মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Thursday, 23 May, 2019 at 6:50 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজানআজ ১৭ রমজান। বদর দিবস। ইসলামের প্রথম যুদ্ধ বা বদরের জ্বিহাদ এই পবিত্র রমজান মাসের ১৭ রোজাই সংগঠিত হয়। আর সেটা হলো বদরের যুদ্ধ। হিযরতের দ্বিতীয় বছরে রমজানের ১৭তারিখে ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন আধ্যায়ের সূচনা হয়।রোজা রেখেই আল্লাহর সৈনিক ও রাসুলের সাহাবীরা জীবন বাজী রেখে জিহাদ করে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয় করেছে। রোজা ফরজ হওয়ার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ ও ইসলামের দুশমনদের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করার নির্দেশ একই বছরের সামান্য ব্যবধানে প্রদান করান হয়। এটা থেকে খুব ষ্পষ্ঠ বোঝা যায় যে, রমজান মাস খোদাদ্রোহী শক্তির মাথা গুড়িয়ে দেবার মাস। অন্যায়ের সাথে আপোষ করার কোন সুযোগ ইসলামে নেই। আর পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহর রাস্তায় বদরের যুদ্ধ প্রমাণ করে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে রোজার একটা বিরাট সম্পর্ক আছে। ইসলামের সোনালী ইতিহাস সাক্ষী সেদিন ইসলামের সৈনিকরা মাত্র ৩১৩ জন হওয়া সত্বেও তিনগুন সংখ্যার চেয়েও শক্তিশাল সৈন্যদের বিরুদ্ধে আল্লাহ আর রাসুলের সৈনিকরা বিজয় লাভ করেছে।এই বিজয় ঐতিহাসিক বিজয়। এই বিজয় সত্যের বিজয়। এ বিজয় ইসলামের বিজয়।এ বিজয় মানবতার বিজয়। ইসলামের এ সুমহান এ বিজয়ে আজ দুনিয়া জুড়ে খুশী বা আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আজ বদরের ময়দানে যদি ইসলাম ধংসের কাফেরদের এ মহা আয়োজন সফল হতো তাহলে আল্লাহর কালেমা বা ইসলামের পতাকা আর আজকের আকাশে পতপত করে উড়তে দেখা যেত না। কাফেররা সেই পরিকল্পনা নিয়েই সদ্য কায়েম হওয়া ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আজকে মহা শক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে। এহেন অবস্থায় আল্লাহর রাসুল (স:) সিজদায় পড়ে গেলেন এবং দোয়া করলেন, হে আল্লাহ ! আজকের এই দিনে ইসলামের পতাকা তুমি উচু রেখ। হে আল্লাহ! ইসলামের বিজয় আজ তুমি দান কর। আল্লাহ শুনালেন অভয় বাণী, হে রাসুল! আপনি চিন্তা করবেন না বরং আমি আল্লাহ তায়ালা আজ ইসলামের বিজয় দান করার জন্য আসমান থেকে দলে দলে ফেরেশতা পাঠিয়ে দিলাম। আর ৩১৩ জন ইসলামের সৈনিককে এক হাজার শক্তিধর কাফের সৈনিককের উপর জয়লাভ করিয়ে দিলাম। এই বিজয়ের ফলে নতুন আদর্শ ইসলামের প্রতি সকল শ্রেণীর মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায় এবং লোকেরা দলে দলে ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকাতলে সমবেত হতে শুরু করে। আজকে ১৭ রোজায় আমাদেরকেও রাসুল (স) এবং সাহাবীদের জীবনী থেকে শিক্ষা নিতে হবে যে, আজকের   পৃথিবীর সর্বত্র ইসলাম বিরোধী একটা স্নায়ু-যুদ্ধ সব সময় চলছে আর ইসলামকে দুনিয়ার বুক থেকে মুছে ফেলার জন্য চর্তুমুখি ষড়যন্ত্র দূর্বার বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এ জন্যই রোজা পালনের সাথে সাথে আমাদেরকে ও প্রকৃত মুজাহিদ হয়ে যাবতীয় ইসলাম বিরোধী তৎপরতার মোকাবেলা যোগ্যতার সাথে করতে হবে। তবে আমাদেরকে এটা মনে রাখতে হবে যে, আজকের বিশ্বে জিহাদের নামে বা ইসলামের নামে যে প্রচলিত সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে তাতে ইসলামের কোন উপকারতো নেই বরং ইসলাম এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে সমর্থন করে না । আর ইসলামের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে  যারা কৌশলে পবিত্র ইসলামকে আজ সমালোচনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে তারা প্রকৃত পক্ষে ইসলামী শক্তিতো নয়ই বরং বিরোধী শক্তির এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করেছে। গত মাসে শ্রিলংকায় বোমা হামলাও ইসলামের নামে ইসলামের উপরই কালিমা লেপন করেছে। মনে রাখতে হবে ইসলামী বিশ্বের সাথে পাশ্চাত্য সভ্যতার সংঘাতই হবে এ শতকের মূল ঘটনা। এক পর্যায়ে চীনা ও জাপানী সভ্যতা হাত মেলাতে পারে ইসলামী সভ্যতার সাথে।  বর্তমানে মার্কিনপন্থি কিছু বুদ্ধিজীবি ‘সংঘর্ষিক ইসলাম’ কে দাঁড় করাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে। তারা প্রাচ্য ও  প্রতীচ্যের সেই মধ্যযুগীয় ক্রুসেডের আদর্শকে আজকের বিশ্বব্যবস্থায় পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের নির্ধারক করে দিচ্ছে।  উদ্দেশ্য ইসলামী মূল্যবোধকে হত্যা করে মুসলিম সমাজের সনাতন ঐতিহ্য ও আদর্শের স্থলে পাশ্চাত্য কালচারের প্রতিষ্ঠা।  তাদের মিডিয়া অতি সুনিয়ন্ত্রিত বলেই জনগণের মনের কথা বিশ্ব জানতে পারে না। কিন্তু একথা সত্যি যে, মিথ্যা তার নিজস্ব সংকটেই জর্জরিত। ইসলাম মহান আল্লাহর মনোনীত দীন। মুসলিম জাতি তাঁরই পছন্দের ‘খাইরা উম্মাত’। শুধু বাস্তবে সেই সর্বোত্তমের কোন প্রমাণ নেই। একটা লাঞ্ছিত, ঘৃণিত, অবদমিত, নিপীড়িত সত্তা নিয়ে এ পৃথিবীতে উম্মাতে মুসলিমার অবস্থান। বিভিন্ন দলে-উপদলে, মাযহাবে-তরীকায় বিভক্ত হয়ে শক্তিহীন। কিতাব ও সুন্নাতের দাবী জানা সত্ত্বেও পার্থিব লোভ ও লালসা, ভোগ ও বিলাসিতার আকর্ষণে চরিত্রহীন। চরিত্রের আকর্ষণীয় ছটা, মোহময়ী ব্যক্তিত্ব, তাকওয়ার ভূষণে বিভূষিত, বিশ্বমানবতার কল্যাণে উৎসর্গিত কোন মুখচ্ছবি এ জাতির মধ্যে দৃষ্টিগোচর হয়না। তা সত্ত্বেও ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার এই শেষ  দ্বন্দ্বে ও সংঘর্ষে মুসলিমকেই তুলে নিতে হবে অস্ত্র। শুধু আত্মরক্ষার স্বার্থে যে জিহাদ ও যুদ্ধ তাদের আলেম উলামারা এড়িয়ে গেছেন, একই ভাষায় ‘কুতিবা আলাইকুমুস্ সিয়াম’ এবং ‘কুতিবা আলাইকুমুল কিতাল’- এর মধ্যে শুধু প্রথমটিকেই গ্রহণ করে দ্বিতীয়টিকে বিসর্জনই দিয়েছে তার মাশুল দেবার দিন সমুপস্থিত। সিয়ামে অর্জিত তাকওয়ার তর্ক ও অস্ত্র দিয়ে কিতালের শর্ত পূরণের ক্ষণ সমাগত। সমাজতন্ত্রের  পতন হয়েছে। পুঁজিবাদের ধ্বংস অনিবার্য। এখন ইসলাম ছাড়া দিগন্ত রেখায় কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft