সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Sunday, 19 May, 2019 at 6:58 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজানরোজা ছাড়া অন্যান্য যে সকল ইবাদাত আছে,তা পালন করার জন্য কোনো না কোন ভাবে বাহ্যিক প্রকাশের আশ্রয় নিতে হয়। কিন্তু রোজার কথা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।এমনকি একজন ব্যক্তি যদি সকলের সামনে সেহেরী খায় এবং সকলের সামনে ইফতারী করে আর দিনের বেলায় গোপনে কিছু খায় বা পান করে তবে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না । এমনকি তাকে অন্যন্য সকলেই রোজা দার বলে জানলেও সে আসলে রোজাদার নয় এবয় তা জানে কেবর আল্লাহ তায়ালা।আর এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন , রোজা আমার জন্য আর আমিই এর পূরস্কার প্রদান করব। আর তাই অন্যান্য উবাদতের চেয়ে রেজার মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়। কেননা একজন রোজা দার যখন ক্ষুদা ও পিপাসায় তার প্রান যায় অবস্থা তখনও সে আল্লাহর ভয়ে কোন খাবার এমনকি সকলের চোখের অগচরে ও সে এক ফোটা পানি পান করে না। কারণ সে জানে দুনিয়ার কেউ না দেখলেও মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন অবশ্যই দেখছেন। আর রোজা আসলে মুসলমানদের এই অনুভূতি শিক্ষা দেওয়ার জন্যই এসেছে। আর আল্লাহর ভয় জাগানোর জন্যই আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এ রোজার আয়োজন।  প্রকৃতপক্ষে মাহে রমজানের পবিত্রতা ও গাম্ভির্যতা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানেরই দায়িত্ব। আল্লাহর নবী (স:) রমজানের মাস আসলে খুব বেশী করে ইবাদতে মশগুল থাকতেন। আল্লাহর রাসুল (স:) আরো এরশাদ করেন ,রমজান মাসের আমলকে আল্লাহ তায়ালা দশ গুন থেকে সাত শত গুন বৃদ্ধি করে থাকেন। একটি হাদিসে রাসুল (স:) এরশাদ করেন,আল্লাহ তায়ালা বনী আদমের নেক আমলকে সাত শত গুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন কিন্তু রমজান তার ব্যতিক্রম কেননা রমজান সম্পর্কে আল্লাহ তাযালা এরশাদ করেন , রোজা শুধু আমার জন্য আর আমিই রোজাদারের পুরস্কার দান করব। হাদিসে আরো এরশাদ করা হয়েছে ,রোজাদারের পুরষ্কার আমি আল্লাহ তায়ারা নিজ হাতে দান করব। উক্ত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসুলকে জানিয়ে দিয়েছেন ,হে রাসুল (স:) আপনি  আপনার উম্মতকে জানিয়ে দিন,আপনার রোজাদার উম্মতদের জন্য পূরষ্কার আমি আল্লাহ তায়ালা নিজেই। অর্থাৎ রোজাদার বান্দার জন্য আল্লাহই পুরষ্কার।   আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে রোজা আমাদের জন্য একটা মহা নেয়ামত। আর আল্লাহর দেয়া এই মহা নেয়ামতকে আমাদের অবশ্যই এই মাহে রমজানে কাজে লাগাতে হবে।  তাকওয়ার ঈমান লাভ করাই হলো রোজার সবচেয়ে রড় উদ্দেশ্য। আর এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই তো রোজার আগমন। রোজা শুধুমাত্র না খেয়ে উপবাস পালন করার নাম নয়। এ ব্যপারে আল্লাহর রাসুল (স) এ হাদিসটি এরশাদ করেন, হযরত আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্নিত আছে,তিনি বলেন,রাসুল্লুাহ (স:) বলেছেন, যে রোজাদার ব্যক্তি মিথ্যা কথা আর মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করতে পারলো না তার খানাপিনা ত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই-(বুখারী) ।   আর রোজার সেই উদ্দেশ্য সর্ম্পকে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, আল্লাহ রব্বুল আলামিন কুরআনে এরশাদ করেন, ‘ইয়া আয়্যুহালালিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলালাজিনা মিন ক্ববলিকুম লায়্লাাকুম তাত্তাকুন’। অর্থাৎ ‘হে ঈমানদার বান্দারা ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ,যেন তোমরা তাকওয়া বা খোদাভিরুতা অর্জন করতে পার।   রোজা যে তাকওয়া অর্জন উদ্দেশ্যে সেই তাকওয়া আসলে কি? হযরত উমর (রা:) একবার হযরত উবায় ইবনে কাব (রা:)কে জিঙ্গাসা করলেন, তাকওয়া আসলে কি? তিনি উত্তরে বললেন,হে উমর কাঁটা যুক্ত পথে অতি সর্তকতার সাথে পথ চলাই হলো তাকওয়া। অর্থাৎ দুনিয়ার সকল শয়তানী মত পথ বাদ দিয়ে শয়তানের সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে আল্লাহর পথে নিজের জীবন পরিচালনা করাই হলো তাকওয়া। তাইতো আল্লাহ পাক বলেন,যদি খোদাভীরুতা অর্জন না করা যায় ,আল্লাহর প্রিয় না হওয়া যায়  তবে এমন রোজাদার ব্যক্তির শুধু খানাপিনা ত্যাগে আল্লাহর কিছু আসে যায় না।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft