শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Wednesday, 15 May, 2019 at 6:59 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজান রমজানে প্রত্যেক রোজাদারের উচিত সাংসারিক ব্যস্ততা একটু কমিয়ে আনা এবং পরিকল্পনা মাফিক সময় ব্যয় করা। বিশেষ বিশেষ দোয়া ও জিকির সার্বক্ষনিক করতে থাকা এবং মুখস্ত সূরাগুলি বারবার তেলাওয়াত করা। কেননা কুরআন নাযিলের মাসই রমজান। আল-কুরআনে এরশাদ হচ্ছে,শাহরু রমাজানালাজি উনযিলা ফিহিল কুরআন অর্থাৎ রমজান মাসেই আমি নাযিল করেছি আল-কুরআন। আল-কুরআনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার নির্দেশ, ‘ইয়া আইয়ুহাল লাযীনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল লাযীনা মিন কাবলিকুম লায়ালাকুম তাত্তাকুন।’ অর্থাৎ ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেরূপ তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছিল। যেন তোমরা পরহিযগারের গুণে ভূষিত হতে পার’ (সূরা আল-বাকারা ১৮৩ আয়াত)।আর আল্লাহ তায়ালা পবিত্র রমজানের মহত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে এরশাদ করেন, রমজান এমন একটি মাস যে ,মাসে নাযিল হয় আল কুরআন। আর আল কুরআনের মর্যদার জন্যই আল্লাহ তায়ালা রমজানের এত মর্যদা বা সম্মান নির্ধারন করে রেখেছেন। আর আল কুরআন হচ্ছে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী একমাত্র পূণাঙ্গ জীবন বিধান। পূণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে একমাত্র আল কুরআনেই রয়েছে বিশ্ব মানবতার মুক্তির গ্যারান্টি। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনেই কুরআন সম্পর্কে এরশাদ করেন , “হুদাল লিন নাস”অর্থাৎ এই কুরআন পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য হেদায়েত বা পথ প্রদর্শক হিসেবে কেয়ামত পর্যন্ত আলো দিয়ে যাবে । আবার আল্লাহ তায়ালা একই আয়াতে এরশাদ করেন, ‘এই কুরআনই সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে দেবে। যে কোন মানুষ এ গ্রন্থ থেকে হেদায়েত বা ইহকালিন ও পরকালিন মুক্তি লাভ করতে পারবে। এই কুরআন যেমন  নিদৃষ্ট কোন জাতির বা এলাকার জন্য অবর্তীণ হয়নি তেমনি ভাবে এটা কোন নির্ধরিত সময়ের জন্যও অবর্তীণ হয়নি অর্থাৎ এই কুরআন সর্ব যুগের এবং সব মানুষের জন্যই মহা মুক্তির মহা সনদ হিসেবে পথ প্রদর্শন করে যাবে। এবং পবিত্র কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীর মানুষদের জন্য  এমনি একটি শান্তি ও রহমতের গ্রন্থ যার যথার্থ অনুস্বরণ আজো এই অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি নিশ্চিত করতে পারে। আর পবিত্র কুরআন এমনই একটি পবিত্র কিতাব যা তেলাওয়াত করলে এক অক্ষরে দশটি করে সওয়াব লাভ করা যাবে। রমজানে আরো একটি কথা আমাদের সর্বদা স্বরণ রাখা দরকার তাহলো যেহেতু মানুষ সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তাই সেই মানুষের শান্তি নিশ্চিত করতে পারেন আল্লাহ । আর আল্লাহ বলেন, তোমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি নিশ্চিত হতে পারে কেবলই আল কুরআনের পূণাঙ্গ অনুম্বরনের মাধ্যমেই। আর এই কুরআনের হিফাজত করার দায়িত্ব আল্লাহপপাক কারো কাছে অর্পন করেননি বরং আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের হেফাজত করার দায়িত্ব নিজ হাতে গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক এ সর্ম্পকে এরশাদ করেন, “নাহনু নাজালাজ জিকরা অইন্না লাহু লা হাফিজুন” অর্থাৎ আমি নিজেই এ কুরআন নাজিল করেছি আর এর হেফাজত করার দায়িত্ব ও আমি আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছি।। এ কারনেই বর্তমানে পৃথীবিতে আর অন্য কোন কিতাব অবিকৃত অবস্থায় পূর্ণ সংরক্ষিত বা হিফাজত নেই। শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাব কুরআন আজ দুনিয়াতে অবিকৃত অবস্থায় হেফাজতে আছে। আর এটা কেয়ামত পর্যন্ত হেফাজতে থাকবে কেননা মহান আল্লাহই এ কুরআনের হিফাজতকারী।  আর পবিত্র রমজানের আসল উদ্দেশ্যই হলো তাকওয়া বা খোদাভীরু লোক তৈরী করা । এবং এটাই আল্লাহর একমাত্র লক্ষ্য। আর আমরা সকলেই জানি যদি কোন ব্যক্তির মনে তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় সর্বদা জাগ্রত থাকে তবে ঐ ব্যক্তির দ্বারা গভীর অন্ধকার রাতেও একটা অন্যয় বা পাপকর্ম করা সম্ভব হবে না কেননা উক্ত  আল্লাহ ভীরু ব্যক্তি খুব ভালো ভাবেই জানবে যে, এই গভীর অন্ধকারে আমার এ পাপ কর্মটি দুনিয়ার অন্য কেউ না দেখলে ও মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন অবশ্যই দেখছেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft