মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯
জাতীয়
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ
এফআর টাওয়ারের নকশা ও নির্মাণে ত্রুটি, দোষী ৬৭ জন
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 22 May, 2019 at 9:37 PM
এফআর টাওয়ারের নকশা ও নির্মাণে ত্রুটি, দোষী ৬৭ জনঅগ্নি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা অনুমোদন এবং নির্মাণ কাজের ত্রুটির জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট আবাসন প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ৬৭ জনকে দায়ী করে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ মে) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইয়াকুব আলী পাটওয়ারীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রাজউকও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে। আমাদের রেওয়াজ আছে তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না। আমি অঙ্গীকার করেছিলাম সেই সনাতনী ধারণার বাইরে বেরিয়ে আসব।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, আমাদের টার্গেট ছিল এই ভবনটি নির্মাণ পদ্ধতির মধ্যে কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় ছিল কি-না। হয়ে থাকলে তা কোন ধরনের। এফআর টাওয়ারের ১৫তলা পর্যন্ত অনুমোদন নেওয়া হয়। এই অনুমোদন যথাযথ ছিল।
রেজাউল করিম বলেন, এরপর ১৮তলা পর্যন্ত নির্মাণ প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল, কিন্তু যে উপায়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেটা সঙ্গত ছিল না। অনুমোদন দেওয়ার সময় যে আইন ছিল সেই আইনের আওতায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি, অনুমোদন দেওয়া হয় আগের আইনে।
তদন্ত প্রতিবেদনে ৭ দফা পর্যালোচনা ও ১৫ দফা সুপারিশ দিয়েছে কমিটি।
এতে ভবনের অতিরিক্ত অংশ ভেঙ্গে ফেলতে বলা হয়েছে। আর সেটা সম্ভব না হয়েছে সিলগালা করে দেওযার সুপারিশ রয়েছে। ভবনটি নির্মাণ কালের রাজউক চেয়ারম্যান, অথরাইজড অফিসার ও সহকারী অথরাইজড অফিসারের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করার নির্দেশনা রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ২৩ তলা বিশিষ্ট এফআর টাওয়ারের নকশাটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে বানিয়েছে। আর এর দায় তৎকালীয় রাজউক চেয়ারম্যান কোনওভাবেই এড়াতে পারেন না। সে সময়ের রাজউক চেয়ারম্যান হুমায়ূন খাদেম, অথরাইজড অফিসার সৈয়দ মকবুল আহম্মেদ, অথরাইজড অফিসার নাজমুল হুদা, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. বদরুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করার সুপারিশ রয়েছে এই প্রতিবেদনে।
আট সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ঘটনার ৫৫ দিন পর এই প্রতিবেদন জমা দিলো।
গত ২৮ মার্চ ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ভবনটির কয়েকটি ফ্লোর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং আগুনে পুড়ে নিহত হন অন্তত ২৫ জন। এছাড়া শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
প্রতিবেদনে ভবনটি নির্মাণের সময়ে (ফেব্রুয়ারি ২০০৫ থেকে জুলাই ২০০৮) রাজউকের যারা তদারককারী কর্মকর্তা ছিলেন তাদের মধ্যে ২০ জনকে দায়ী করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রধান ইমারত পরিদর্শক মাহবুব হোসেন সরকার ও মো. আবদুল গণি ও ১৮ জন ইমারত পরিদর্শক রয়েছেন।
এছাড়া ভবনের ২০, ২১ ও ২২ তলার বন্ধক অনুমতি দিয়েছেন এমন ৬ কর্মকর্তা কর্মচারীকে দায়ী করা হয়েছে।
রাজউকের সাবেক সদস্য জি এম ব্যাপারী, সবেক নগর পরিকল্পনাবিদ জাকির হোসেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উল্লাহ, লিজ গ্রহীতা মো. হোসাইন ইমামকেও এ অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft