মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মধু মাসে গরমে শরবতের দোকানে ভিড়
জগদীশ দাস :
Published : Thursday, 16 May, 2019 at 6:42 AM
মধু মাসে গরমে শরবতের দোকানে ভিড়ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ঋতুচক্রে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ ইতিমধ্যেই তার আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে অবস্থান জানান দিচ্ছে। অন্য বছর এসময় হালকা ঝড় বৃষ্টি থাকলেও এবার  প্রকৃতিতে বিরাজ করছে অসহনীয় তাপ আর দুঃসহ গরম। এই গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। দিন রাত অসহনীয় তাপ আর গরমে মানুষ এবং প্রাণিকূলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যশোরে কয়েকদিন একটানা তাপ এবং অব্যাহত গরমে মানুষ উন্নত প্রযুক্তির আশ্রয়  নিলেও তাতে প্রশান্তি মিলছে না। ধনী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা এসবের ব্যবস্থা নিলেও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবন ধারণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে তাপমাত্রা শুরু হয়। চলতে থাকে সন্ধ্যা অবধি। রাতেও তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় না। প্রকৃতি এ ঋতুতে বিভিন্ন রসালো ফলের সম্ভার নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। মানুষ এগুলোর স্বাদ নিয়ে পরিতৃপ্ত হতে চেষ্টা করে।
বেশ কয়েকদিন যাবত যশোর ও আশেপাশের এলাকায় প্রচন্ড রোদ আর গরমের উপস্থিতি রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফলের শরবত। মানুষ বিভিন্ন ফলের শরবত পান করে কিছু সময়ের জন্যে হলেও পরিতৃপ্ত হতে চেষ্টা করছে। এর মধ্যে পেঁপের শরবত, লেবুর শরবত প্রভৃতি। বিভিন্ন ধরনের শরবত বিক্রি হলেও লেবুর শরবতের চাহিদা সব থেকে বেশি। শহরের বিভিন্ন জনবহুল স্থানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় শ’ খানেকেরও বেশি বিক্রেতা শরবত বিক্রি করছেন। আর ক্রেতারা একটু পিপাসা মেটাবার জন্যে এসব দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। বরফ মেশানো ঠান্ডা শরবত পান করে ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন যত ক্লান্তি। সব ধরনের সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে বিক্রেতাদের যেন দম ফেলার অবসর নেই। রমজানের কারণে সারা দিনে বিক্রি একটু কম হলেও সন্ধ্যার পর থেকে এ ভিড় আরো বাড়তে থাকে। মজাদার শরবত তৈরি করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। শহরের দড়াটানা, টাউনহল ময়দান, কালেক্টরেট মার্কেটের সামনে, মণিহারের সামনে, টার্মিনাল এলাকা, রেলস্টেশন, চিত্রার মোড়, রেলগেট এলাকা প্রভৃতি স্থানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শরবত বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। বছরের অন্য সময় এর বিক্রি না থাকলেও গরমের এ সময়টাতে শরবতের চাহিদা থাকে সবকিছুর উপরে। প্রতি গ্লাস শরবত বিক্রি হচ্ছে রকম ভেদে পাঁচ, ১০ এবং ১৫ টাকায়। ক্রেতারা অনেক সময় এক গ্লাস পান করেই ক্ষান্ত দিচ্ছেন না। কোনো কোনো ক্রেতা এক সাথে দু’ থেকে তিন গ্লাস শরবত পান করছেন। বিক্রেতারা খুশি মনে শরবত তুলে দিচ্ছেন। দেশি কাগুজি লেবু, তুকমার দানা, ইসবগুলের ভূষি, চিনির পানি,বিট লবণ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে এই শরবত। পাঁচ টাকার এক গ্লাস শরবতে থাকছে লেবু, বরফ, চিনির পানি ও বিট লবণ। ১০ টাকার গ্লাসে থাকছে লেবু,বরফ, চিনির পানি, বিট লবণ, ট্যাং, তুকমার দানা ও ইসব গুলের  ভূষি এবং ১৫ টাকার শরবতে রয়েছে অন্যান্য উপাদানের পাশাপশি বড় একটা ট্যাং।
মৌসুমের শুরুতে তেমন একটা বিক্রি না হলেও এখন বেশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন মায়ের দোয়া, ভাই ভাই ও মামা ভাগ্নে শরবতের স্বত্বাধিকারীরা। প্রতিদিন প্রায় দু’ থেকে ২শ’৫০ গ্লাস বিক্রি করছেন বলে জানালেন শরবত বিক্রেতা আলতাফ হোসেন। অনেক রোজাদার ইফতারের আগেও  বোতলে করে শরবত নিয়ে যাচ্ছেন বলে তারা জানালেন । প্রতি  আধা লিটার বোতল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সব ধরনের মানুষের শরবতের প্রতি আগ্রহ থাকলেও সাধারণত খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশা চালক, ভ্যান চালকরা দোকানে ভিড় করছেন। কালেক্টরেট মার্কেটের সামনের একটি দোকানের সামনে থেকে আলী  হোসেন নামে এক রিকশাচালক শরবত পান করছিলেন। তিনি বলেন, গরম শুরু হতেই তিনি প্রতিদিন, দু’ একবার শরবত পান করেন। তাতে কিছু সময়ের জন্যে হলেও গরম কম লাগে বলে তিনি বলেন। সারাদিন ভিড় একটু কম থাকলেও ইফতারির পর তা আরো বেড়ে যায়। আব্দুল কাদের নামে একজন বলেন, ইফতারির পরপরই তিনি এক গ্লাস শরবত পান করার জন্যে চলে আসেন। এতে সারাদিনের ক্লান্তি একটু হলেও কম লাগে তার কাছে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft