ে কোনও লাভ হয়নি বরং ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি জাতিসংঘ থেকে প্রত্যাহার করি এবং দ্বিপক্ষীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান করি।
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে আব্দুল মোমেন বলেন, এইটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই চুক্তি সম্পাদনে ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft