শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০
জাতীয়
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী
সর্বোচ্চ সতর্কতায় উপকূলবাসী
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 2 May, 2019 at 10:00 PM
সর্বোচ্চ সতর্কতায় উপকূলবাসীঘূর্ণিঝড় ফণীর মোকাবেলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে উপকূলবর্তী এলাকার এক হাজারের মতো আশ্রয়কেন্দ্র। ছুটি বাতিল করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ছয় হাজারের মতো স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এক প্রকার ভীতির সঞ্চার হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুর্যোগ মোকাবেলায় দফায় দফায় বৈঠক করছেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণী ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রাসহ আশপাশের নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে। আর এতে আতঙ্ক বাড়ছে উপকূলবাসীর মনে।
উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ১৪/১ পোল্ডারে গোলখালী গ্রামে কপোতাক্ষ নদের মোহনায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধ খুবই নড়বড়ে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। তার উপর আসছে ঘূর্ণিঝড়। বাড়ছে কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানির চাপ।
আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সিডর-আইলা কবলিত খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, মোংলা উপজেলার লাখো মানুষ। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ছোবলে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদহানির আশঙ্কা করছেন এসব মানুষ।
উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসতে মাইকিং করছে রেড ক্রিসেন্ট এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিপিসি) কর্মীরা। এছাড়া এ নিয়ে বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুক্রবার সকালে খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুরু হতে পারে। আর শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে এ ঝড়।
ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা দুপুরে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বন্দরে অবস্থানরত বিদেশি জাহাজসহ নৌযানগুলোকে সতর্কতাবস্থায় থাকার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। ফণীর মোকাবিলায় খুলনার দুশ’৪২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনার তিন উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় ১২শ’৫০,দাকোপে ১১শ’৩৫ ও পাইকগাছায় এক হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি এবং নয়টি উপজেলায় নয়টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করতে উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১শ’১৪ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলার জন্যে জেলা প্রশাসন, খুলনা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলো হচ্ছে, জেলা প্রশাসন, খুলনা: ০৪১২৮৩০০৫১, উপজেলা প্রশাসন: বটিয়াঘাটা: ০৪০২২-৫৬০৪৯, ফুলতলা: ০১৭১৬৭৭১২৮১, দাকোপ:০৪০২৩-৫৬০৬২,০১৯১৭১৭৩০৬৯, কয়রা: ০৪০২৬৫৬০৪৭, ০১৭০০৭১৭০০৮, ডুমুরিয়া: ০১৭৩০৯৯৬২৬৯, ০১৭১১৪৪৮৯৬১, ০৪০২৫৫৬১১, দিঘলিয়া: ০৪১-৮৯০১৭৮, ০১৭১২২৫০৪৮৭, পাইকগাছা: ০৪০২৭৫৬০০১, রূপসা: ০১৭১৯৪৫৭৮০৫,০১৭৪৭৬০৬০৬০, তেরখাদা: ০১৭৯৪৪৯২১৫৭ ও ০১৭১৭৯১৬৭৯৮।
এরই মধ্যে ঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে। পুরো খুলনাজুড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করছে।
এদিকে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফণীর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় নদ-নদীগুলোর জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের থেকে কমপক্ষে পাঁচ ফুট ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ফলে কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
অপরদিকে এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। উপূলীয় তিন উপজেলা কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপে মোতায়েন করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় খুলনার ২৪২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সাতক্ষীরায় বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। মাঝে মাঝে আবহাওয়ায় গুমোটভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। জনমনে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ৭ নম্বর বিপদ সংকেত থাকার পরও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখনও মানুষ যাওয়া শুরু করেনি।  
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই মধ্যে এই দুর্যোগের সম্ভাব্য আঘাত হানার বিষয়ে জনগণকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। জেলার তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি এবং কালিগঞ্জে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। অপর চারটি উপজেলায়ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব উপজেলায় নির্বাহী অফিসাররা দফায় দফায় সভা করে করণীয় ঠিক করছেন।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবর রহমান জেলা প্রশাসকের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর আগে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রীর সাথেও ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় হয়।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় বলা হয় জেলার ১শ’৩৭ টি সরকারি সাইক্লোন শেল্টার, স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ইউনিয়ন  পরিষদ, কমিউনিটি সেন্টার দুর্যোগ কবলিত জনগণের জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নদী ও সমুদ্রে থাকা মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। আশাশুনি ও শ্যামনগরে তিন হাজার ছয়শ’ ৫৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। এসব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা উত্তোলন করে মাইকিং করা   হয়েছে। তিনি আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
৮৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের হাতে পর্যাপ্ত ওষুধ, খাবার স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে। জলযান, স্থলযান, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলা এবং উদ্ধার কাজ পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, বিজিবি, আনছার ভিডিপি, রেড ক্রিসেন্ট, স্কুল কলেজের স্কাউটস টিম এবং স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও পুলিশ সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ও তাদের সহযোগী কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, জনগণের জানমালের পাশাপাশি গবাদি পশুর জীবন রক্ষায় উঁচু জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাছেই যাতে পশু খাদ্য মেলে সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সতর্কতা প্রচারের জন্যে পাড়ায় পাড়ায় মসজিদের মাইক ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলির নির্বাহী অফিসারগণ ফণীর সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় সংশ্লিস্টদের নিয়ে পৃথক পৃথক সভা করেছেন।
পাইকগাছা উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনও জুলিয়া সুকায়নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, ওসি (তদন্ত) রহমত আলী, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার, রুহুল আমিন বিশ্বাস, কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, কওছার আলী জোয়াদ্দার, গাজী জুনায়েদুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী ফিরোজ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন, বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায়, দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা বিপ্লব কান্তি বৈদ্য, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, ফরিদ হোসেন, একাডেমিক সুপার ভাইজার মীর নূরে আলম সিদ্দিকী, সহকারী শিক্ষা অফিসার ঝংকর ঢালী, সহকারী মৎস্য অফিসার এসএম শহিদুল্লাহ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু রায়, আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক আলতাফ হোসেন মুকুল, সহকারী প্রোগ্রামার মৃদুল কান্তি দাশ প্রমুখ। সভায় উপজেলা প্রশাসন থেকে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্যে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়। যে কোনো প্রয়োজনে কন্ট্রোলরুমের ০৪০২৭-৫৬০০১, ০৪০২৭-৫৬০৪২ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্যে সর্বসাধারণকে জানানো হয়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না গড়ইখালীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন।
ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় বাগেরহাটের দুশ’ ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় দফা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, ফণীর কারণে মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্দরে জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর জেটি ও আউটার অ্যাংকরেজে অবস্থানরত ১৫ জাহাজসহ সব ধরনের পণ্যবাহী লাইটার জাহাজকে বন্দরের পশুর চ্যানেল থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার দূরুল হুদা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা করে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় দুশ’৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা সদরসহ নয়টি উপজেলায় একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা এবং ৩৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েকশ’ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মাইকিং করা হচ্ছে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।               
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার তালুকদার দুদিন ধরে মোংলা ও রামপাল উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুতিমূলক সভায় যোগ দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ঘুরে সরেজমিনে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে ধেয়ে আসার আগেই সাধারণ মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পরামর্শ দিচ্ছেন।                             
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, সুন্দরবন বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নিরাপদে থাকতে নির্দেশ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে করমজল ও হারবাড়িয়া পর্যটন কেন্দ্রের পর্যটকদের সরিয়ে আনা হয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়ায় ধেয়ে আসা ঘুর্ণিঝড় ফণীর হাত থেকে রক্ষা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমুলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শাহনাজ বেগমের কার্যালয়ে এবং তার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি। এ সময় আরও বক্তৃতা করেন উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস, শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জি এম আলমগীর কবির, নির্বাচন অফিসার শেখ জাহিদুর রহমান, উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা হাসি রাণী রায়, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রীথীষ রায়, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার, ডাক্তার হিমাংশু বিশ^াস, প্রতাপ কুমার রায়, শেখ রবিউল ইসলাম রবি, রেজোওয়ান হোসেন মোল্যা। সভায় উপজেলার সকল সাইক্লোন শেল্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত রাখা, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় স্বেচ্চাসেবক টিম গঠন, সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল ও সার্বক্ষণিক তদারকির দায়িত্ব, মেডিকেল টিম গঠন এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
খুলনার কয়রায় ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত  সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা, থানা অফিসার ইনচার্জ তারক বিশ্বাস, কৃষি অফিসার এস এম মিজান মাহমুদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার জাফর রানা, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্যাহ আল মামুন লাভলু, সরদার নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক সদর উদ্দিন আহমেদ, হুমায়ুন কবির ও শেখ মনিরুজ্জামান মনু। একশ’ ১৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। যেখানে ৫৬ হাজার ৫শ’ ৬৯ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। বিভিন্ন ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন, স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রস্তুত রাখা,শুকনো খাবার সংরক্ষণ এবং মাইকিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উপজেলায় একটি কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। যার নম্বর ০১৭০০-৭১৭০০৮ ।
অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় ফণীর সতর্কতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জনগণকে সতর্ক করে মাইকিং করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীনুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়  আগামী  ৪ মে শনিবার বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়ায় গতিবেগ ১৬০-১৮০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যেতে পারে। ফলে, এ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ফণীর কারণে আতংকিত না হয়ে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্যে সকলকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সতর্ক থাকার জন্যে উপজেলার সকল জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে।
মহেশপুরে মাইকিং করা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর ভয়াবহতা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft