শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯
আন্তর্জাতিক সংবাদ
ভারত বিভাজনের গুরু মোদি : টাইম ম্যাগাজিন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Saturday, 11 May, 2019 at 2:05 PM
ভারত বিভাজনের গুরু মোদি : টাইম ম্যাগাজিনভারতে চলছে লোকসভা নির্বাচন। এর মধ্যেই মোদিকে নিয়ে কাভার স্টোরি করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম টাইম ম্যাগাজিন। টাইমের ২০ মে’র সংস্করণের প্রচ্ছদে ছাপানো হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি। হেডলাইনে লেখা হয়েছে, ‘ভারতের বিভাজনের প্রধান’(India's Divider in Chief)।
ওই প্রচ্ছদ নিবন্ধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ‘বিষাক্ত ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ’ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে শক্তিশালী ভারতের স্বপ্নের এক প্রতিভূ হিসাবে উঠে এসেছিলেন মোদি, যেন এক আস্থার দেবদূত— যার এক হাতে ছিলো হিন্দুর পুনর্জাগরণ, অন্য হাতে দক্ষিণ কোরিয়ার ধাঁচে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কর্মসূচি। এখন কেবলই এক ব্যর্থ রাজনীতিক হিসাবে ভোট চাইতে এসেছেন মোদি, যিনি করে দেখাতে পারেননি। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, সেই স্বপ্ন, সেই আস্থা আজ আর তার সঙ্গে নেই।’
প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকার এই প্রচ্ছদ ও নিবন্ধ নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। দ্বিধা বিভক্ত সোশ্যাল মিডিয়াও। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা টুইটে বলেন, ‘ভাগ করে শাসন করার নীতি মোদীরও। কংগ্রেস ব্রিটিশ শাসকদের তাড়িয়েছে, এ বার মোদির শাসনকেও তাড়াবে।’
পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ঠিকই লিখেছে ‘টাইম’পত্রিকা। গোরক্ষা আর দাঙ্গা ছাড়া তার মাথায় কিচ্ছু ঢোকে না।’
এক নেটিজেন লিখেছেন, মনমোহন জমানার শেষ দিকে ‘টাইম’ পত্রিকা তাঁর ছবি দিয়ে একটি সংখ্যা প্রকাশ করে। তাতে মনমোহনকে বলা হয়েছিল, ‘দ্য আন্ডার অ্যাচিভার’। ওই প্রচ্ছদ কাহিনী প্রকাশের পর আর ক্ষমতায় আসতে পারেননি মনমোহন। তাই ওই নেটিজেনের প্রশ্ন, এবার কি তাহলে মোদিরও একই পরিণতি হচ্ছে?’
‘টাইম’-এর এই সংখ্যা বাজারে আসার পরে সামাজিক মাধ্যমে ফিরে এসেছে ৪টি ছবির একটি কোলাজও, যাতে জাপান, ইউরোপ এবং দুবাইয়ের রাস্তার ফুলে ঢাকা ডিভাইডারের পাশে ভারতের ডিভাইডার হিসেবে মোদির মুখ দেখানো হয়েছে। নেটিজেনরা এ ব্যাপারেও দু’ভাগ।
‘টাইম’ অভিযোগ করেছে, মোদি সরকারের পাঁচ বছরে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা, উদার নীতি ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম— ভারতীয় রাষ্ট্রগঠনের তিনটি প্রধান নীতিকেই নাকচ করা হয়েছে। জওহরলাল নেহরু, মোহনদাস গান্ধীর মতো দেশগঠনে ব্রতী নেতাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা তৈরি করা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা তো বটেই, মুক্তমনা, পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ও তফসিলিদের পর্যন্ত কোণঠাসা হতে হয়েছে, আক্রমণ নেমে এসেছে তাদের ওপর। সংখ্যাগুরু হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কৃতি সংখ্যালঘুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং তার ফলে দাঙ্গা, গণধোলাই, হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কর্পোরেট হাউস বা সংবাদমাধ্যম— সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রতি দেশজুড়ে ঘোর অনাস্থা তৈরি করা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘মোদির অর্থনৈতিক জাদু শুধু যে কাজ করেনি তাই নয়, ভারতে বিষাক্ত ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের পরিবেশ ছড়াতে সাহায্য করেছেন তিনি।’
পত্রিকাটিতে মোদীর অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে দ্বিতীয় একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— দেশের বেকার তরুণদের স্বনির্ভরতার স্বপ্ন দেখিয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন মোদি। কিন্তু জানুয়ারিতে সরকারেরই এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বেকারত্বের হার ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছেছে। ভোটের আগে মোদি সরকার যে এই সমীক্ষার ফল গোপন করতে চেয়েছে, প্রতিবেদনে সে কথারও উল্লেখ রয়েছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে মোদির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানের বাস্তবায়ন নিয়েও।
টাইমসের ওই প্রচ্ছদ কাহিনীতে আরো বলা হয়েছে, ভোটের আগে যাবতীয় ব্যর্থতার বিরুদ্ধে বর্ম হিসেবে মোদি তুরস্ক, ব্রিটেন, ব্রাজিল বা আমেরিকার শাসকদের মতো জাতীয়তাবাদকেই বেছে নিয়েছেন। পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার জবাবে তিনি পাকিস্তানে বিমান হামলা করিয়েছেন, যাকে হাতিয়ার করে এ বার নির্বাচনে উতরে যেতে চাইছেন মোদি। ২০১৪-র ‘অচ্ছে দিন’-এর যে অঙ্গীকার তিনি মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলেন, এ বারে আর তার কথা বলছেনই না।
প্রসঙ্গত, এর আগে টাইমের ২০১৫ সালের ১৮ মে সংখ্যার প্রচ্ছদ কাহিনী ছাপা হয়েছিল মোদিকে নিয়ে। সেই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো, মোদি কি পারবেন?(ক্যান মোদী ডেলিভার?)। এছাড়া নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎকার ছেপেছিল মার্কিন পত্রিকা ‘টাইম’। আগামী পাঁচ বছরের বহু স্বপ্নের কথা সেই পত্রিকাকে বলেছিলেন মোদি। সূত্র: আনন্দবাজার



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]com
Design and Developed by i2soft