শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯
আক্কেল চাচার চিঠি (আঞ্চলিক ভাষায় লেখা)
গৌরনদীর যে হোটেলে সেউরী খাতি টাকা লাগে না !
Published : Friday, 31 May, 2019 at 6:34 AM
পৃতিবীর বেশীর ভাগ মোসলমান দেশে রুযা আসলি জিনুস পত্তরের দাম কুমানোর হিড়িক পইড়ে যায়। আর উল্টো ঘটনা ঘটে আমাগের দেশে। ব্যবসায়ীরা শানাই থাকে রুযার মাসের জন্যি। রুযার চান দেকার আগেত্তে শুরু হইয়ে যায় মজিমজি দাম বাড়ানোর আর চান দেকা গেলিতো কোন কতাই নেই। গোপন গুডাউনে মাল সামানা সাইরে থুইয়ে শট দেকায়ে জিনুসির দাম বাড়ায় দেয়। ভেজাল আর নকলের ছড়াছড়ি থাকে এই মাসে। ভেজাল পচা-বাসি এবং দেড়ি টাকায় মাল জিনুস বেচার ঠেকাতি মুবাল কোটের বাজার তলাশ কইরে বেড়াতি হয় স্যানে গৌরনদীর মতো মফস্বলের এট্টা উপজিলার বাসস্ট্যান্ডে সুয়াবের আশায় বিনি টাকায় সেউরী খাওয়াচ্চেন এক হোটেল মালিক। হোটেলের নাম মাতবর হোটেল। মালিক হচ্চেন মোঃ আব্দুর রশিদ মাতব্বর। রমজান মাস জুইড়ে রুযদারগের বিনি টাকায় সেউরী খাওয়াচ্ছেন বরিশালের গৌরনদীর মাতবর হোটেল আ্যন রেস্টুরেন্ট। বরগুনা জিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আবদুল্লাহ আল সাইদ চাচার ফেসবুকি লিকা ছাড়ার পর ঘটনাডা একন সবার মুকি মুকি। অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ চাচা গ্যালো সোমবার দিনগত রাত্তিরি ঢাকাত্তে বরিশালে আসার পর সেউরী খাতি যাইয়ে ঘটনাডা নিজ চোকি দেইকে ফেসবুকি ছাড়িলেন। তিনি লিকিলেন রুযার মদ্দি রাত্তিরি যাতাযাত করা খুব চিন্তার বিষয় কারন সেউরীর সুমায় ভালো কোন জাগায় খাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে টেনসন থাকে। কয়দিন আগে আমি এট্টা পরীক্কে দিতি রাত ৯ডায় সাকুরা বাসে কইরে ঢাকাত্তে বরিশালে রওনা করিলাম। বাসে উইটে সুপারভাইজারের সাতে সেউরী খাওয়ার বিষয়ডা নিয়ে কতা কতি গেলি তিনি কইলেন তিনডের দিকি য্যানে ভালো হোটেল পাওয়া যাবে স্যানে বাস থামানো হবে। রাত তিনডেয় ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে বাস থামিলো। যাত্রীগের সেউরী খাওয়ানোর জন্যি একসঙ্গে বেশ কয়ডা বাস এক সাতে থামায় হোটেলে ভিড় লাইগে গিলো। আমি সেউরী খাওয়ার জন্যি হোটেলের খাওয়ার টেবিলে পাশে কিচুক্কন দাড়ায় থাকার পর জাগা খালি হলি এট্টা চিয়ারে বইসে পড়ি। হুটোপাটা কইরে দাম দর না কইরে খাতি বইসে গিলাম। আমার পাশের এট্টা যাত্রী দাম জিজ্ঞেস কত্তিই হোটেল বয় কইলে দাম লাগবে না, কি খাবেন কন। কথাডা শুইনে তকনো বুঝদি পারিনি ফ্যারাডা কী। আমি খাওয়া শেষ কইরে বিল দিয়ার জন্যি হোটেলের ম্যানেজারের কাছে গিলাম। তিনি আমারে খুব বিনয়ের সাতে কলেন টাকা দিয়া লাগবে না। বচরের ১১ মাস ব্যবসা করি, এক মাস আল্লাতালার অশেষ কৃপা লাভের আশায় রুযদারগের  খেদমত কচ্চি। কতায় কতায় জানতি পাল্লাম তিনি হোটেলের ম্যানেজার না, তিনিই হোটেলের মালিক। উনার নাম আব্দুর রশিদ মাতবর। পুরো রুযার মাস জুইড়ে তিনি  সেউরী খাওয়ায়ে কারো কাচতে টাকা নেচ্চেন না। শুদু তিনি নিজিই না। হোটেলের বয়রাও বেশ আন্তরিক। যে কোনো একজন খাতি আসলি চিয়ারে বসার সাতে সাতে তারা জিজ্ঞেস কচ্চেন কী খাবেন, মাছ না গোস্ত। মাছ হলে কোন মাছ, আর গোস্ত হলে কিসির গোস্ত। যে মানুষ পুরো রুযার মাস সুয়াবের আশায় মানসির খেদমত কচ্চেন তিনি পচা বাসী খাবার খাতি দেবেন তা কারোরি বিশ্বাসই হবে না। চিটিডা লিকতি বইসে খালি মনে হচ্চিল আব্দুর রশিদ মাতবর ম্যা’ভাইয়ের কাচেত্তে আমাগের দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীগের কি কিচু শিকতি পারেন না ? 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft