মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
৬ জনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ
যশোরাঞ্চলে ডাকাতির সাথে সংশ্লিষ্টতার খোঁজ, ৫ জনের স্বীকার
অভিজিৎ ব্যানার্জী :
Published : Friday, 17 May, 2019 at 6:25 AM

যশোরাঞ্চলে ডাকাতির সাথে সংশ্লিষ্টতার খোঁজ, ৫ জনের স্বীকারযশোরাঞ্চল ও আশেপাশের জেলাগুলোতে ঘটে যাওয়া ডাকাতিগুলোর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত অভিযোগে আটক ১১ জনের মধ্যে ৬ জনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। একই সাথে কয়েকটি ডাকাতি ঘটনায় জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে ৫ জন। পুলিশ  পাকড়াও হওয়া ১১ ডাকাতের সাথে এ অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সবগুলো ডাকাতি ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার খোঁজ করছে। ডাকাতিগুলোতে শুধু ওই ১১ জন নয় আরও ৭/৮ জন জড়িত বলে তথ্য মিলেছে। সে ব্যাপারে তদন্ত ও আটক অভিযান চলছে।
চলতি মাসে যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা সাতমাইল বাতানবাড়ি মহাশ্মশান ঘাট এলাকায় ৯ ট্রাকে গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এরপর যশোরের চুড়ামনকাটি এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া মণিরামপুর, রাজগঞ্জ ও যশোর মাগুরা রোডে আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে গত ১ মে দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাজুয়াডাঙ্গা সাতমাইল বাতানবাড়ি মহাশ্মশান ঘাটের সামনে মেহেগনি গাছ ফেলে ৯টি ট্রাকে ডাকাতির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই দিন ১২/১৪জন ডাকাত হাতে লাঠি ও সশস্ত্র অবস্থায় তার ট্রাকের কাছে আসে। ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার বাতানগাছী গ্রামের বর্তমানে যশোর শহরের মোল্লাপাড়া বাঁশতলা মসজিদ এলাকার রাশিদা বেগমের বাড়ির ভাড়াটিয়া হোসেন আলীর ছেলে ট্রাক চালক বাবুল হোসেন ভূক্তভোগীদের পক্ষে কোতোয়ালী মডেল থানায় এজাহার দেন। ওই মামলায় বলা হয় তার ট্রাক কুষ্টিয়া ট-১১-০৩৫৪)সহ একে একে (যশোর ট- ১১-৪৭২২) ট্রাকের চালক তাজামুল, (যশোর ট- ১১-২১৭৫) এর চালক উজ্জল হোসেন, (যশোর ট- ১১-২৩৫৭) এর চালক খায়রুল, (যশোর ট-১১-৩৯৭৭) এর চালক রবিউল ইসলাম, (যশোর ট-১১-২০১১) এর চালক পলাশ, (ঢাকা মেট্টো ট-২০-৫৯৬৫) এর চালক মনোয়ার হোসেন, (যশোর ট-১১-১১৭৩) এর চালক মনিরুল ও (কুষ্টিয়া ট- ১১-১৩৯৬) এর চালক হারুনকে জিম্মি করে ডাকাতি চলে। এঘটনা নিয়ে দৈনিক গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর পুলিশও নড়েচড়ে বসে। সংঘবদ্ধ ডাকাত দলকে ধরতে পুলিশ সোর্স নিয়োগ করে। এক পর্যায়ে ১৩ মে রাতে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি ও কোতোয়ালী থানা পুলিশ তথ্য পায় যশোর মাগুরা রোডের নোঙ্গরপুরে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার খবরে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাতরা গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। গোলাগুলিতে পড়ে মণিরামপুরের মোস্ট ওয়ান্টেড ডাকাত আবুল কাসেম নিহত হয়। ওই রাতেই পুলিশের কয়েকটি টিম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করে ১১ ডাকাতকে। এরা হচ্ছে খুলনা ডুমুরিয়ার চাকুন্দিয়া দক্ষিণপাড়ার শওকত গাজীর ছেলে শাহিনুর রহমান, চুকনগর দক্ষিণপাড়ার আব্দুল কাদের গাজীর ছেলে শহিদুল গাজী, পুটিমারির খোকাদাসের ছেলে ধনি রাম দাস, উত্তরবেত গ্রামের মোজাহার গাজীর ছেলে আজিবর গাজী, চাকুন্দিয়ার আনসার আলী শেখের ছেলে আলী শেখ ওরফে বাবু ও সাতক্ষীরা শ্যামনগরের নকিপুরের শেখ মনির উদ্দিনের ছেলে ওহিদুজ্জামান ওরফে বাবু। যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিঙ্গার হারুন বিশ্বাসের ছেলে আসলাম বিশ্বাস, মণিরামপুরের মথুরাপুরের আকবর বিশ্বাসের ছেলে আলম হোসেন ওরফে ইমরান, ইত্তা মাঠপাড়ার আব্দুল করিমের ছেলে সাইফুল, খুলনা পাইকগাছার গোপালপুরের সামসুদ্দিন গাজীর ছেলে মিজানুর রহমান গাজী ও মণিরামপুর মথুরাপুরের আলা উদ্দিন গাজীর ছেলে মিজানুর রহমান মিন্টু। এদের আদালতে সোপর্দ করা হলে শাহিনুর রহমান, শহিদুল গাজী, ধনি রাম দাস, আসলাম বিশ্বাস ও আলম হোসেন ওরফে ইমরান কয়েকটি ডাকাতির দ্বায় স্বীকার করেছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার আমিরুজ্জামান গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন। তিনি জানান বাকি ৬ জনে ৭ দিনে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ডাকাতি ঘটনায় ওই ১১ জন ছাড়াও আরও ৭/৮ জন জড়িত বলে তথ্য পেয়েছেন। সবগুলো ডাকাতিতে এদের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা খোঁজ নেয়া হচ্ছে। ডাকাতির সাথে জড়িত সবাইকে একেএকে আটক করা হবে। এছাড়া ৬ জনের রিমান্ড মঞ্জুর হলে ডাকাতি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft