শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা বহিষ্কার আতঙ্কে প্রতিবাদ বিমুখ হচ্ছে
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 1 May, 2019 at 6:18 AM
যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা বহিষ্কার আতঙ্কে প্রতিবাদ বিমুখ হচ্ছেযশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের ‘অন্যায় সিদ্ধান্তের’ প্রতিবাদ করায় আট শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, ওই বহিষ্কারের পর ক্যাম্পাসে এখন ‘বহিষ্কার আতঙ্ক’ বিরাজ করছে। কারণ ন্যায়সঙ্গত বিষয় নিয়েও প্রতিবাদ বা আন্দোলন করলে ‘বহিষ্কারের হুমকি’ দেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি করেছেন বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থীরা। গত ২০ এপ্রিল যবিপ্রবি প্রশাসন ওই ৮ শিক্ষার্থীকে আজীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করে।
প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী হুমায়রা আজমিরা এরিন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে নৌকা প্রতীকের অবমাননা, ডেক্স ক্যালেন্ডারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির অবমাননা, রাতে মেয়েদের হলে যাওয়া, বর্ধিত হারে রিটেক ফি, ল্যাবরিটেক ফি আদায়সহ সুনির্দিষ্ট কিছু ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল ছাত্রলীগ। যার নেতৃত্ব দেয়ার কারণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এবং শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান পরিকল্পিতভাবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, যবিপ্রবিতে সেমিস্টার ফি দেয়ার পরেও অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি বিষয়ে রিটেক ফি দুই হাজার ৫শ টাকা, ল্যাবরিটেক ফি ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। যা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকগুণ বেশি। এছাড়াও কোনো রশিদ ছাড়াই এডমিট কার্ড, ক্লাব উন্নয়ন ফিসহ বিভিন্ন নামে বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে এ দাবি যুক্ত করে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। এজন্য প্রশাসন আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।
এছাড়া, গত নভেম্বরে এক দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন ছাত্রী হলে একা প্রবেশ করেন। রাতে হল প্রভোস্ট ও হাউস টিউটর ছাড়াই তিনি হলে আসায় ছাত্রীরা অস্বস্তির মধ্যে পড়েন। বিষয়টি নিয়েও তারা আপত্তি জানান। এসব কারণে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে এরিন আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলেই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের ভয় দেখানো হচ্ছে। চাকরিচ্যূতির ভয়ে রয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আট শিক্ষার্থী বহিষ্কারের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করার কারণেও এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ‘বহিষ্কার আতঙ্ক’ বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি থেকে সদ্য আজীবন বহিষ্কৃত একরামুল কবির দ্বীপ, রোকনুজ্জামান, এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত মোতাসসিন বিল্লাহ, মাহমুদুল হাসান শাকিব ও হারুন অর রশীদ।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft