সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোর নার্সিং ইনস্টিটিউট
টাকা নেই, মার্কশিটও নেই!
আশিকুর রহমান শিমুল :
Published : Thursday, 16 May, 2019 at 6:42 AM

টাকা নেই, মার্কশিটও নেই! ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে যশোর নার্সিং ইনস্টিটিউটের ১শ’ ১ জন শিক্ষার্থী। ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্স সম্পন্ন হলেও মার্কশিট পাননি একাধিক শিক্ষার্থী। সরকারিভাবে তাদের বিনামূল্যে মার্কশিট সরবরাহের নির্দেশ থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানে চলে ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্পের নিজস্ব আইন।
গত ১২ মে সকালে ইনস্টিটিউটে যায় মিডওয়াইফারির এক শিক্ষার্থী মার্কশিট তুলতে। এ সময় পুষ্প সরাসরি জানিয়ে দেন আট হাজার টাকা ছাড়া কোনো মার্কশিট দেয়া যাবে না। ওই শিক্ষার্থী পুষ্পের কাছে অনুরোধ করে জানান, তার পরিবারের পক্ষে আট হাজার টাকা দেয়া সম্ভব না। এক পর্যায়ে পুষ্প ইনস্টিটিউটের হিসাব রক্ষক আব্দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন টাকা ছাড়া যেন কোনো শিক্ষার্থীকে মার্কশিট না দেয়া হয়। ওই শিক্ষার্থী একাধিকবার আব্দুল কাদেরকে অনুরোধ করেন মার্কশিট দেয়ার জন্যে। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি।
নার্সিং সূত্র জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে যশোর নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করেছেন ৭৮ জন শিক্ষার্থী এবং মিডওয়াইফারিতে ২৩ জন। এসব শিক্ষার্থীর মার্কশিট বিনামূল্যে দেয়ার কথা, কিন্তু ইনচার্জ পুষ্প শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছেন আট হাজার করে টাকা। সকল নার্সিং প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এ, বি ও সি তিনটি গ্রেডে মেধার মূল্যায়ন করা হয়। অথচ যশোর নার্সিং ইনস্টিটিউটের সকল শিক্ষার্থী সব সময় ‘এ গ্রেড’ পেয়ে থাকে। কেননা এখানে ইনচার্জ পুষ্প মেধা নয় টাকায় মার্কশিট দিয়ে থাকেন। এতে সেবিকা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না।
আবার, একাধিক শিক্ষার্থীর বক্তব্য, তাদের পরিবার খুব দরিদ্র। তাদের টাকা দেয়ার মতো ক্ষমতা নেই। তারা একাধিকবার হিসাব রক্ষক আব্দুল কাদেরের কাছে গিয়ে ফিরে এসেছেন। কাদেরের এক কথা পুষ্পের নির্দেশ টাকা ছাড়া মার্কশিট দেয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুষ্পের সকল অপকর্মের সহযোগী হচ্ছেন আব্দুল কাদের।
ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর দু’একবার করে ইনচার্জ পুষ্পের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। কিন্তু কোনোদিন শাস্তি হতে দেখেনি। বারবার টাকার জোরে তিনি আইনের ফাঁক থেকে বের হয়ে যান। ইনস্টিটিউটে তদন্তের নাটক এখন হাস্যকর। বড় স্যাররা আসেন টাকা খান আবার মুখ বন্ধ করে চলে যান। ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রী সেবিকারা অতি দ্রুত ইনচার্জ পুষ্পের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে ইনচার্জ পুষ্পের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft