বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Friday, 31 May, 2019 at 6:34 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজানঅন্যায়ের সাথে আপোষ করার কোন সুযোগ ইসলামে নেই।  পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহর রাস্তায় বদরের যুদ্ধ প্রমাণ করে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে রোজার একটা বিরাট সম্পর্ক আছে। ইসলামের সোনালী ইতিহাস সাক্ষী সেদিন ইসলামের সৈনিকরা মাত্র ৩১৩ জন হওয়া সত্বেও তিনগুন সংখ্যার চেয়েও শক্তিশাল সৈন্যদের বিরুদ্ধে আল্লাহ আর রাসুলের সৈনিকরা বিজয় লাভ করেছে। আর রোজার মাস আল্লাহর কাছে বড় মহত্বের । অন্য মাস থেকে রমজানের মহত্ব হাজার গুণ বেশী। আর তাই আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, রমজান এমন একটি মাস যে ,মাসে নাযিল হয় আল কুরআন। আর আল কুরআন হচ্ছে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী একমাত্র পূণাঙ্গ জীবন বিধান। পূণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে একমাত্র আল কুরআনেই রয়েছে বিশ্ব মানবতার মুক্তির গ্যারান্টি। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনেই কুরআন সম্পর্কে এরশাদ করেন, “হুদাল লিন নাস”অর্থাৎ এই কুরআন পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য হেদায়েত বা পথ প্রদর্শক হিসেবে কেয়ামত পর্যন্ত আলো দিয়ে যাবে। যে কোন মানুষ এ গ্রন্থ থেকে হেদায়েত বা ইহকালিন ও পরকালিন মুক্তি লাভ করতে পারবে। কিন্তু এই রমজানে এমন হেদায়েত বা তাকওয়া ব্যক্তি তৈরীর প্রচেষ্টা- পরিকল্পনা কই? শুধু ইফতার মাহফিল করে কি এমন ব্যক্তি তৈরী করা যাবে? সারা বছরের নিরন্তর প্রচেষ্টা কই? ব্যক্তি হতে ব্যক্তিতে দা‘ওয়াতের কার্যধারা কই?   ইসলামের ব্যাপক দা‘ওয়াতের কাজ তাবলীগ জামাআত ছাড়া (সম্পূর্ণ সুন্নাতী তরীকায় না হলেও) অন্যদের মধ্যে তেমন একটা চোখে পড়েনা। আমাদের মধ্যে মিটিং মজলিসের প্রচার আছে, ময়দানে জড়ো করে নসীহাত করার তাবলীগ আছে। কারণ এটাই সবচেয়ে সোজা ও সহজ। কিন্তু এক-এক বক্তিকে টার্গেট করে তার ঈমানী ও আমলী পরিবর্তনের সুন্নাতী মানুষ তৈরী করার টাস্ক প্ল্যান ছাড়া, নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ছাড়া দ্বীন কায়েম করা বা প্রতিষ্ঠা করা যাবেনা। ‘ওয়া মা উমিরু ইলা লি ইয়া ‘বুদুলাহা মুখলিসীনা লাহুদ্ দীন’- এর নির্দেশ ও দাবী কিছুতেই কার্যকর করা যাবে না।  আল্লাহতায়ালা ঈমান ও আমলে একাকার এরকম মানুষই চান। চরিত্র বৈশিষ্ট্য ম-িত মানুষ। অনুস্মরণীয় মানুষ। সমাজের রসম-রেওয়াজ, বেদীনী মুশরেকী কৃষ্টি কালচারকে উপেক্ষা করে বেপরোয়া ভাবে  শুধু ইসলামী শরীয়ত  অনুযায়ী চলতে অভ্যস্ত মানুষ। যে মানুষ সালাতের কাতারে দাঁড়িয়ে পাজামা-প্যান্ট-লুঙ্গি ভাঁজ করে গিঁটের ওপর উঠিয়ে এবং সালাম শেষে গিঁটের নীচে নামিয়ে দেবার চতুরতায় অভ্যস্ত হবেনা। মুসলিমও থাকব আবার জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ মানব এটা হবেনা। ইসলাম মানব আবার পাশ্চাত্য পন্থীও হব, সমাজের শিরক-বিদআতের সাথে আপোষ করব আবার আল্লাহর উৎকৃষ্ট বান্দাও হব- এমন হিপোক্রেসী রপ্ত করবো না। আমরা মাহে রমজানের শিক্ষায় এরকম মানুষ হবো যাদের সম্বন্ধে রাসূল সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন- “ আমার উম্মাতের একটি দল আল্লাহর বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়ে যাবে। তারা তাদের শত্রুদের মোকাবেলায় অত্যন্ত বজ্র কঠোর হবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোন অনিষ্ট করতে পারবেনা। এভাবে চলতে চলতে তাদের নিকট কিয়ামত এসে যাবে,তাদের উপর জুলুম চলবে,তারা জীবন দিবে কিন্তু তারা ইসলামের উপরেই প্রতিষ্ঠিত থাকবে। মনে রাখতে হবে ইসলামী বিশ্বের সাথে পাশ্চাত্য সভ্যতার সংঘাতই হবে এ শতকের মূল ঘটনা। এক পর্যায়ে চীনা ও জাপানী সভ্যতা হাত মেলাতে পারে ইসলামী সভ্যতার সাথে।  বর্তমানে মার্কিনপন্থি কিছু বুদ্ধিজীবি ‘সংঘর্ষিক ইসলাম’ কে দাঁড় করাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে। তারা প্রাচ্য ও  প্রতীচ্যের সেই মধ্যযুগীয় ক্রুসেডের আদর্শকে আজকের বিশ্বব্যবস্থায় পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের নির্ধারক করে দিচ্ছে।  উদ্দেশ্য ইসলামী মূল্যবোধকে হত্যা করে মুসলিম সমাজের সনাতন ঐতিহ্য ও আদর্শের স্থলে পাশ্চাত্য কালচারের প্রতিষ্ঠা।  তাদের মিডিয়া অতি সুনিয়ন্ত্রিত বলেই জনগণের মনের কথা বিশ্ব জানতে পারে না। কিন্তু একথা সত্যি যে, মিথ্যা তার নিজস্ব সংকটেই জর্জরিত। ইসলাম মহান আল্লাহর মনোনীত দীন। মুসলিম জাতি তাঁরই পছন্দের ‘খাইরা উম্মাত’। শুধু বাস্তবে সেই সর্বোত্তমের কোন প্রমাণ নেই। একটা লাঞ্ছিত, ঘৃণিত, অবদমিত, নিপীড়িত সত্তা নিয়ে এ পৃথিবীতে উম্মাতে মুসলিমার অবস্থান। বিভিন্ন দলে-উপদলে, মাযহাবে-তরীকায় বিভক্ত হয়ে শক্তিহীন। কিতাব ও সুন্নাতের দাবী জানা সত্ত্বেও পার্থিব লোভ ও লালসা, ভোগ ও বিলাসিতার আকর্ষণে চরিত্রহীন। চরিত্রের আকর্ষণীয় ছটা, মোহময়ী ব্যক্তিত্ব, তাকওয়ার ভূষণে বিভূষিত, বিশ্বমানবতার কল্যাণে উৎসর্গিত কোন মুখচ্ছবি এ জাতির মধ্যে দৃষ্টিগোচর হয়না। তা সত্ত্বেও ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার এই শেষ  দ্বন্দ্বে ও সংঘর্ষে মুসলিমকেই তুলে নিতে হবে অস্ত্র। শুধু আত্মরক্ষার স্বার্থে যে জিহাদ ও যুদ্ধ তাদের আলেম উলামারা এড়িয়ে গেছেন, একই ভাষায় ‘কুতিবা আলাইকুমুস্ সিয়াম’ এবং ‘কুতিবা আলাইকুমুল কিতাল’- এর মধ্যে শুধু প্রথমটিকেই গ্রহণ করে দ্বিতীয়টিকে বিসর্জনই দিয়েছে তার মাশুল দেবার দিন সমুপস্থিত। সিয়ামে অর্জিত তাকওয়ার তর্ক ও অস্ত্র দিয়ে কিতালের শর্ত পূরণের ক্ষণ সমাগত। সমাজতন্ত্রের  পতন হয়েছে। পুঁজিবাদের ধ্বংস অনিবার্য। এখন ইসলাম ছাড়া দিগন্ত রেখায় কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।  



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft