বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Monday, 13 May, 2019 at 6:45 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজান আল্লাহর রাসূল (স) এরশাদ করেন, হাদিসে কুদসীতে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আচ্ছাউমু লী অ-আনা আজযি বিহী’অর্থাৎ রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজেই রোজার পূরস্কার দিব । রমজান হলো আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতে ধন্য ও রহমত,বরকত ও মাগফিরাতের বাণীতে শিক্ত । আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,রোজা একজন রোজাদারকে তাকওয়ার বা খোদাভীরুতার পথে অগ্রসর করতে পারে যদি উক্ত রোজাদার রোজার হক আদায় করে রোজা পালন করতে পারে। পবিত্র রমজান আমাদের মাঝে আসলে সমাজ জীবনেও একটা পবিত্রতার ছোয়া দেখা যায়। মাহে রমজান আসলে আমরা আল্লাহর ইবাদতে বেশী করে মাশগুল থাকি এবং আল্লাহর ভয়ে সকল প্রকার গোনাহ থেকে আমরা যথাসাধ্য বিরত থাকি। আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে রোজা আমাদের জন্য একটা মহা নেয়ামত। আর আল্লাহর দেয়া এই মহা নেয়ামতকে আমাদের অবশ্যই এই মাহে রমজানে কাজে লাগাতে হবে। রোজা মানুষকে সুশৃংখল হওয়া ট্রেনিং বা শিক্ষা দেয়। বাইহাকি শরীফের একটি হাদিসে হযরত সালমান ফারসী (রা:) হতে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসের শেষ অংশে আল্লাহর রাসুল (স:) এরশাদ করেন, রমজান মাসে চারটি কাজ বেশী বেশী পরিমান করার জন্য আল্লাহর রাসুল নির্দেশ করেছেন্ সে চারটি কাজ হলো এক.সর্বশ্রেষ্ট জিকির কালেমায়ে তাইয়্যেবা বেশী বেশী পরিমান পাঠ করা। দুই.বেশী বেশী করে আসতাগফির করা বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করা।তিন.আল্লাহর কাছে বেশী করে জান্নাত কামনা করা । চার. আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে নাজাতের জন্য বেশী বেশী করে ক্ষমা প্রার্থনা করা। জান্নাতের একটি  দরজা হলো রাইয়্যন। যা শুধুমাত্র রোজাদারদের জন্যই প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। রাসুলুলাহ (স:) এরশাদ করেন, রমজান মাসে আমার উম্মতের মর্যাদার জন্য আল্লাহ তায়ালা পাঁচটি জিনিস দান করেছেন,যা আর কোন রাসুলের উম্মতকে দান করা হয়নি আর তা হলো,রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিশকের বা মৃগনাভী থেকেও খুশবদার।রোজাদারদের জন্য সমুদ্রের মৎস সমুহ আল্লাহর কাছে ইফতারীর সময় পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে। প্রতিদিন আল্লাহ তায়ালা রোজাদারের জন্য জান্নাতকে সুশোভিত করতে থাকে এবং জান্নাতকে বলতে থাকে তোমার মধ্যে আমার এক নেক বান্দাহ খুব শীঘ্র আাসছে। মাহে রমজানে আল্লাহ পাক শয়তানকে বন্দী করে রাখে আর সে কারণে শয়তান অন্য মাসের মত এত বেশী পরিমানে গোনার কাজ করতে পারে না। আর রমজানে রোজাদারের সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো আল্লাহ পাক মাহে রমজানের শেষ রাতে রোজাদারের সকল গোনাহ মাফ করে থাকেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে, আজকে মাহে রমজানে সমাজে এর বিপরীত চিত্র আমরা দেখতে পাই। রামাযান মাসে রোযাদারদের সংখ্যা বাড়ছে। তারাবীর নামাযের জামায়াতে আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা শরীক হচ্ছে। বিকেল থেকে ইফতার সংগ্রহের ধুম পড়ে যাচ্ছে। কিংবা রেডিও টেলিভিশনে রামাযানের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন পেশ করা হচ্ছে, সবগুলি পত্রিকার পাতায় বিভিন্ন লেখনীর মাধ্যমে রোযার মহত্বের বিভিন্ন দিকের উপর আলোকপাত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সত্যিকারের তাকওয়ার গুণ অর্জনকারী অভ্যাসগুলো কি আমরা আমাদের জীবনে অনুশীলন করতে পারছি? আমরা কি আমাদের অফিস-আদালতে ঘুষ বন্ধ  করতে পেরেছি? আমাদের মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা কি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য   বাড়িয়ে দিচ্ছে না? সন্ত্রাসীরা কি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করে দিয়েছে? কিংবা মানুষের চরিত্র ধ্বংসকারী উপকরণগুলো কি নিষিদ্ধ করা হয়েছে? টেলিভিশনে মাহে রমজানেও নারীর নগ্ন দেহ প্রদর্শনী কি বন্ধ হয়েছে? না হয়নি। তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের নিকট রমজান মাস আসছে আর যাচ্ছে কিন্তু আমরা এ থেকে প্রকৃত ফায়দা হাসিল বা মাহে রমজানের ফসল ঘরে তুলতে পারছি না। তাছাড়া ধুমপান ইসলামে নিষিদ্ধ। মুসলিম সমাজের উচিত পবিত্র রামাযান মাসকে একেবারেই ধুমপান বর্জিত মাস হিসাবে ঘোষণা করা। ধুমপান ত্যাগের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাস হলো মাহে রমজান। মসজিদের ইমাম,খতবি ও আলেম সমাজের নিকট অনুরোধ থাকবে তারা যেন মুসলিম ভাইদেরকে মাহে রমজানে ধুমপান ত্যাগের জন্য বিশেষভাবে  অনুপ্রাণিত করেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft