বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে গরীবের হকার্স মার্কেট জমজমাট
কাগজ সংবাদ :
Published : Thursday, 30 May, 2019 at 6:24 AM
যশোরে গরীবের হকার্স মার্কেট জমজমাটযশোর শহরের অভিজাত বিপনী-বিতানগুলোতে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সমাজের ধনী শ্রেণির মানুষ। পছন্দের পোশাকটি কিনতে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটতে দেখা গেছে অনেকের। কিন্তু খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ফুটপাতের হকার্স মার্কেটগুলোই শেষ ভরসা। এছাড়া তাদের কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। পরিবারের সদস্যদের জন্যে পকেটে যে পুজি থাকে তাতে ফুটপাতের দোকানই যথেষ্ট বলে দাবি এ সব মানুষের।    
আর কয়েকদিন পরেই ঈদুল ফিতর। উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে সব শ্রেণির-পেশার মানুষ সাধ্যমতো প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধনী-গরীব সকলেই তাদের সাধ্যমত কেনাকাটা করছেন।
যারা একটু বেশি সামর্থবান, তারা যাচ্ছেন শহরের অভিজাত বিপণী বিতানে। আর সামর্থ্য কম এমন নি¤œ ও নি¤œ মধ্যআয়ের মানুষজন যশোর শহরের ‘গরিবের মার্কেট’ বলে খ্যাত আগে মুজিব সড়কের ফুটপাথ হলেও তা এখন স্টেডিয়ামের হকার্স মাকের্টে ভীড় করছেন।
রোকসানা (৬) মা ও বাবা ঢাকায় কাজ করেন। নানির সাথে শহরের বকচর এলাকায় থাকে। বুধবার নানীর সাথে হকার্স মাকের্টে এসেছিলো ঈদের নতুন পোশাক কিনতে। লাল টুকটুকে একটা ফ্রক তার পছন্দ হয়। দাম ২শ’৪০ টাকা। তার নানী স্থানীয় এক ছাত্রাবাসে রান্নার কাজ করেন। মঙ্গলবার মাইনের টাকা পেয়ে নাতনিকে নিয়ে বাজারে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আসা হয়নি। এ জন্য মেয়েটা সেদিন  রাগ করে ভাত খায়নি। আজ এসে নতুন জামা পেয়ে সে বেজায় খুশি। তার নানী জমেলা খাতুন বলেন, তাদের তো আর বড় বড় মাকের্টে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই এ মার্কেট থেকে সাধ্যমত একটা পোশাক কিনেদিলেন তার নাতনীর জন্যে।
যশোর শহরের স্টেডিয়ামের পাশে গড়ে ওঠা এ হকার্স মাকের্টে গিয়ে দেখা যায়, এসব দোকানে নানা রংয়ের পোশাক থরে থরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতার সংখ্যাও বেশ। দোকানীদের দম ফেলার সময় নেই।
কথা হয় ধর্মতলাা এলাকার গৃহবধু আছমা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, আমার তিন ছেলে মেয়ে। তাদের বড় দোকান থেকে ঈদের জামা কিনতে গেলে অনেক টাকা দরকার। সেই টাকা তার নেই। তাই এইখানে পোশাক কিনতে এসেছেন। বড় ছেলের জন্যে জামা আর প্যান্ট কিনেছেন সাড়ে পাঁচশ’ টাকা দিয়ে। দুই মেয়ের জন্যে কম দামের ভাল জামা খুঁজছেন বলে জানান তিনি।
নূর ইসলাম ও রবিউল নামে দুইজন বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই মার্কেটে ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে সব বয়সীদের জামাকাপড় পাওয়া যায়। তবে ছোটদের জামাকাপড় বেশি বিক্রি হয়। এ মার্কেটে ছোটদের পাঞ্জাবি ১৮০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়, আর শার্ট বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকা থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। ১০-১২ বছরের ছেলেদের প্যান্ট ১৫০ টাকা থেকে ৩শ’ টাকায় আর শার্ট ১৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ছেলেদের থেকে মেয়েদের পোশাকের দাম অপেক্ষাকৃত বেশি। মেয়েদের ফ্রকসহ বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে ২শ’ টাক থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। এই মার্কেটের ক্রেতা শুধু গরিব মানুষই নয়, অনেক ধনীরাও এখান থেকে পোশাক কিনছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, বাসার কাজে সাহায্য করেন যিনি তার ছেলেমেয়েদের দেয়ার জন্য জামা কিনতে এসেছি। পছন্দ হয়েছে বলে নিজের ছেলের জন্যও প্যান্ট কিনেছি। ঈদের আগে তার এখানে আরেকদিন আসার ইচ্ছা আছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft