বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯
সারাদেশ
রেলের জায়গা দখল করে প্লাটফর্মে টং দোকান
হবিগঞ্জ সংবাদদাতা :
Published : Friday, 17 May, 2019 at 2:06 PM
রেলের জায়গা দখল করে প্লাটফর্মে টং দোকানহবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেল স্টেশনটি এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে গেছে। প্রতিদিন দখল হয়ে যাচ্ছে রেলের জায়গা। এমনকি প্লাটফর্মেও বসেছে অবৈধ টং-এর দোকান।
প্লাটফর্মের ভেতরে বসার ও হাটা-চলার জায়গায় রাখা হয়েছে এসব দোকানের মালামাল। এতে করে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার মনতলা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। উপজেলার অন্তত ৩০/৪০টি গ্রামের কয়েক হাজার জনসাধারণ এই স্টেশনটি দিয়ে নিয়মিত ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন।
এই স্টেশনটিতে আন্তঃজেলা জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসসহ প্রতিদিন ৪টি ট্রেন ৮ বার যাত্রাবিরতি করে। অথচ এই স্টেশনটির প্লাটফর্মে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি টং দোকান। আবার যাত্রীদের বসার ও হাটা-চলার জায়গায় দোকানের মালামাল রেখে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রতিবন্ধকতা।
শুধু প্লাটফর্মই নয়, রেল লাইনের বিভিন্ন জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। অথচ রেল কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, স্টেশন মাস্টার আব্দুল মন্নানের যোগ সাজসে ও কমিশন দিয়েই গড়ে উঠেছে এসব স্থাপনা। যার ফলে রেল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা তনু মিয়া বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্লাটফর্মের উপরে অবৈধভাবে টং দোকান বসিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ রেল কর্তৃপক্ষ তাদের উচ্ছেদ করছেন না।
তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে আরো বলেন, ট্রেন আসলে যাত্রী উঠানামায় তাড়াহুড়া লেগে যায়। এর মধ্যে এসব টং দোকান ও তাদের রাখা মালামালের কারণে যাত্রীদের আরো বড় সমস্যা হচ্ছে। কেউ কিছু বললে তারা (অবৈধ দখলদার) ঝগড়া লেগে যায়।
স্টেশনে বসা যাত্রী মো. রহমত আলী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ব্যবসার কারণে আমি নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করি। কিন্তু এই স্টেশনটির অবস্থা খুবই খারাপ। যেখানে সেখানে নিজেদের ইচ্ছে মতো দোকান বসিয়ে রেখেছে লোকজন।
প্লাটফর্মের ভেতরে ও হাটা চলার রাস্তায় রাখা হয়েছে মালামাল রেখে দিয়েছে। অথচ রেল কর্তৃপক্ষ কোন প্রতিকার করছেন না। অনেক সময় রেল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অভিযোগ দিলে উল্টো তারা (রেল কর্তৃপক্ষ) আমাদেরকেই বিভিন্ন কথা শুনায়।
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ মিয়া বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমরা কিছু বললে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয়। যাত্রীদের সাথে অবৈধ দখলদাররা অনেক সময় ঝগড়া লেগে যায়। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ কিছুই বলে না।
এ ব্যাপারে স্টেশন মাস্টার আব্দুল মন্নান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমি অনেকবার তাদেরকে এখান থেকে সরে যেতে বলেছি। এছাড়া চলাচলের রাস্তায় যেন মালামাল না রাখে সে জন্যও বলেছি। কিন্তু তারা আমার কথা শুনে না।
তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে আরো বলেন, আমি আর একবার বলব, এরপরও যদি তারা না সরে তাহলে আমি প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।
তাকে কমিশন দিয়ে এসব টং দোকান প্লাটফর্মের উপর বসানো হয়েছে... এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিত্যে কথা। আমি কোন দোকান থেকে কমিশন নেই না।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft