সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Monday, 20 May, 2019 at 6:27 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজান অনেকের ধারণা যদি তারা একদিন উপবাস থাকে তবে তারা সহজে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়বে। কারণ অনশনে তাদের জীবনীশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু দেহ  এবং দেহের খাদ্যের প্রয়োজন ও  উহার  উদ্দেশ্যের উপর গবেষণা করে বৈজ্ঞানিকগণ প্রমাণ করেছেন, যে ক্ষুধা লাগলেই সাথে সাথে ভোজনের প্রয়োজন হয় না, দেহে পূর্ব থেকেই কিছু না কিছু খাদ্য সঞ্চিত থাকে এবং দেহের প্রয়োজন অনুসারে তা যথা সময়ে সরবরাহ হয়। একজন মানুষ যত শীর্ণই হোক না কেন তার দেহে কিছু পরিমাণ চর্বি বা মেদ সঞ্চিত খাদ্যরূপে বিদ্যমান থাকবেই এবং যখন প্রয়োজন হবে তখন দেহ এই সঞ্চিত খাদ্য তা পূরণ করে নেবে। অনাহার দেহকে দুর্বল করে সত্য কিন্তু সিয়াম তা করে না। কেননা এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, ১৭ রামযানে ইসলামের প্রথম জেহাদ বদর যুদ্ধ আরবের মরু ভূমিতে গ্রীষ্ম প্রধান এলাকায় সংঘটিত হয়েছিল। একজন মানুষ যদি দৈনিক তিন বার আহারে অভ্যস্ত থাকে তবে আহারের নির্দিষ্ট সময়ে তার পরিপাক যন্ত্রে স্পন্দন পরিলক্ষিত হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে যদি কোনরূপ আহার গ্রহণ না করা হয় এবং তখন যদি মনের গতিকে অন্য দিকে ফিরিয়ে রাখা যায় তা হলে দেখা যাবে যে, আহার গ্রহণের ইচ্ছা একেবারেই নি®প্রভ হয়ে গেছে। রামাযান মাসে অন্য মাসের তুলনায় কম খাওয়া হয় এবং এই কম খাওয়া স্বাস্থ্যের অনুকূল। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য খাওয়ার প্রয়োজন বেশী নয়। বরং কম ও পরিমিত খাওয়াই দীর্ঘ জীবন লাভের চাবিকাঠি। বাংলায় একটি প্রবচন আছে, “বেশী বাঁচবি তো কম খা” ইহা বৈজ্ঞানিক সত্য। একাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক ইবনে সিনা তাঁর  রোগীদের তিন সপ্তাহের জন্য উপবাস পালনের বিধান দিতেন। ভোজন  একটি অভ্যাস মাত্র। সিয়াম পালনকারীর প্রথম এবং প্রধান কষ্ট হচ্ছে ভোজনের অভ্যাস পরিহার করা। খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস পরিবর্তনের ফলে সিয়াম রাখা ২-৩ দিনের মধ্যে সহজতর হয়ে উঠে। বছরের এক মাস সিয়াম রাখার ফলে শরীরের অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিশ্রাম ঘটে। ইহা যেন অনেকটা কারখানার মেশিনকে সময় মত বিশ্রাম দেয়া। রমজানে সাস্থ্যগত সমস্যাও আল্লাহর রহমতে দুর করে থাকেন এমনকি সারা বছর অতি ভোজনের ফলে অনেকেরই পাকস্থলীর আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং এটা দেহের জন্য ক্ষতিকারক। সিয়াম বড় পাকস্থলীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনতে সাহায্য করে। শরীরের অন্যান্য পেশীর মতো এরও বিশ্রামের দরকার। যখনই পাকস্থলীতে খাদ্যমুক্ত রাখা যায় তখনই তা ক্ষতস্থান বা আলসার নিরাময়ে লেগে যায় এবং পূর্বাবস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় নিয়োজিত হয়। পাকস্থলী খালি হওয়া মাত্রই তার ক্ষয়পূরন এবং পুনঃ গঠনের কাজ শুরু হয়। তখন রুগ্ন ও জীর্ন জীবকোষগুলোর স্থলে চতুর্দিকস্থ সুস্থ্য সবল জীবকোষের আমদানী ঘটে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। এভাবে সিয়াম পেপটিক আলসার রোগ ভাল করতে সাহায্য করে। গ্যাস্টিক জুইস এনালাইসিস করে যে এসিড কার্ভ পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় যে, উপবাস অবস্থায় পাকস্থলীর এসিড সবচে কম। সুতরাং প্রতিয়মান হয় যে, সিয়াম এসিড কমায়, বাড়ায় না। সিয়াম পালন করলে পেপটিক আলসার হবে বা বাড়বে এমন কথা বিশ্বাস যোগ্য নয়। হযরত আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্নিত আছে,তিনি বলেন,রাসুল্লুাহ (স:) বলেছেন যে, রোজাদার ব্যক্তি মিথ্যা কথা আর মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করতে পারলো না তার খানাপিনা ত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। এ হাদিস থেকে স্পষ্ঠ জানা যাচ্ছে যে, রোজা শুধু খানাপিনা ত্যাগ করার নাম নয়। রোজার একটা উদ্দেশ্য আছে । আর রোজার সেই উদ্দেশ্য সর্ম্পকে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, আল্লাহ রব্বুল আলামিন কুরআনে এরশাদ করেন, ‘ইয়া আয়্যুহালালিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলালাজিনা মিন ক্ববলিকুম লায়্লাাকুম তাত্তাকুন’। অর্থাৎ ‘হে ঈমানদার বান্দারা ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ,যেন তোমরা তাকওয়া বা খোদাভিরুতা অর্জন করতে পার। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, আল্লাহ তায়ালার দেয়া রোজার আসল উদ্দেশ্যই হচ্ছে খোদাভিরুতা অর্জনের এক  মিশন। আর এ মিশন সফল হবে যদি আমরা রোজার প্রকৃত হক আদায় করে রোজা পালন করতে পারি। রোজা যে তাকওয়া অর্জন উদ্দেশ্যে সেই তাকওয়া আসলে কি? হযরত উমর (রা:) একবার হযরত উবায় ইবনে কাব (রা:)কে জিঙ্গাসা করলেন, তাকওয়া আসলে কি? তিনি উত্তরে বললেন,হে উমর কাঁটা যুক্ত পথে অতি সর্তকতার সাথে পথ চলাই হলো তাকওয়া। অর্থাৎ দুনিয়ার সকল শয়তানী মত পথ বাদ দিয়ে শয়তানের সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে আল্লাহর পথে নিজের জীবন পরিচালনা করাই হলো তাকওয়া। আমাদের কি জানা নাই যে,ইসলামের সোনালী যুগটা কেমন ছিল? নবী (স.) আলাইহি ওয়া সালাম-এর সাথে কুফ্ফারে কুরাইশের ঈমান ও আকীদায় পার্থক্য ছিল আসমান-যমীনের পার্থক্যের মতই। আবু বকর, উমার, ওসমান, আলী প্রমুখ (রা) এর সাথেও উমাইয়া ইবনে খালাফ কিংবা আবু জাহল, আবূ লাহাব ইত্যাকারের বিশ্বাসের পার্থক্য যোজনব্যাপী ছিল, মুসলিমগণ ছিলেন একত্বে বিশ্বাসী, তারা ছিল বহু উপাস্যের উপাসক। কিন্তু চরিত্র বৈশিষ্ট্যর ব্যাপারে আবূ বকর, উমার, উসমান, বেলাল, খাব্বাব, আবূ হুরাইরা (রা) কে নিয়ে কাফের মুশরিকদের মধ্যে কোন বিতর্ক ছিল কি? তাঁরা কি আমাদের মত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন ভেক ধরতেন? তারা কি কখনও মার্কিনপন্থী, কখনও ভারতপন্থী, কখনও আরবপন্থী,কখনও জাতীয়তাবাদী হতেন?    




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft