মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোর নার্সিং ইন্সটিটিউট ইনচার্জের বিরুদ্ধে লোক দেখানো তদন্ত
সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে হেনস্তার চেষ্টা
কাগজ সংবাদ :
Published : Thursday, 30 May, 2019 at 6:24 AM

সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে হেনস্তার চেষ্টানার্সিং ইনস্টিটিউট যশোরের ইনচার্জ সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্প’র বিরুদ্ধে অব্যাহত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গতকাল উচ্চ পর্যায়ের টিম তদন্তে এসেছিলেন। ওই তদন্তের সংবাদ সংগ্রহ করতে যেয়ে বহু বিতর্কিত ইন্সটিটিউটের ইনচার্জের নির্দেশে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ক্যামেরা ভাংচুর চালানোর অপচেষ্টাসহ ছাত্রী সেবিকাদের দিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা করার কু-পরিকল্পনা করা হয়। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের হস্তক্ষেপ ও সাংবাদিকদের বুদ্ধিমত্ত্বায় ইন্সটিটিউটের ইনচার্জের কু-পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
বুধবার সকাল সাড়ে নয় টায় পুষ্পের  বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ইন্সটিটিউটে তদন্তে আসেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (শিক্ষা) জাহেরা খাতুন এবং নার্সিং অফিসার ও ডিপিএম খোরশেদ আলম। বুধবার দুপুর ১২ টায় সাংবাদিকরা পুষ্পের কাছে জানতে চান তার বিরুদ্ধে কেনো তদন্ত কমিটি এসেছে কিনা। এতেই তিনি তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন। এক পর্যায়ে পুষ্পের নির্দেশে এক আয়া গণমাধ্যমকর্মীদের ইন্সটিটিউটের ভবনের মূল ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখে। একই সাথে ছাত্রী সেবিকাদের উস্কে দেন সাংবাদিকদের হেনস্তা করার জন্য। যদিও কোনো ছাত্রী সেবিকা পুষ্প’র অনৈতিক নির্দেশে সাড়া দেননি। বিষয়টি সাংবাদিকরা দ্রুত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালম আজাদ লিটুসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। এরপর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইন্সটিটিউটের তালা খুলে দেয়া হয়।
এরআগে, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঢাকা থেকে আগত তদন্ত টিম ইন্সটিটিউটের অন্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের নিয়ে হাসি ঠাট্টায় মশগুল রয়েছেন। দেখে বুঝার কোনো উপায় ছিলো না, তারা তদন্তে এসেছেন না ইনচার্জের আতিথিয়তা নিতে এসেছেন। কমিটির কাছে এ তদন্তের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা জানান, সাংবাদিকদের সাথে তাদের কোনো প্রকার কথা বলা নিষেধ রয়েছে। তারা তদন্ত শেষে অধিদপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেবেন। দুপুর দেড়টার দিকে তদন্ত কমিটির দু’সদস্য ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে ইনস্টিটিউট থেকে বেরিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত ইনচার্জের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাসহ নানা উপঢৌকন গ্রহণ করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তিনি পদাধিকার বলে নার্সিং ইন্সটিটিউটের স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা। তিনি তদন্ত কমিটিকে অনুরোধ করেছিলেন কার্যক্রম শেষে তার সাথে দেখা করার জন্য। কিন্তু তদন্ত কমিটি ইন্সটিটিউট থেকে বের হয়ে তার সাথে দেখা না করেই চলে  গেছেন। এমনিক তারা বলে গেছেন তত্ত্বাবধায়কের সাথে দেখা বা কথা বলার কোনো প্রয়োজন তাদের নেই। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে খবর আসে ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে স্ব-শরীরে তিনি ইনস্টিটিউটে যান। সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান। তিনি পুষ্প’র করা অব্যাহত অপকর্ম ও দুর্নীতির জন্যে শাস্তির দাবি করেন। একই সাথে পুরো বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর কার্যালয়সহ, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। খবর পাওয়া মাত্র যশোর দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি টিম নার্সিং ইনস্টিটিউটে এসে ইনচার্জকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা শাখার লোকজন গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন।
এর আগে ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শৃঙ্খলা), মঞ্জুয়ারা বেগম, সহকারী পরিচালক শিরিন আক্তার ও প্রভাষক হারুণ-অর-রশিদ তদন্তে আসেন। কিন্তু  লোক দেখানো তদন্ত করে তারা চলে যান।
একাধিক সূত্রের দাবি, পুষ্প তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির তদন্ত শুনে ছুটে যান ঢাকায়। একদিনের জন্যে বিমানের প্রথম ফ্লাইটে গিয়ে দ্বিতীয় ফ্লাইটে ফিরে আসেন কর্মস্থলে। এসেই তিনি ইনচার্জ হিসেবে বিগত ২০১১ সাল থেকে যে রেজিষ্ট্রার গুলো তার দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে সেই রেজিষ্ট্রারসহ সকল রেজিষ্ট্রার নতুন করে সৃষ্টির নির্দেশ দেন তার অধীনস্থ অফিস সহকারীদের। পুষ্প ঢাকায় যেয়ে বড় স্যারদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এসেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রের আরো দাবি, তদন্ত কমিটি ইন্সটিটিউটে এসে খালি ব্যাগ ভরে নিয়ে   গেছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তন্দ্রা শিকদার বরাবরই সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্পকে রক্ষা করে চলেছেন। যতবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন ততোবারই ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় ম্যানেজ হয়েছেন এ মহাপরিচালক। পুষ্প গর্ব করে সেসব কথা সবার মাঝে প্রচার করে থাকেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft