সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
আজ বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস
কাঙ্খিত লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে বাংলাদেশ
স্বপ্না দেবনাথ :
Published : Tuesday, 28 May, 2019 at 6:53 AM
কাঙ্খিত লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে বাংলাদেশআজ ২৮ মে বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। শিশুর জন্মদান ও মাতৃত্ব সম্পর্কিত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং তার সুষ্ঠু সমাধানের পথ খোঁজা দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। আর এ লক্ষ্যে ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। সচেতনতা বাড়লেও এখনো দেশে মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেশি। এমনকি মাতৃ মৃত্যুর সর্বশেষ পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান নিয়েও সন্তোষ জনক কোনো ফলাফল নেই।
সর্বশেষ বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ ২০১৬ এর প্রাথমিক ফলাফলে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে মাতৃ মৃত্যুর হার বেড়েছে। জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট), আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও মার্কিন দাতা সংস্থা ইউএসএআইডি’র করা জরিপে উল্লেখ করা হয়েছিল সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রতি লাখে ১শ’ ৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১শ’ ৯৪ জন। ২০১৬ সালের জরিপটির প্রাথমিক প্রতিবেদন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছিল ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর।
নিপোর্টের জরিপ অনুসারে মাতৃমৃত্যুর যে কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তারমধ্যে দুটি কারণ প্রধান। তা হল প্রসবকালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনি। ৫৪ শতাংশ প্রসূতির মৃত্যু ঘটে এ দুটি কারণে। কিন্তু এ দুটির কোনোটাই এত জটিল সমস্যা নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত এক রিপোর্টে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনি বন্ধ করার ওষুধ আছে, সেগুলো দুর্মূল্য ও দুর্লভও নয়। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয় রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনির ওষুধ সরবরাহে সরকারের তরফে উদ্যোগের ঘাটতি আছে।
চিকিৎসক ও গবেষকরা বলেছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রশিক্ষিত জনবলের পাশাপাশি রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য অক্সিটসিন ও খিঁচুনি বন্ধের জন্য ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ইনজেকশন রাখার কথা। দুটি ওষুধেরই দাম কম এবং উৎপাদন যথেষ্ট। কিন্তু স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান জরিপে (২০১৪) দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অক্সিটসিন থাকে না। আর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কেন্দ্রেই ম্যাগনেশিয়াম সালফেট থাকে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো দেশের মোট সিজারিয়ান প্রসবের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখা উচিত। তবে, বাংলাদেশে এ হার দ্বিগুণেরও বেশি। প্রায় ৩১ শতাংশ। দেশে বছরে ১০ লাখ সিজারিয়ান প্রসব হচ্ছে। এরমধ্যে ৮৩ শতাংশই সিজারিয়ান প্রসব হয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩৫ শতাংশ এবং এনজিও’র হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ৩৯ শতাংশ মা সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন।
এদিকে, মা ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ সিজারিয়ান ডেলিভারি। প্রতি এক হাজারে ১৫ জনের সিজারিয়ান ডেলিভারি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা’র হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলেও বাংলাদেশে অনেক বেশি। এখানে প্রতি একশ’ জনের মধ্যে ৮০ জনকেই সিজারিয়ান ডেলিভারি করা হচ্ছে। যা উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রের তথ্য অনুসারে দেশে প্রতি বছর ৩০ লাখেরও বেশি শিশু জন্ম নেয়। এর মধ্যে বাড়িতে ৭২ শতাংশ ও হাসপাতালে ২৮ শতাংশ সন্তান জন্ম নিচ্ছে। ৩০ ভাগ প্রসূতি মাকে প্রাইভেট হাসপাতালে সিজার করাতে হচ্ছে। তবে, চলমান চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচিতে (২০১৭-২০২২) মাতৃস্বাস্থ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আজকের এদিনে সরকারি-বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মাতৃস্বাস্থ্য বিভাগের সেবার মান আরও উন্নত করার জোরালো উদ্যোগের দাবি জানানো জরুরী। মাতৃ স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক মান বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রসবসেবা প্রদানকারী কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রী নিশ্চিত করতে হবে।
   



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft