মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০
শিক্ষা বার্তা
দু’ বছর পূর্তিতে যবিপ্রবি উপাচার্যের সংবাদ সম্মেলন
শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রয়োজনে নিজের বাসভবন ও গেস্ট হাউস ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা
কাগজ সংবাদ :
Published : Monday, 20 May, 2019 at 6:27 AM
শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রয়োজনে নিজের বাসভবন ও গেস্ট হাউস ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর আনোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম চলমান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, বাধা যদি হিমালয়ের সমানও হয়, আমি তা অতিক্রম করবো। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লড়াইয়ে আমি কোনো অন্যায়ের সাথে আপস করবো না।
রোববার দুপুরে যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্ব গ্রহণের দু’ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের দু’ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাকে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তাবৃন্দ, কর্মচারী সমিতি, যবিপ্রবি ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও  শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে। একটি নিয়োগের বিষয়ে দুর্নীতির কথা উঠেছিল, স্বচ্ছতার জন্যে সেই প্রার্থীর নিয়োগও বাতিল করা হয়। তারপরেও দুর্নীতি যে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা যায় না, এটা আপনারা জানেন। তবে, আমার দৃষ্টিতে দুর্নীতি ধরা পড়লে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, এই ওয়াদা আমি করতে পারি।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে একজন সাংবাদিকের করা এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার শিক্ষার্থীদের আমি সন্তান হিসেবে মনে করি। আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, পুলিশ ও অন্যান্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবগত আছেন। তারা সবাই আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করছেন। তাতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে আমি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাব। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আমি শিক্ষক হিসেবে থাকতে চাই। শিক্ষকের বাইরে যেন আমাকে না নেয়া হয়। এটা যদি ওনারা বোঝেন, তাহলে খুব ভালো হবে। আর যদি শিক্ষকের বাইরে গিয়ে আমার শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে হয়, তাহলে খুব বেশি ভালো হবে বলে আমি মনে করি না। কোনো শিক্ষার্থী যদি মেসে থাকতে ভয় পায়, তাহলে তিনি নিজের বাস ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্লাব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউস ছেড়ে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। যবিপ্রবি উপাচার্য অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘একজন মানুষ ও পিতা হিসেবে আমার যতটুকু করার, ততটুকু করবো। সকল পিতা ও মাতাদের প্রতি আমি বলবো, আপনাদের কাছে আপনার সন্তান যতটুকু নিরাপদ থাকবে, আমার কাছেও ততটুকু নিরাপদ থাকবে।’
অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও আমার শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সর্বোপরি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টায় আমরা অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধু অ্যাকাডেমিক ভবনে ১৫০০ শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা-সম্পন্ন কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হলে আজকে সকল বিভাগের ¯œাতক শ্রেণির সকল বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা একযোগে হচ্ছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি বিরল অর্জন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার যাত্রা মোটেই সুখকর ছিল না উল্লেখ করে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, যশোরের শহরভিত্তিক রাজনীতি আমার আগমনকে স্বাগত জানায়নি। এমনকি তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর জন্যে আমাকে হুমকিও দেয়া হয়েছিল। যদি আমি সেটা করতাম, তাহলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃশ্যত কোনো ঝামেলা থাকতো না। কিন্তু, সেক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় আর বিশ্ববিদ্যালয় থাকতো না। জাতীয় ও বিশ্ব উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারতো না। কারণ, অবৈধ সুবিধা নেয়ার জন্যে তারা এমন লোকদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে, যাদের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি তাদের অধিকাংশেরই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের যোগ্যতা নেই। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তারা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। শিক্ষার্থী ভর্তি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে শুরু করে নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যন্ত- প্রতিটি পদক্ষেপে তারা হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় তারা আমার অফিসে হামলা করে। এমনকি, আমার পিএস এবং একজন কর্মচারীকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, যবিপ্রবি পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সুধি সমাজ, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, দু’একজন ব্যতিত যবিপ্রবি ছাত্রলীগের মূলধারার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় আমি সেই সকল বাধা অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হতে সক্ষম হয়েছি। আজ শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে যবিপ্রবি বাংলাদেশে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনের ক্ষেত্রেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
 সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল মজিদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর ইকবাল কবীর জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক ডক্টর নাজমুল হাসান, ডিন অধ্যাপক ডক্টর আনিছুর রহমান, অধ্যাপক ডক্টর শেখ মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ডক্টর জিয়াউল আমিন, অধ্যাপক ডক্টর মৃত্যঞ্জয় বিশ্বাস, ডক্টর ওমর ফারুক, ডক্টর জাফিরুল ইসলাম, ডক্টর কিশোর মজুমদার, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব, প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী, সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) হায়াতুজ্জামান প্রমুখ।  
  



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft