শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯
আক্কেল চাচার চিঠি (আঞ্চলিক ভাষায় লেখা)
গরমে যে পাটায় ফেলতেচে!
Published : Monday, 13 May, 2019 at 6:16 AM
গরম জীবনে বহুত দেকিচি, কিন্তুক ইরাম কইরে পাটায় ফেলতি দেকিনি। যিরাম পইড়েচে গরম, সিরাম শুরু হয়েচে রুযা। আলাম কনে মলাম যে অবস্তা মানসির!
পানিতি কুমির-ড্যাঙায় বাঘ সিরাম দশা। আল্লায় জানে গরমের হাতেত্তে মুক্তি কবে মেলবে। তেবে আবহাওয়া অপিস কচ্চে আজ না হলিও কালকে বিস্টি লাববে। যশোরের তাপ ৪১ ডিগ্রির উপরে চইড়ে গেচে। ৪২ ছুই ছুই ভাব। শুনিচি নাই, পৃতিবীতি গরমের শহর বিলে স¹লি চেনে ডুবাইরে। সেই ডুবাই’র তাপমাত্তারা ৩৯ -৪০। আর আমাগের যশোরে ৪১-৪২ ডিগ্রি। বাপ্পোই বাড়ি গরমে টিকাই দুস্কর হইয়ে পড়তেচে। শুদু কি যশোর? তামান জাগাত্তে গরমে পাটায় পড়ায় খবর পাচ্চি।
কালকে দেশের বেশির ভাগ এলেকার সব্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৯ ডিগ্রির মদ্দি ছিলো। ঘূন্নিঝড় ফণী ৩ মে বাংলাদেশে আসার আগের ১০ দিন ছিল গরমের কচন। এরপর দুদিন কিছুডা ঝড়বৃষ্টি হলিও তার পরেত্তে সাত আটদিন সব্বরাশে গরমে কাহিল হইয়ে পড়চে মানুস। তেবে শুদু মানুস কলি ভুল হবি। গরমে কাহিল গুটা পিরানীকুল। পাখি চুকি গরমে পানির তলে মাতা ঢুকোয় দিয়ে ঠান্ডা হওয়ার চিস্টা দেচ্চে। বাংলাদেশের জলবায়ুর স্বভাব অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে এই দুই মাস সব চাইতি বেশী গরম থাকে। এবারের এপ্রিলি স্বাভাবিকের চাইতি বেশি গরম ছিল। রাজশাহী ও রংপুর ছাড়া দেশের সব কয়ডা বিভাগে এবার স্বাভাবিকির চাইয়ে কম বিস্টি হয়েচে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর কচ্চে, গ্যালো ২২ এপ্রিল রাজধানীসহ দেশের বেশ কিচু এলেকায় হালকা বিস্টি হয়। এরপর দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তাপ বইয়ে যাতি থাকে। ঘূন্নিঝড় ফণী দূব্বল হয়ে যাওয়ার পরেত্তে আবার শুরু হয় তাপের কচন। সপ্তাহ খানেক চইলে এই গরম মানসির জানডা বিষোয় দেচ্চে। যারা সাহেব সুবো মানুস, তারাতো গুড়ি মাইরে অপিসি যাইয়ে এসি খাটায় বইসে থাকচে। কিন্তুক যারা খাইটে খাওয়া মানুস, তাগের জান গরমে ঠোটের ডুগায় চইলে আসার উপক্রম হচ্চে। রিকশা ভ্যান আর ইজিবাইকয়ালারা কতায় কতায় কাইজে গন্ডগোল বাদায় দেচ্চে গরমে। মিজাজ ঠিক থাকচে না পথচারীগেরও। বেলা এগারোডাত্তে তিন চারডে পন্তিক গরমের বাড়ম্বায় সব চাইতি বেশী। তেবে একন নিতান্ত দায় না ঠেকলি কেউ ঘরের বাইরি বারোতি চাচ্চে না। অনেকে সারাদিন ভুকচি মাইরে থাইকে সন্দ্যের পর ঘরেত্তে বারোচ্চে। গরমের মদ্দি রুযা পইড়ে বহুত লোকের ইমানের পরীক্কে হচ্চে। যে সব মসজিদি এসি লাগায়েচে সে সব মসজিদি মুসুল্লীগের ভীড়ও এট্টু বেশী দেকা যাচ্চে। ঈমানের জোর না গরমের জের তা আল্লায় ভালো কতি পারে! যাগের কপালে এসি জোটচে না, তারা মেচি হইয়ে কোন রকমে ঘানি টাইনে যাচ্চে। তেবে যায় যায় দশার মদ্দি কতবেল টিকে থাকতি পারবি আল্লায় জানে। আগে শুনতাম বিস্টির পানির জন্যি শুদু চাতক পাখি তাগায় থাইকতো, আর একন সবাই চাতক পাখি, ককন লাববে বিস্টি।
কাল দেকলাম এক ভাতিজি ফেসবুকি লিকেচে, গরমের কচনেত্তে বাচতি বিস্টির আশায় দুডো ব্যাঙ ধইরে বিয়ে দিলাম। বিস্টি আশাতো দূরির কতা পরে জানতি পালাম তারা জাস্ট ফেরেন্ড। কি জামেনা পইড়লো আইজ কাল ব্যাঙ দিয়েও বিশ্বেস নেই। আলাম কনে, মলাম যে!



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft