মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
ওপার বাংলা
নির্বাচনী ফলাফলের আগেই দিল্লিতে বিরোধীদের মহাবৈঠক
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 9 May, 2019 at 7:36 PM
নির্বাচনী ফলাফলের আগেই দিল্লিতে বিরোধীদের মহাবৈঠকভারতে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দু’দিন আগেই ২১ মে বিরোধীদলগুলির গুরুত্বপূর্ণ ‘মহাবৈঠক’ বসতে চলেছে দিল্লিতে। যাকে নির্বাচনের ফল-পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে ‘হোমওয়ার্ক’ বৈঠক হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
বুধবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারমঞ্চে আসার আগে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। দু’জনেই ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যে সামান্য সময় কথাবার্তাও বলেন। তাতে মোটামুটিভাবে ঠিক হয়েছে আগামী ২১ মে বিরোধীদের জোট প্রক্রিয়াকে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়া হবে। সেই কারণেই ওইদিন দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে ‘মহাবৈঠকে’ বসতে সম্মত হয়েছেন রাহুল গান্ধী এবং চন্দ্রবাবু নাইডু। এটাই হবে নির্বাচন পরবর্তী বিরোধী জোটের প্রথম বৈঠক।
তবে সেই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির থাকবেন কি না, তা ঠিক হবে বৃহস্পতিবার। ওইদিনই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে খড়গপুরে ভোটের প্রচার করবেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু। চন্দ্রবাবুর সঙ্গে একই মঞ্চে থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই সভামঞ্চেই বিরোধীদের রণকৌশল নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা করবেন দুই শীর্ষ বিরোধী নেতা। সেই আলোচনার পরেই দিল্লিতে ২১ মে’র বৈঠকে হাজির থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা।
দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের এই মহাবৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেশ কয়েকটি সঙ্গত প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। যেমন, বিজেপি বিরোধী দলগুলির মধ্যে মূলত কোন কোন দলকে আহ্বান জানানো হবে ওই ‘মহাবৈঠকে’? বৈঠকের আহ্বায়কই বা কে? কারণ ইতিমধ্যেই কংগ্রেস, বিজেপিকে ছাড়া পৃথক একটি ‘ফেডারেল ফ্রন্ট’গঠনে লক্ষ্যে রীতিমতো দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির প্রধান চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর)। নাওয়া-খাওয়া ভুলে তিনি আলোচনা চালাচ্ছেন প্রতিটি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে। তালিকায় অগ্রাধিকার দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকেও।
অবশ্য এখন পর্যন্ত কেবল কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গেই বৈঠক করতে পেরেছেন কেসিআর। ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন নির্বাচন পরবর্তী জোট গড়তে রাহুলের দলকে সমর্থনের কথাও ঘোষণা করে রেখেছেন। কেসিআর চাইলেও আপাতত ‘প্রচারে ব্যস্ত’ বলে বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন স্ট্যালিন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল সহ একাধিক আঞ্চলিক দলের সঙ্গেও কেসিআর আলোচনা করতে পারেন বলে তার অফিস সূত্রে খবর। নির্বাচন পরবর্তী বিরোধী মহাজোট গঠনের প্রক্রিয়ায় তিনি খানিক বাগড়া দিতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা। কারণ তার কট্টর বিরোধী চন্দ্রবাবু নাইডুও একই প্রয়াস নিয়েছেন।
তাই দিল্লিতে ২১ মে’র ‘মহাবৈঠকে’ বিজেপি বিরোধী কোন কোন দল যোগ দেবে সে দিকেই আপাতত তাকিয়ে গোটা দেশ। তবে রাজনীতির সব সমীকরণই এখন নির্ভর করছে ভোটের ফলাফলের উপর।
নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটের একটা মহড়া চললেও শেষ পর্যন্ত তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে বামেদের সঙ্গে আর দিল্লি, হরিয়ানা-পাঞ্জাবে আপের জোট হয়নি কংগ্রেসের। উত্তরপ্রদেশেও যে বিরোধী জোট দানা বেঁধেছে তাতে শামিল হয়নি কংগ্রেস।
বিরোধীদের এই ছন্নছাড়া দশাকে নির্বাচনী প্রচারে হাতিয়ার করতেও ছাড়েননি গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে মায়াবতী রাখঢাক না করেই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরার পরে আক্রমণ আরও জোরালো করছে বিজেপি। তাই বিরোধীরা এই ছন্নছাড়া পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে কি না, তা পরিস্কার হবে ২১ মে দিল্লির প্রস্তাবিত ‘মহাবৈঠকে’।
বৈঠকে মায়াবতী-অখিলেশরা শামিল হন কি না সেটাও দেখার। ওই বৈঠকের সাফল্যর উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। ভোটে বিরোধীদের ফল ভালো হলে ভবিষ্যৎ সরকার ও তার প্রধান হিসেবে কে উঠে আসবেন, বৈঠকে সে ব্যাপারেও একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সূত্র: বর্তমান 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft