বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Sunday, 12 May, 2019 at 6:05 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজানমাহে রমজান হলো আল্লাহর প্রিয় বা আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের মাস । এ জন্য রোজা রেখে যদি কোন ব্যক্তি মিথ্যা বলা পরিত্যাগ করতে পারলো না আবার অন্যের গীবত করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারলো না ,কথায় কথায় ঝগড়া বা গালি-গালাজ বন্ধ করতে পারলো না এবং পরের হক ও হারাম খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারলো না তার রোজা তাকে মুক্তির মহা সন্ধান দিতে পারে না। আবার তার দোয়াও আল্লাহ পাক গ্রহন করেন না কেননা আল্লাহ পাক দোয়া কবুল হওয়ার জন্য হালাল খাওয়াকে শর্ত করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ তায়ারা রোজা কবুল হওয়ার জন্য রোজা রেখে কোন প্রকার গোনাহের কাজ করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে নির্দেশ করেছেন। আল্লাহর রাসুল (স:) এরশাদ করেন,যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে পারলো না তার রোজা রেখে খানা-পিনা ত্যাগে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহর রাসুল (স.) আরো বলেন, কিছু রোজা দার এমন আছে যার রোজা শুধু খানা-পিনা ত্যাগ করার নামান্তর। আর কিছু নামাজী আছে যার রাতের নামাজ শুধু রাত্রি জাগরনের সামিল ছাড়া আর কিছু নয়। এ দুটি হাদিস থেকে খুব ভাল ভাবে জানা গেল যে, না খেয়ে ক্ষুর্দাথ ও পিপাসায় কাতর হওয়ার নামই রোজা নয়। আর শুধু বার-চৌদ্দ ঘন্টা না খেয়ে থাকলেই রোজা হবে না। আমাদের রোজা তখনই পূর্ণ হবে যখন আমরা আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রেখে বা বিশ্বাস রেখে বা পরিপূর্ণ ঈমান রেখে অন্তরে আল্লাহর প্রেম-ভালবাসা নিয়ে তার নির্দেশ পালনের জন্যই আমরা রোজা রাখব। পবিত্র রমজানের আসল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা খোদাভীরু লোক তৈরী করা এটাই আল্লাহর একমাত্র লক্ষ্য।  আত্মশুদ্ধি, সংযম-সাধনা, সাম্য-সহানুভূতি ও আল্লাহভীতির উদাত্ত আহ্বান নিয়ে যে রামাযান আমাদের নিকট এসেছিল তা বিদায় নেয়ার পালা। রামাযান এসেছিল আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করতে, পরিশীলিত করতে, মুত্তাকী বানাতে। এই মুত্তাকী সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যম হ’ল সিয়াম সাধনা। কোন ব্যক্তির সিয়াম পালন যদি তাকে মুত্তাকী বানাতে না পারে তা হলে ধরে নিতে হবে যে ঐ ব্যক্তির সিয়াম পালন ব্যর্থ হয়েছে। কারণ সিয়াম পালনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে যেয়ে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা ঘোষণা করেছিলেন- “লায়ালাকুম তাত্তাকুন” যেন তোমরা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে পার। প্রকৃতপক্ষে ভীতি মিশ্রিত সাবধানতা বা সতর্কতাই তাকওয়া। যিনি সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে চরিত্রের অধিকারী তিনিই মুত্তাকী।  আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার উপর সর্বদা হাজারো রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। আমরা আল্লাহর রহমতের বাইরে একটা মুহুর্ত ও থাকতে পারিনা। এমনকি মুসলমান ছাড়াও অন্যন্য সকল জাতি এমনকি পৃথিবীর এমন একটা প্রাণীও নেই যে আলহর রহমতের গন্ডির বাইরে আছে। অর্থাৎ সকল কিছু আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহর রহমতের বর্নণা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,আমি আমার রহমতের এক’শ ভাগের একভাগ মানুষ সহ পৃথিবীর সকল প্রাণীকে ভাগ করে দিয়েছি আর বাকি নিরানব্বই ভাগ রহমতই আমি আল্লাহ আমার কুদরতে রেখে দিয়েছি। আর পবিত্র রমজানেই আল্লাহর রহমতের মহিমা সবচেয়ে বেশী পরিমান বর্ষণ হয়ে থাকে। আল্লাহর মহিমা আমরা রোজা রেখে দুনিয়ায় যেমন পেতে থাকব তেমনিভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে চির কল্যানের জান্নাতি মহিমা আমরা পাব আখেরাতে। আল্লাহর রাসুলের একটি হাদিস তুলে ধরছি, হযরত সাহল ইবনে সায়াদ (রা:) হতে বর্নিত আছে ,তিনি বলেন, রাসুলুলাহ (স:)এরশাদ করেন,বেহেস্তের আটটি দরজা আছে। তার মধ্যে একটি দরজার নাম হলো রাইয়্যান। আর উক্ত দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করতে পারবে। (বুখারী-মুসলীম)।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft