শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯
আক্কেল চাচার চিঠি (আঞ্চলিক ভাষায় লেখা)
আমরা কি এহনও মানুস আছি ?
Published : Saturday, 11 May, 2019 at 6:56 AM
শুনিচি মানসির কোন কিচু শিনাক্ত কত্তি হলি ডিএনএ টেস কত্তি হয়। এই টেস কল্লি বুজা যায় কোনডে কিডা। কার সাতে কার মিল অমিল আচে এই সব। যদিও এ বিষয়ে আমার সিরাম কোন অভিজ্ঞতা নেই। যারা জানে তাগের সাতে কওয়া বুলা কইরে যট্টুক জানতি পাল্লাম, তাই নিয়ে দু’কতা লিকতি বসলাম।
কয়দিন ধইরে আমার খালি এট্টা কতা মনে হচ্চে। আমাগের স¹লির এট্টু ডিএনএ টেস কত্তি পাল্লি ভালো হইতো। আমার খুব সন্দেহ হচ্চে আমরা মানুস আছি কিনা! হয়ত অনেকে মনে কত্তি পারেন গরমের কচনে মাতা গুলায় গ্যালো কিনা! ঘটনাডানা তালি খুইলেই কই। পিপারে চারিদিকে ভেজাল আর ভেজাল খাইদ্য খাবারের খবর পাচ্চি। অন্য মাস যিরাম সিরাম, রুযার মাসে যেন সব উতলে উটেচে। পাড়া মহল্লাত্তে শুরু কইরে শহর নগর আর রাজধানী সব জাগায় খালি ভেজালের মচ্ছব চলচে। কাল শুনলাম, আখের গুড় বানানোর নতুন পদ্দতি। রাজবাড়ীতি এই ফ্যাক্টরী খুইজে পাইয়েচে মুবাল কোট। সে গুড় বানাতি আখ বা আখের রসের কোন দরকার নেই। চক পাউডার, ফিটকিরি, চিনি, বান্নিশ কালার, ময়দা, রং দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে খাঁটি আখের গুড়! আরাক জাগায় পালাম খাটি গরুর দুধ। তাতে গরুর দুধির কোন বালাই নেই, নেই পাউডার দুধও। এক কেজিতি তিনপুয়া পানি আর একপুয়া চকের গুড়ো আর ময়দা গুলালিও হয়ে যাচ্চে এক কেজি খাটি গরুর দুধ। বাজারে ৯৬ কুম্পানীর তরল দুধির ৯৩ডায় সীসে পাওয়া গেচে। নাম করা বড় বড় শপিং মলে ম্যালাদিন আগে ফ্রিজি থুইয়ে দিয়া গোস্ত পইচে যাওয়ার জুগাড়! তাতে আবার কসাইগের কাচেত্তে জবোই দিয়া পশুর রক্ত আইনে পচা গোস্তের গায় রক্ত ঢাইলে তাজা হিসেবে বিক্কির কত্তেচে। এতো গ্যালো ডুবলিকেট কসাইগের কাহিনী। যারা অজ্জিনাল কসাই তারাও মরা পশু জবোই দিয়ে কাইটে বেচতেচে ম্যালা জাগায়। পচা মাছে দেচ্চে ফরমালিন, জ্যান্ত মাছের খাতি দেচ্চে বয়লার কুকড়োর গু! কুকড়ো খাচ্চে কড়া এন্টিবায়োটিক, সিডা আবার খাচ্চে মানসি। তাও আবার মাইকিং কইরে কচ্চে তোলপাড় অফার চলতেচে কুকড়োর দামে। বাজারে যে সব জুস একন বিক্কির হয় তার পিরায় সব নকল। কালও পিপারে পড়লাম নকল ট্যাঙ কারখানায় ঘের দেচে মুবালকোট। আমের জুস, জামের জুস, কলার জুস নামে বাজারে যা বিক্কির হচ্চে তাতে আম জাম কলার কোন নাম গন্দ নেই। সব পানির সাতে রং আর কেমিকেল সেন্ট। চেনির বদলে বাজার সয়লাব কেমিকেল চিনি যা ঘন চিনি নামে পরিচিত। মাছের গায় আর মরা মানসির গায় দিয়া ময়লা পানির বরফ দিয়ে বানানো হচ্চে শরবত। পচা আর নস্ট খাজুর বিউটি পাল্লারে নিয়ে সাজায় গুজায় বাজারে তোলচে। কিনার সুমায় মনে হচ্চে ক্যাটরিনা, বাড়ি আইনে দেকা যাচ্চে মজ্জিনা। বাজারের ছাবাল বুড়ো জুয়ান রুগী সবার সব খাইদ্যই ভেজাল। এই সব খাইয়ে মানুস বাইচে আছে কি কইরে সিডাই একন পৃতিবীর অষ্টম আচ্চার্য্য। আবার এই সব খাইয়ে অসুক বিসুকি পড়লি বাজারে ওষুদ ভেজাল। একন শুনা যাচ্চে এইট পাস কইরে বড় চিম্বার পাতায়ে রুগী দেকচে ভেজাল ডাক্তার! তাগের নিয়ে দু’কতা কইয়ে নালিশ দিতি গেলি বারোচ্চে ভেজাল উকিল। চারিদিকি এই ভেজালের মদ্দি আমরা কি মানুস আছি?
যারা ভেজাল কারবার কচ্চে তারা কি মানুস আছে? বুকি হাত দিয়ে কেউ কারো কতা কতি পাচ্চি নে। তাই দরকার ডিএনএ টেস। টেস কইরে তার ফল না বারোনো পন্তিক মনে শান্তি আসতেচে না। ফয়সল চা’র সাতে কতা কইয়ে আগে নিজিরডাই টেস কত্তি হবে। আলাম কনে, মলাম যে!




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft