শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯
জাতীয়
‘আদালতের নির্দেশনা সংবাদমাধ্যমের জন্য বড় হুমকি’
ঢাকা অফিস :
Published : Sunday, 19 May, 2019 at 12:56 PM
‘আদালতের নির্দেশনা সংবাদমাধ্যমের জন্য বড় হুমকি’বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন বিচারাধীন মামলার খবর প্রকাশ না করার জন্য সুপ্রীমকোর্টের অনুরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সাংবাদিকরা নেতারা বলেছেন, এ ধরণের অনুরোধ বস্তুনিষ্ঠ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করবে।
আইনজীবীদেরও অনেকে বলেছেন, খবর প্রকাশ না করার অনুরোধ সাধারণ মানুষেরও অধিকার খর্ব করবে।
গত ১৬ই মে সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রশাসন শাখা থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিচারাধীন মামলার খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়।
বিচারাধীন কোন বিষয়ে খবর পরিবেশন করা যাবে না, সুপ্রীমকোর্টের এমন অনুরোধ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। সরকার সমর্থক সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলছিলেন, সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশনা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, সেজন্য তারা এর প্রত্যাহার দাবি করেছেন।
‘আমরা মনে করি সাংবাদিকতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা সরকার ঘোষিত তথ্য অধিকার আইনের সাথে এটা সাংঘর্ষিক। এই নির্দেশনার কারণে বস্তুনিষ্ঠ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়বে বলে আমরা মনে করি। তাই আমরা এই নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’
আইনজীবীদেরও অনেকে সুপ্রীমকোর্টের এমন অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারাও মনে করেন, এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বাধা সৃষ্টি করবে।
সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন বলছিলেন, বিষয়টি সাধারণ মানুষের অধিকারও খর্ব করে। কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া সংবিধানের এই অধিকার খর্ব করা যায় না বলে তিনি মনে করেন।
‘সংবাদমাধ্যমের জন্য এটা অবশ্যই একটা বড় হুমকি। প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই একটা বড় সমস্যা এবং আমাদের অধিকার লঙ্ঘন। আমাদের সংবিধানের ৩৯-ধারায় পরিষ্কার করে বলা আছে, একদিকে সংবাদের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হলো, অন্যদিকে প্রত্যেক নাগরিকের বাক-স্বাধীনতার অধিকার অর্থাৎ তথ্য পাওয়ার অধিকার তার মধ্যে সংযুক্ত। এই অধিকারগুলো খর্ব করা কিছু নির্দিষ্ট কারণে, যেগুলো সেই একই ধারা মধ্যে উল্লেখ করা আছে। কিন্তু আদেশটিতে কোন লক্ষ্য কিন্তু উল্লেখ করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, আমি জানি না, অন্য কোন দেশে এ রকম নির্দেশ আছে কিনা, আমার জানা নাই।
সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বলেছেন, যেভাবে অনুরোধ করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে সুপ্রীমকোর্টের মর্যাদা রক্ষায় সংবাদমাধ্যমেরও দায়িত্ব থাকে বলে তিনি মনে করেন।
‘পত্রপত্রিকা লিখবে না, এটা শুনতে ভাল লাগে না। যা হচ্ছে, পত্রপত্রিকা তা লিখবে। তবে একটা কথা আমি বলবো, যেভাবে বিভিন্ন পত্রিকা সুপ্রীম কোর্টকে নিয়ে রিপোর্টিং করছে এবং সুপ্রীমকোর্টকে ম্যালাইনও করা হচ্ছে। এটা কন্ট্রোলও..তবে একেবারে যেভাবে করছে, সেটা প্রশ্ন আসবে। তবে এটাও সত্য, এটা একটু কন্ট্রোলের মধ্যে আনা উচিত। এবং আমরা দেখছিলাম, প্রচারের জন্য একই ধরণের মামলা নিয়ে তিন-চারটি পার্টি আসে। মামলা করে তারা সাথে সাথে টিভির সামনে দাঁড়িয়ে যায়। যেন জনগণের উপকার করা উদ্দেশ্য নয় - টিভিতে চেহারা দেখানোটাই উদ্দেশ্য।’
তবে বিচারাধীন বিষয়ে খবর পরিবেশন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ এসেছে সুপ্রীমকোর্টের প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
এ ব্যাপারে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বলেন, প্রশাসনিক অর্ডার ইজ অলসো অ্যান অর্ডার অফ দা সুপ্রীমকোর্ট। এটা মানা উচিত।
গত ১৬ই মে সুপ্রীমকোর্টের প্রশাসন শাখা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে কোন কোন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া তাদের চ্যানেলে এবং কোনও কোনও প্রিন্ট মিডিয়া তাদের পত্রিকায় বিচারাধীন মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন/স্ক্রল করছে, যা একেবারেই অনভিপ্রেত।এমতাবস্থায়, বিচারাধীন কোনও বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন/স্ক্রল করা হতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft