বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Thursday, 30 May, 2019 at 6:24 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজান আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদে নফসের সাথে তিনটি বিশেষণের উলেখ করেছেন। আম্মারা বিস-সু’ বা কুকাজের আদেশকারী বিশেষণটির উলেখ করেছেন সূরা য়ুসুফে, লওওামা বা তিরস্কারকারী বিশেষণটির কথা বলেছেন সূরা আল-কিয়ামার মধ্যে এবং মুৎমায়িন্না বা নির্বিকার বিশেষণটি উলেখ করেছেন সূরা আল-ফাজরের মধ্যে। নফসের প্রতি এই বিশেষণগুলোর প্রয়োগ সম্পর্কে ইসলামী দর্শন শাস্ত্রবিদদের দুটো মত পাওয়া যায়। এক মত এই যে, মানুষের নফসগুলো মুলতঃ তিন প্রকার। কারও নফস আম্মারা, কারও নফস লাওওামা এবং কারও নফস মুৎমায়িন্না। দ্বিতীয় মতটি এই যে, এগুলো যে কোন নফসের প্রতি অবস্থা বিশেষে প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যাই হোক, উভয় মত লক্ষ্য রেখে আমরা বলতে পারি যে , যে নফস মূলতঃ অথবা যে কোন নফস, যে অবস্থায় কোন অন্যায় কাজ সম্পাদন করার পরে ঐ নফসের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে, কোন অনুতাপ অনুশোচনা না আসে তবে সেই নফসকে অথবা নফসের ঐ অবস্থায় ঐ নফসকে আম্মারা বলা হবে। কিন্তু অন্যায় কাজটি সম্পাদনের পরে যদি নফসের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে অনুতাপ এসে ঐ নফসকে অস্থির করে তোলে তবে সেই নফসকে অথবা নফসের ঐ অবস্থায় ঐ নফসকে লাওওামা বলা হবে। আর যে নফস মূলতঃ অথবা যে নফস যে অবস্থায় কুপ্রবৃত্তির দ্বারা আদৌ প্রভাবান্বিত না হয়ে ‘আকল-বিবেকের মীমাংসা মত রূহ বা আত্মার নির্দেশ পালনে স্থির ও অটল থাকে সেই নফসকে অথবা নফসের ঐ প্রকার অবস্থায় ঐ নফসকে ‘মুৎমায়িন্না বলা হবে। নফস মুৎমায়িন্না সম্বন্ধে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (আখিরাতে নফস মুৎমায়িন্নাকে বলা হবে) “হে মুৎমায়িন্না নফস, তুমি সন্তুষ্ট হয়ে এবং (আল্লাহ তা‘আলার সন্তোষ লাভ করে) আমার বান্দাদের শামিল হয়ে আমার জান্নাতে দাখিল হও।” কাজেই দেখা যায়, এই নফস মুৎমায়িন্না হাসিল করাই হচ্ছে মানুষের পক্ষে চরম রূহানী তরক্কী। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার ও তাঁর রাসূলের বিধিনিষেধ পরিষ্কারভাবে জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে ঐ বিধি-নিষেধ কোন প্রকার দ্বিরুক্তি বা আপত্তি না করে তাই যথার্থ বলে মেনে নেয় এবং নির্বিকার-চিত্তে, অম্লান বদনে তা পালন করে চলে তার নফসকে মুৎমায়িন্না বলা সঙ্গত হবে। কারণ সে আল্লাহর আদেশ পালন করে সন্তুষ্টও থাকে এবং সে আল্লাহর সন্তোষ লাভেও সক্ষম হয় আর একেই বলা হবে চরম রূহানী তরক্কী  হয়েছে। এখন দেখা যাক, এই রূহানী তরক্কী লাভের ব্যাপারে রামাযানের কতখানি অবদান রয়েছে। এ সম্বন্ধে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “রমযান মাস- এমন একটি মাস যে মাসে নাযিল করা হয়েছে আল-কুরআন। এই আল-কুরআন লোকদের ঠিক পথে চালায়, ঠিক পথের স্পষ্ট আলামত দেখায় এবং ন্যায়কে অন্যায় থেকে পৃথক করে দেয়।” এখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি রামাযান মাসে যে সওগাত পাঠান তা হচ্ছে আল-কুরআন। আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানকে যত নে‘মত দান করেছেন তার মধ্যে  সর্বশ্রেষ্ঠ নে‘মত হচ্ছে আল-কুরআন। কারণ আল্লাহর আর সব নে‘মাত মূলতঃ নশ্বর দেহের পুষ্টি সাধন করে অথবা নশ্বর দেহকে আরাম আয়েশ দান করে থাকে; কিন্তু আল-কুরআন নশ্বর দেহ পালনের যাবতীয় ব্যবস্থা দান করার সঙ্গে সঙ্গে অবিনশ্বর, চিরস্থায়ী রূহের সকল প্রকার কল্যাণের পথ উন্মুক্ত করে।  গোটা রমজানের ৩৬০ ঘন্টা আল্লাহর ইবাদতের পর যখন মাহে রমজান শেষ হচ্ছে অর্থাৎ শাওয়ালের প্রথম তারিখেই মাহে রমজানের সকল ইবাদতের প্রভাব দেহ-মন থেকে সম্পুর্ণ মুছে বা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। হিন্দু জাতি যেমন মেলা বা তাদের ধর্মীয় উৎসবে যা কিছু করে আজ আমরা মুসলমানরা ঠিক তাই করতে শুরু করেছি। এমনকি  আমাদের মত একটি মুসলিম দেশের রাজধানী বা অন্যান্য শহর গুলিতে ঈদের মত একটি পবিত্র দিনে ও রাতে জেনা-ব্যভিচার , গান-বাজনা, আর মদ-জুয়ার এক তুফান বইতে থাকে । তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে দীর্ঘ রমজান মাস ব্যাপি খোদাভীরুতার বা তাকওয়ার সেই প্রশিক্ষনের শিক্ষা কোথায গেল? আরো প্রশ্ন জাগে রমজান খতম হওয়ারি সাথে সাথে আল্লাহর ভয়কি খতম হয়ে গেল? আপনি একজন রোজাদার হয়ে রোজার মাসে যে আল্লাহর ভয় আপনার অন্তরে ছিল আল্লাহর ভয়কে আজ আপনার অন্তর থেকে দূরিভূত করে দিলেন কেন? অথচ আল্লাহ পাক একমাসের রোজা পালনের মাধ্যমে গোটা বছরে আপনার অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগানের জন্যই রোজা  দান করেছিল। আর রোজার আসল উদ্দেশ্যেই ছিল একমাস রোজা পালনের মাধ্যমে সারা বছর আপনার অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগিয়ে রাখা। তাহলে আরো প্রশ্ন জাগে রোজার যে মিশন আল্লাহর ছিল সেই মিশন কি তা এটা। আল্লাহ রব্বুল আলামিন রোজার মিশন বা লক্ষ্য সম্পর্কে কুরআনে এরশাদ করেন, ‘ইয়া আয়্যুহালালিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলালাজিনা মিন ক্ববলিকুম লায়্লাাকুম তাত্তাকুন’। অর্থাৎ ‘হে ঈমানদার বান্দারা ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেন তোমরা তাকওয়া বা খোদাভিরুতা অর্জন করতে পার’। তাকওয়ার আরেক অর্থ হলো মিথ্যা না বলা,গীরত না করা,প্রতারণা না করা, পরনিন্দা না করা, কারো অপবাদ না দেয়া, হারাম গান-বাজনা না শোনা,সিনেমা-নাটক সিরিয়াল না দেখা সহ এ ধরনের নানা হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা।  রোজা যে তাকওয়া অর্জন উদ্দেশ্যে সেই তাকওয়া আসলে কি? হযরত উমর (রা:) একবার হযরত উবায় ইবনে কাব (রা:)কে জিঙ্গাসা করলেন, তাকওয়া আসলে কি? তিনি তিনি উত্তরে বললেন,হে উমর, কাঁটা যুক্ত পথে অতি সর্তকতার সাথে পথ চলাই হলো তাকওয়া। অর্থাৎ দুনিয়ার সকল শয়তানী মত পথ বাদ দিয়ে শয়তানের সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে আল্লাহর পথে নিজের জীবন পরিচালনা করাই হলো তাকওয়া। পবিত্র রমজানের আসল উদ্দেশ্যই হলো তাকওয়া বা খোদাভীরু লোক তৈরী করা । এবং এটাই আল্লাহর একমাত্র লক্ষ্য।আর আমরা সকলেই জানি যদি কোন ব্যক্তির মনে তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় সর্বদা জাগ্রত থাকে তবে ঐ ব্যক্তির দ্বারা গভীর অন্ধকার রাতেও একটা অন্যয় বা পাপকর্ম করা সম্ভব হবে না কেননা উক্ত  আল্লাহ ভীরু ব্যক্তি খুব ভালো ভাবেই জানবে যে, এই গভীর অন্ধকারে আমার এ পাপ কর্মটি দুনিয়ার অন্য কেউ না দেখলে ও মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন অবশ্যই দেখছেন ।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft