রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ঝিনাইদহে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত এক শিশু
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
Published : Thursday, 23 May, 2019 at 6:43 AM
ঝিনাইদহে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত এক শিশুশিশুটির বয়স প্রায় ৪ বছর। শরীরের মাংশ শুকিয়ে দেখা যাচ্ছে হাড়গুলো। শরীরের সমস্ত শিরাগুলো টান ধরে হাত-পা নড়াচড়া করতে পারে না শিশুটি।
দেখতে অনেকটা বৃদ্ধ মানুষের মতো। হাড্ডিসার শরীর আর টাকার অভাবে চিকিৎসা না করাতে পেরে মা-বাবা আবিরকে রেখে গেছে নানা নানীর কাছে।
অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু আবির দিন দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সমাজের বৃত্তশালী কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আবিরের জন্য সহযোগিতা দরকার। শিশুটি বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীপুর গ্রামের নানা লিয়াকত আলীর কাছেই রয়েছে।
আবিরের নানি মঞ্জুরা বেগম ও নানা লিয়াকত আলী জানান, গত ৫ বছর আগে তার মেয়ে রতনা খাতুনের বিয়ে দেন যশোর জেলার সাতমাইল বালিয়ডাঙ্গা গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে আল-আমিনের সাথে। এর এক বছর পর রতনার গর্ভে আবিরের জন্ম হয়। জন্মের সময় সে সুস্থ্য অবস্থায় ছিল। কিন্তু ৭/৮ মাস বয়সে আবিরকে স্থানীয় টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়া হয়। টিকা দেবার পর থেকে আবিরের প্রচণ্ড জ্বর ও খিচুনি শুরু হয়। সেই সময় অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে কিন্তু কোন কাজ হয় নি। দিন দিন শরীর শুকিয়ে যেতে থাকে। হাত-পা বাকা হতে শুরু করে। শরীরের শিরাগুলো টান পড়তে থাকে। স্বাভাবিকভাবে আবির নড়াচড়া করতে পারে না।
তারা বলেন, আবির অসুস্থ্য হবার পর তার মা-বাবা আমাদের কাছে রেখে যান। এর পর আমার মেয়ে রতনার আরেকটি সন্তান হয়। এই অসুস্থ্য আবিরকে দেখতে তার মেয়ে ও জামাই আসে না। বাধ্য হয়ে আমরাই তাকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করাচ্ছি। তবে দিন মজুর হওয়ায় চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি।
নানা লিয়াকত আলী জানান, তার নাতির চেহারা অস্বাভাবিক দেখায়, এজন্য অন্য কেউ তার কাছে যায় না। দিন দিন তার চেয়ারা বৃদ্ধ মানুষের মতো হয়ে যাচ্ছে। আমরা স্বামী স্ত্রী দুইজনই তার দেখাশোনা করি। স্থানীয় অনেক চিকিৎসককে দেখানো হয়েছে কিন্তু কোন ফল হয় নি। প্রতিদিন যা আয় করি তা দিয়ে সংসার চালাতেই শেষ হয়ে যায়। এই শিশুটির বাবা-মা থেকেও নেই। আমরা আর কত করবো? তিনি বলেন, বিনা চিকিৎসায় কি আবিরের মৃত্যু হবে? সমাজের বিত্তশালীরা যদি এগিয়ে আসে তাহলে আবিরের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে চান।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অপূর্ব কুমার সাহা আবিরের ছবি দেখে জানিয়েছেন, এমন রোগী তিনি কখনো দেখেন নি। এটা কি ধরণের রোগ তাও তিনি বলতে পারবেন না। পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখা গেলে জানা যাবে আসলে কি রোগ তার। তিনি বলেন সরকারি হাসপাতালে আনলে তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করা যেতো।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft