সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯
অর্থকড়ি
অর্থ সংকটে ক্ষেতের ধান আগাম বিক্রি
খাদ্য গুদামে ধান কেনা বিলম্বে কেশবপুরে কৃষকের গচ্চা ৮৫ কোটি টাকা
মোতাহার হোসাইন, কেশবপুর (যশোর) ব্যুরো :
Published : Sunday, 28 April, 2019 at 6:16 AM
খাদ্য গুদামে ধান কেনা বিলম্বে কেশবপুরে কৃষকের গচ্চা ৮৫ কোটি টাকা যশোরের কেশবপুরে চলতি বোরো মওসুমে ধান কাটা শুরু হলেও দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না কৃষকদের। একদিকে ধানের ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত, অন্যদিকে নগদ টাকা দিয়ে ধান কাটা শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে মহাজনের ঘরে ক্ষেতের ধান আগাম বিক্রি করে টাকা নিতে হচ্ছে অধিকাংশ কৃষকের। এ ছাড়া সরকারি খাদ্য গুদামে ধান কেনার বিলম্বের কারণে বাজার দর কম হওয়ায় কেশবপুর উপজেলার কৃষকদের এ বছর গচ্চা যাবে ৮৫ কোটি টাকা।
ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কষ্টের ধানে শেষ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ না উঠার আশংকা করছেন চাষীরা।  
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি ইরি বোরো মওসুমে এ উপজেলায় ১৬ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ধানের আবাদ হয় ১৫ হাজার ২১০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন মাঠে ৫ হাজার ৭শ’৭৫ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের ব্রি-ধানসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করা হয়। এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় হেক্টর প্রতি উফশী ৬ মেট্রিক টন ও হাইব্রিড সাড়ে ৭ মেট্রিক টন হিসেবে এ উপজেলায় ১ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের। সরকারি দরে প্রতি মেট্রিক টন ২৬ হাজার টাকা হিসেবে যার মূল্য দাড়ায় ২৬০ কোটি টাকা। কিন্তু ভরা মওসুমে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান কেনা শুরু না হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে চাষীদের। বর্তমান বাজারে প্রতি মেট্রিক টন ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৭ হাজার টাকা দরে। সেই হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছে কষ্টে উৎপাদিত ধানে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে কৃষক ৮৫ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  
মধ্যকুল গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, প্রান্তিক চাষীরা ডিজেল, সার, ওষুধ (কীটনাশক) বাকীতে নিয়ে বোরো ধানের আবাদ করে থাকে। ধান কাটার শুরুতেই মহাজনের হালখাতা শুরু হয়ে যায়। ফলে বাজারে দাম কম হওয়ায় প্রায় সব ধান বেচে হালখাতায় মহাজনের দেনা শোধ করতে হবে। এ সময়ে ব্যবসায়ীরা কম দামে ধান কিনে গুদামজাত করে রাখে। সরকারি খাদ্য গুদামে যখন ধান কেনা শুরু হবে তখন কৃষকের ঘরে আর কোন ধান থাকবে না। পরে ব্যবসায়ীদের কেনা ধান কৃষকদের নামে চলে যাবে সরকারি খাদ্য গুদামে। এতে প্রতি মেট্রিক টনে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। যার একটি অংশ চলে যাবে মধ্য স্বত্ত্বভোগী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও কর্মকর্তাদের পকেটে।  খাদ্য গুদামে ধান কেনা বিলম্বে কেশবপুরে কৃষকের গচ্চা ৮৫ কোটি টাকা  
মজিদপুর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম রবি বলেন, বোরো মওসুমের শুরুতেই এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে দুই একর ১০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করি। মওসুম শেষে ধান কেটে তাকে আসল টাকার সাথে অতিরিক্ত ১৬ মণ ধান দিতে হবে। বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি মণ ৭শ’২৫ টাকায় ২ একরের সব ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পর আমার বিচালী (খড়) ছাড়া কিছুই থাকবে না। ধান কাটা মওসুমের শুরুতেই সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করলে আমরা বেঁচে যেতাম।
একই গ্রামের কৃষক শামসুর রহমান মোড়ল বলেন, গত বোরো মওসুমে বাজারে নতুন ধান বিক্রি হয়েছিল ৯শ’ থেকে সাড়ে ৯শ’ টাকা মণ। এ বছর ২শ’ টাকা কমে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে দ্রুত ধানকেটে ঘরে তুলতে মজুরী খরচও বেড়ে গেছে। ফলে মজুরী খরচ বের করতে আগাম টাকা নিয়ে আরও কম দামে ক্ষেতে থাকতেই ধান বিক্রি করে দিচ্ছে অধিকাংশ কৃষক।
কেশবপুর উপজেলা আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, বাজার দর পড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের গুদামে গত বছরের ধান এখনো মজুদ রয়েছে। গত মওসুমে বেশী দামে ধান কিনে লোকসানের ফলে মেরুদন্ড ভেঙ্গে গেছে ব্যবসায়ীদের। বেশী দামে বিক্রি করতে না পারলে বেশী দামে ধান কেনা সম্ভব না ব্যবসায়ীদের। তবে কাটার মওসুমেই ধাদ্য গুদামে ধান কেনা শুরু করলে বাজার দর কিছুটা উঠতো বলে তিনি মনে করেন।             
কেশবপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, চলতি বোরো মওসুমে ধান ২৬ টাকা কেজি ও চাল ৩৬ টাকা কেজি সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হলেও এখনো বরাদ্দপত্র বা জিও আসেনি। ফলে কোন দিন থেকে খাদ্য গুদামে ধান-চাল ক্রয় করা শুরু করা যাবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
তবে খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হবে বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান বলেন, যে সকল কৃষক বেশী বেশী চাষ করেছে এবং ধান বিক্রি করতে ইচ্ছুক তাদের তালিকা করতে বলা হয়েছে কৃষি অফিসকে। সংশ্লিষ্ট ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা গ্রাম ভিত্তিক তালিকা করা শুরু করেছেন। এবার কৃষকের বাইরে কেউ খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারবে না।   



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft