সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ অভিযান
যশোরে ক্ষতিগ্রস্থ ৫ লক্ষাধিক কৃষক
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Wednesday, 29 May, 2019 at 6:57 AM
যশোরে ক্ষতিগ্রস্থ ৫ লক্ষাধিক কৃষকযশোরের তিন উপজেলায় এখনো বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি। কৃষি বিভাগ ও খাদ্য অধিদপ্তরের রশি টানাটানিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন জেলার পাঁচ লক্ষাধিক কৃষক। তারা সময়মত উৎপাদিত বিপুল পরিমান ধান ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেননি। পানির দামে এ ধান বিক্রির মাধ্যমে দেনা শোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এ সুযোগ নিতে মাঠে নেমেছে মধ্যস্বত্ব ভোগীরা। তারা শুরু করেছে দেন দরবার।
যশোর খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যশোরাঞ্চলে বোরো ধান ওঠা শুরু হয়। আর এ ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। খাদ্য বিভাগের টার্গেট অনুযায়ী যশোর জেলা থেকে ৪ হাজার ৭৬৭ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হবে। এরমধ্যে সদর উপজেলার কৃষকের কাছ থেকে ৭৩৯ মেট্রিকটন, মণিরামপুর উপজেলায় ৮৬৩ মেট্রিকটন, কেশবপুর থেকে ৪৯৯ মেট্রিকটন, অভয়নগরে ৪৩৪ মেট্রিকটন, ঝিকরগাছায় ৫৬৬ মেট্রিকটন, শার্শায় ৬৫২ মেট্রিকটন, বাঘারপাড়ায় ৪৭৯ মেট্রিকটন, চৌগাছা উপজেলা থেকে ৫৩৫ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হবে। তবে এ কার্যক্রমে কৃষকের লাভ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, এ চাল কেনার জন্য উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। তারাই ধান কেনা সংক্রান্ত সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এসব উপজেলা থেকে কৃষক প্রতি সর্বনি¤œ ১২০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিকটন পর্যন্ত ধান কেনা হবে। তবে শর্ত হচ্ছে, ধান বিক্রি করতে আসা এসব কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি প্রতিকেজি এ ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা। যার প্রতি মণ দাঁড়ায় এক হাজার ৪০ টাকা। সংগৃহিত এসব ধানের টাকা সরাসরি কৃষকের হাতে দেয়া হবে না। গোডাউনে কৃষকরা ধান দেয়ার পর তাদের ডাব্লিউ কিউ এস সি ফরম (ওজন মান নিয়ন্ত্রণ ফরম) পূরণ করতে হবে। এসব ফরম সংশ্লিষ্ট উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকগণ স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দিলেই কৃষকরা সরাসরি টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এ কাজটি দিনের দিনই হতে পারে বা সর্বোচ্চ তিনদিন সময় লাগতে পারে।
কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন জেলায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান একমাস অতিবাহিত হলেও যশোরের সব উপজেলায় এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলায় এ কার্যক্রম হাত গুটিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। উপজেলাগুলো হলো, যশোর সদর, চৌগাছা ও মণিরামপুর। এছাড়া, বাঘারপাড়া উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে গতকাল ২৮ মে ও ঝিকরগাছা উপজেলায় ২৭ মে শুরু হয়েছে। এ কারণে যশোর জেলার ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাড়িয়েছে। আর এসময়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন যশোরের কৃষকরা। তারা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা হাটে নিয়ে ধান পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। সার ও ক্ষেতে সেচ দেয়ার দেনা, এনজিও, ব্যাংক লোন এবং হালখাতা পরিশোধের তাগিদে তাদেরকে বাধ্য হয়ে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে কৃষকের ধানের গোলা এখন শুন্য। বিক্রি করার মত ধান এখন আর তাদের ঘরে নেই। আর এ কাজে যশোরের আটটি উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। শুধুমাত্র যশোর সদর উপজেলা এলাকায় ৮৩ হাজার কার্ডধারী কৃষক রয়েছেন বলে কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া বাঘারপাড়া ও ঝিকরগাছাসহ অন্যান্য উপজেলায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ ৫ লক্ষাধিক কৃষক। আর এ সুযোগে মাঠে নেমেছে মধ্যস্বত্ব ভোগীরা। তারা গোডাউনে ধান সরবরাহ দিতে তদবির শুরু করেছেন।
সূত্র জানায়, যশোর খাদ্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের রশি টনাটানিতে জেলাব্যাপী ধান সংগ্রহ নিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য বিভাগ বলেছে, তারা উপজেলা এলাকার সব কৃষকের তালিকা হাতে না পাওয়ায় সময়মত এ চাল সংগ্রহ করতে পারছেন না। আর কৃষি বিভাগ বলছে, সব উপজেলায় কৃষকের তালিকা রয়েছে ও কার্ডধারী কৃষক রয়েছে। কার্ড নিয়ে কৃষকরা খাদ্য গোডাউনে যাবার পর তাদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা যেতে পারে। এ নিয়ে কোন জটিলতা নেই। কিন্তু কার্ড না দেখে তারা তালিকা নিয়ে মাতামাতি করছেন বলে কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এ ব্যাপারে যশোরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, যশোর খাদ্য বিভাগের কাছে তারা কৃষকদের তালিকা পৌছে দিয়েছেন। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে অফিসের মাধ্যমে এ তালিকা পৌছে দেয়া হয়েছে। ফলে এ কাজের জটিলতা থাকার কোন কারণ নেই।
বিষয়টি নিয়ে যশোর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুজ্জামান, মণিরামপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল আলীম ও চৌগাছা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালমা চৌধুরী জানান, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের ব্যাপারে তাদের আন্তরিকতার কোন অভাব নেই। কৃষকের তালিকা নিয়ে তাদের কাছে জটিলতা ছিল। বর্তমানে আপডেট তালিকা তাদের হাতে পৌছে গেছে। আশা করা হচ্ছে আগামী দু’চার দিনের মধ্যে এসব উপজেলায় ধান সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।
এ ব্যাপারে যশোরের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিয়াকত আলী বলেন, তারা খাদ্য বিভাগের দেখভাল করেন। কৃষক ও কৃষি বিভাগের দায়িত্ব তাদের নয়। কৃষকের তালিকা নিয়ে তাদের কাছে জটিলতা ছিল। সেটা কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। যেসব উপজেলায় সমস্যা রয়েছে, সেটা আগামী দু’এক দিনের মধ্যে কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।    



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft