বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Friday, 17 May, 2019 at 6:53 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজান কুরআন নাযিলের মাস মাহে রমাজান। রাসুল (স.) এরশাদ করেন,তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করল এবং অপরকে শিক্ষা দিল। কিন্তু আমরা কি করছি? আমারা না নিজেরা কুরআন শিক্ষা করার চেষ্টা করছি না অন্যকে শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করছি। আমাদের দেশে যে দ্বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা বিরাজমান তাতে প্রকৃত কোন শিক্ষাই  আমরা অর্জন করতে পারছি না। আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকায় সেখানে আল্লাহ ও রাসূল (সা) কে চেনার বা জানার কোন ব্যবস্থা নেই। ঠিক অপর দিকে কুরআন হাদীস শিক্ষার নামে যে শিক্ষা ব্যবস্থা বিরাজমান সেখানে বাস্তব দুনিয়া সম্পর্কে জ্ঞান দান করার কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে সে সমস্ত মাদরাসা থেকে যারা শিক্ষা শেষ করেছে তারা সমাজের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব দেয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করতে পারছেনা। তাই আজ দাবী উঠেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ এই মুসলিম দেশে একক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের। যে শিক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রী প্রকৃত মুসলমান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। মাহে রমজানের আজ দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হলো। আর এ অধ্যায় বা পর্বের নাম হলো মাগফিরাত। রমজানের ফজিলাত সর্ম্পকে সবচেয়ে বেশী আলোচিত হাদিসটি আজ আমি প্রিয় পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরছি, হযরত আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্নিত আছে,তিনি বলেন,রাসুল্লুাহ (স:) বলেছেনঃ বনি আদমের প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ তায়ালা দশ গুন থেকে সাত শত গুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন,কিন্তু রোজার ব্যাপারে ব্যতিক্রম হবে। কেননা আল্লাহ বলেন ,আমার বান্দাহ আমার সন্তোষ্টির জন্য রোজা রেখেছে এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব, কেননা আমার বান্দাহ আমার কথামত খানা-পিনা ও কামনা-বাসনা ত্যাগ করেছে। তিনি আরো বলেন, রোজাদারদের জন্য দু’টি খুশীর মুহুর্ত আছে। তার একটি হলো রোজাদার যখন ইফতারী করে আর একটি হলো রোজাদার বান্দা যখন জান্নাতে আল্লাহর সাথে মহা দীদার বা সাক্ষাত লাভ করবেন। একই হাদিসে আল্লাহর রাসুল আরো বলেন, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের চেয়েও উত্তম। আর রোজা হলো শয়তানের হাত থেকে নিজেকে রক্ষার ঢাল। অতএব তোমরা যখন রোজা রাখবে তখন তোমারা অশ্লীল কথা বা কাজ করবে না এমনকি তোমাদের রোজা অবস্থায় যদি কেউ তোমাদের গালাগালি করতে আসে বা ঝগড়া করতে আসে তবে তোমরা বলবে আমি একজন রোজাদার (বুখারী-মুসলীম)এ হাদিস থেকে খুব ভালভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, রোজাদার উম্মতদের জন্য পূরষ্কার আল্লাহ তায়ালা নিজেই। অর্থাৎ রোজাদার বান্দার জন্য আল্লাহই পুরষ্কার। আর রমজান হলো আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতে ধন্য ও রহমত,বরকত ও মাগফিরাতের বাণীতে শিক্ত । আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,রোজা একজন রোজাদারকে তাকওয়ার বা খোদাভীরুতার পথে অগ্রসর করতে পারে যদি উক্ত রোজাদার রোজার হক আদায় করে রোজা পালন করতে পারে। নবী মুহাম্মাদ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালামের হিজরতের দ্বিতীয় সালে মুসলমানদের উপর এক মাস সিয়াম ফরয করা হয়। ধন ও মালের যেমন যাকাত আদায় করতে হয় ঠিক তেমনি সিয়াম শরীরের যাকাত স্বরূপ। ইবনে মাজাহ ও মেশকাত শরীফে বর্ণিত আছে যে, প্রত্যেক বস্তুর যাকাত (পরিশোধক) রয়েছে, আর দেহের যাকাত হল ‘সিয়াম’। সিয়াম দ্বারা মানুষ শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করবে এটাই ইসলামের শিক্ষা। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মায়া, মাৎসর্য এই ষড় রিপুকে নিয়ন্ত্রিত করাই সিয়ামের বিশেষ উদ্দেশ্য। এই ষড় রিপুই মানুষের উন্নতির প্রধান অন্তরায়। ষড় রিপু দমন করা ইসলামের শিক্ষা নয় বরং এ গুলোকে নিয়ন্ত্রিত করাই ইসলামের শিক্ষা। এই রিপু দমনের জন্যে খৃষ্টান, বৌদ্ধ ও হিন্দুদের মধ্যে বিবাহ না করে বা সংসার ত্যাগ করে বনে জঙ্গলে বাস করবার মত কষ্টসাধ্য রীতি চালু আছে। ইসলাম ষড় রিপুকে বস্তুত শরীরের দাবী বলে স্বীকার করে কিন্তু এর দমন নয় বরং শরীয়তের সীমার মধ্যে এর নিয়ন্ত্রণ করাই কর্তব্য বলে মনে করে। এগুলোর ন্যায় সংগত চাহিদা পূরণের দ্বারা মানব জীবন সুন্দর,  মার্জিত ও উৎকর্ষ মন্ডিত হয়। এগুলোর চরম স্বল্পতা জীবন কে স্থবির, পঙ্গু ও অথর্ব করে দেয়। আবার এ সবের ব্যাপারে অত্যাধিক বাড়াবাড়ি জীবনকে লাগামহীন ও বেপরোয়া করে তুলে এবং পশুত্বের দিকে ঠেলে দেয়। ইসলাম চারটি মৌলিক চাহিদার বিজ্ঞান সম্মত ও ন্যায় সঙ্গত বাস্তবায়নের দ্বারা মানব চরিত্রকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে আগ্রহী এবং এ কাজে সিয়ামের ভূমিকা সর্বাধিক।পবিত্র রমজান আমাদের মাঝে আসলে সমাজ জীবনেও একটা পবিত্রতার ছোয়া দেখা যায়। মাহে রমজান আসলে আমরা আল্লাহর ইবাদতে বেশী করে মাশগুল থাকি এবং আল্লাহর ভয়ে সকল প্রকার গোনাহ থেকে আমরা যথাসাধ্য বিরত থাকি। আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে রোজা আমাদের জন্য একটা মহা নেয়ামত। আর আল্লাহর দেয়া এই মহা নেয়ামতকে আমাদের অবশ্যই এই মাহে রমজানে কাজে লাগাতে হবে। তবেই জাহান্নাম থেকে নাজাতের এবং মহান জান্নাতের ঠিকানা আমরা খুজে পাব।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft