সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যস্ততা বেড়েছে ছিট কাপড়ের দোকানে
মিনা বিশ্বাস :
Published : Friday, 17 May, 2019 at 6:25 AM
ব্যস্ততা বেড়েছে ছিট কাপড়ের দোকানেএকটি বড় উৎসবে নিজেকে সাজাতে মূল ভাবনায় থাকে পোশাক। একটি সুন্দর পোশাক উৎসবকে পরিপূর্ণতা দেয়। বাড়িয়ে দেয় উৎসবের আনন্দ। আর তাই সারা বছরের অন্য সময়ের চেয়ে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে কেনাকাটায় মানুষের আগ্রহ ও ব্যস্ততাও থাকে বেশি। আর বানানো পোশাকে স্বচ্ছন্দ যারা ঈদে সুন্দর একটি পোশাকে নিজেকে সাজাতে তারা খোঁজ করছেন ছিট কাপড়ের দোকানগুলোতে। বিক্রিও বাড়ছে এসকল ছিট কাপড়ের দোকানে। আর তাই ঈদ উপলক্ষে এসময়ে যশোরের বিপণীবিতানগুলোতে হরদম বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ছিট কাপড়।  
রমজানের এক একটি দিন যাচ্ছে আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কেনাকাটার ব্যস্ততা। ঈদে একটি সুন্দর পোশাকের জন্যে দোকান ঘুরে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সেরা কাপড়টাই বেছে নিতে চেষ্টা করছেন কিশোরী, তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী নারীরা। রেডিমেড পোশাকের মাপজোক পছন্দ নয় অনেকেরই। তাই পছন্দ অনুযায়ী ডিজাইন ও মাপজোকের পোশাকের ওপর ভরসা যাদের, তাদের আস্থা ছিট কাপড় দিয়ে তৈরি বানানো পোশাকেই। আর তাদের কথা মাথায় রেখেই এবং সাধ ও সাধ্যর মধ্যেই বাজারে এসেছে বাহারী রঙ, নকশা ও দামের ছিট কাপড়। বানানো পোশাকের উপর যারা নির্ভর করেন তারা এসকল কাপড়ের মাঝ থেকেই বেছে নিচ্ছেন নিজের পছন্দের কাপড়টি। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সব ধরনের ক্রেতাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাজারে মিলবে বিভিন্ন দামের ছিট কাপড়। সুতি, সিনথেটিক, জর্জেট, লিলেন, অরগেন্ডিসহ বিভিন্ন কাপড়ের নকশায়ও যেন উৎসবের ছোঁয়া। ঈদ উপলক্ষে যশোরের বিভিন্ন বিপণীবিতানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বাহারী সব ছিট কাপড়। এবারের ঈদ পড়ছে বেশ গরমের মধ্যে। তাই ক্রেতাদের পছন্দ হালকা রঙের মধ্যে অভিজাত ছিট কাপড়।
বাজারে সুতি ভয়েল কাপড় পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫৫টাকায়। সুতি প্রিন্টেড ৬০টাকা থেকে ৬৫টাকা। গ্রামীণ চেক পাওয়া যাচ্ছে ৮০টাকা থেকে ১শ’ ৮০টাকায়। ইন্ডিয়ান প্রিন্টেড কাতানের ওপর জরি, ইয়ক, পাড় ও মেটালিক কাজের কাপড় ১শ’২০টাকা থেকে ৪শ’ ২০টাকা। ইন্ডিয়ান সিল্ক ২শ’ ২০টাকা গজ। নেটের ওপর পুঁতি, স্টোন, ইয়ক ও বিভিন্ন মেটালিক কাজের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ২শ’ ২০টাকা থেকে সর্র্বোচ্চ ১হাজার ৮শ’ টাকায়। কাশ্মিরি জর্জেট ৬শ’ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০টাকা। টিস্যু কাতান ১শ’ ৬০টাকা থেকে ১শ’ ৮০টাকা। লামা কাতান প্রতি গজ ৯০ থেকে ১শ’ ৫০টাকা। প্রিন্টের জর্জেট ১শ’৫০ থেকে ১শ’৭০টাকা।
এইচএমএম রোডে আসা ক্রেতা সাবিনা খুঁজছিলেন প্রিন্টেড স্লাব কটন। তিনি বলেন, এ কাপড়টি বর্তমানে বেশ চলছে। আর গরমে বেশ আরামদায়কও। তাই ভাবছি পছন্দ হলে এর মধ্যে থেকেই কিনে নেব। আরেক ক্রেতা রূপা বলেন, নেটের ওপর কাজের কাপড় দেখছি। বাজারে অনেক ধরনের নেটের কাপড় এসেছে। হালকা রঙের মধ্যে থেকে যেটা পছন্দ হবে কিনে নেব। অন্যদিকে এক রঙা লিলেন কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ১শ’ ৪০টাকা গজ দরে। প্রিন্টেড লিলেন পাওয়া যাচ্ছে ১শ’ ৭০টাকায়। এক রঙা স্লাব কটন প্রতি গজ ১শ’ ৫০টাকা। প্রিন্টেড স্লাব কটন ১শ’ ৭০টাকা গজ। বিভিন্ন রঙের চিকেন কাপড় মানভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি গজ সর্বনিম্ন ৫শ’ ৮০টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬শ’ ৩০টাকা গজ। সামু সিল্ক প্রতি গজ এক রঙা ১শ’ ৪০টাকা, প্রিন্টেড ১শ’ ৮০টাকা গজ। অরগেন্ডি প্রতি গজ ১শ’ ২০টাকা থেকে মানভেদে ৬শ’ ৫০টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন ধরনের নকশার চায়না নেট কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৬শ’ টাকায়। এইচএমএম রোডের বিশ্বাস টেক্সটাইলের বিক্রেতা রাব্বি বলেন, দু’ তিনদিন হলো ছিট কাপড়ের বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই এসব কাপড়ের বিক্রি বাড়ছে। ১৮ রোজা পর্যন্ত এসব ছিট কাপড়ের বিক্রি চলবে। অন্যবার রোজার প্রথম থেকেই এমনকি রোজার আগে থেকেও ছিট কাপড়ের বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু এবারে জেলা পরিষদের মেলার কারণে আমাদের বিক্রিতে বেশ খানিকটা প্রভাব পড়ছে। সারা বছর আমরা এ সময়টার জন্যে অপেক্ষা করি। এবারে আশানুরূপ ব্যবসা হবে না। তাছাড়া এসব মেলা থেকে কোনো ভ্যাট ট্যাক্সওতো আসে না। কিন্তু আমরা ঠিকই ভ্যাট ট্যাক্স দিয়েই ব্যবসা করি। প্রশাসনের উচিত হয়নি এসময়ে মেলার অনুমতি দেয়া। বিক্রি বিষয়ে একই কথা বলেন এইচএমএম রোডের জয় ক্লথ স্টোরের বিক্রেতা সাব্বির। তিনি বলেন, ছিট কাপড়ের বিক্রি যা হচ্ছে অন্যবার এসময়ে এর চেয়ে বেশি বিক্রি করি আমরা। মেলার কারণে বিক্রি খানিকটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রশাসন মেলা বন্ধ করে দিলে আমরা উপকৃত হব। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft