মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Saturday, 1 June, 2019 at 6:34 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজান আজ ২৬ রোজা। অধিকাংশ ইমাম ও আলেমের মতে আজ দিবাগত রাতেই   মহা মূল্যবান রাত লাইলাতুল ক্বদর। আর লাইলাতুল ক্বদর হলো হাজার রাতের চেয়েওে এক মহা মহিমমান্বিত রাত। আজকের রোজা শেষে অর্থাৎ আজ দিবাগত রাতেই আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে মহা নিয়ামতের রাত লাইলাতলি কদর। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি রামাযান মাসে যে সওগাত পাঠান তা হচ্ছে আল-কুরআন। আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানকে যত নে‘মত দান করেছেন তার মধ্যে  সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হচ্ছে আল-কুরআন। কারণ আল্লাহর আর সব নেয়ামত মূলতঃ নশ্বর দেহের পুষ্টি সাধন করে অথবা নশ্বর দেহকে আরাম আয়েশ দান করে থাকে কিন্তু আল-কুরআন নশ্বর দেহ পালনের যাবতীয় ব্যবস্থা দান করার সঙ্গে সঙ্গে অবিনশ্বর, চিরস্থায়ী রূহের সকল প্রকার কল্যাণের পথ উন্মুক্ত করে। কাজেই মানুষ যে রাতে এই অমূল্য সওগাত আল-কুরআন লাভ করেছে, মানুষের ইতিহাসে সেই রাতটি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহান তাতে কোনই সন্দেহ থাকতে পারে না। লাইলাতুল কদরের মহিমা বা মর্যাদা  আল্লাহর কাছে এত বেশী যে, মহান আল্লাহ পাক এ জন্য আলাদা এক সুরা নযিল করেছেন। এই সুরার নাম হলো সুরা কদর। আল্লাহ পাক সুরা কদরের শুরুতে এরশাদ করেন,“নিশ্চয় আমি আল্লাহ তায়ালা আল কুরআন অবর্তীন করেছি লাইলাতুল কদরে”। এরপর আল্লাহ পাক আল্লাহর রাসুল(স:)কে এবং দুনিয়ার অন্য সকলকে লক্ষ করে বলেছেন তোমরা কি জান যে, লাইলাতুল কদরের মহিমা বা মর্যাদা আল্লাহর কাছে কতটুকু?এরপর আল্লাহ পাকই বলে দিচ্ছেন,লাইলাতুল কদরি খয়রুম মিন আলফি শাহর, অর্থাৎ লাইলাতুল কদর হলো আল্লাহর কাছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আর এই উত্তম সময়টা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফজরের নামাজ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,ঐ কদরের রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে অসংখ্য নিয়ামত আর হাজারো বরকত নিয়ে জ্রীব্রাইল অবতীর্ন হয় আর সাথে থাকে অসংখ্য ফেরেশতা। আর ফেরেশতারা আল্লাহর তরফ থেকে পৃথিবীর বান্দাদের জন্য রহমত বর্ষন করতে থাকেন। আর হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ঐ মহা সম্মানিত কদরের রাতে আল্লাহ পাক প্রথম আসমানে নেমে আসেন আর  বলতে থাকেন, কে আছ সাহায্য প্রাথী? আমার কাছে সাহায্য চাও। কে আছ অভাব গ্রস্ত? আমারকাছে চাও । কে আছ গোনাহ মাফ পেতে চাও? আমার কাছে গোনাহ মাফের প্রার্থনা কর। আজ আমি তোমরা যা চাইবে আমি তোমাদের তাই দেব। লাইলাতুল কদর থেকে আমরা কি ফায়দা নিতে পারলাম? লাইলাতুল কদর হলো আল্লাহ তায়ালার দেয়া এক মহা নেয়ামত। আর এ নেয়ামত আমরা আজ পেয়ে সত্যই মহা গৌরবে গৌরাবান্তিত। এমনকি মুসলমান ছাড়াও অন্যন্য সকল জাতি এমনকি পৃথিবীর এমন একটা প্রাণীও নেই যে আলহর রহমতের গন্ডির বাইরে আছে। অর্থাৎ সকল কিছু আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহর রহমতের বর্নণা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,আমি আমার রহমতের এক’শ ভাগের একভাগ মানুষ সহ পৃথিবীর সকল প্রাণীকে ভাগ করে দিয়েছি আর বাকি নিরানব্বই ভাগ রহমতই আমি আল্লাহ আমার কুদরতে রেখে দিয়েছি। আর পবিত্র রমজানের আজ এই মহা মহিমাধর  রাতে আল্লাহর রহমতের মহিমা সবচেয়ে বেশী পরিমান বর্ষণ হয়ে থাকে। আসুন রোজাদারগন! আমরা এ মহান রাতে আল্লাহর ইবাদাতের মাধ্যমে কাটিয়ে আল্লাহর কাছ থেকে নিজেদের গোনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয়প্রাত্র হয়ে জান্নাতের দিকে রওয়ানা হই। আজ রাতে মানব জাতির জন্য এই রামাযান মাসে এমন একটি গ্রন্থ পাঠিয়েছেন যা গোটা মানব জাতিকে তার জীবনের গোটা দিক ও বিভাগের পথের দিশা দেবে। মানবজাতিকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক, অর্থনৈতিক সব দিক-নির্দেশনা দেয়ার গ্যারান্টি প্রদান করেছে আল-কুরআন। এই আল-কুরআনকে রাসূলুলাহ (সা)-এর নিকট হযরত জিবরাঈল (আ) এর মাধ্যমে দীর্ঘ ২৩ বছর সময়কালে  নাযিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রাসূলুলাহর মাক্কী জীবন ও মাদানী জীবন সংশ্লিষ্ট। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত রাসূল ইরশাদ করেন, “প্রত্যেক নবীকেÑ তাঁর উপর যে পরিমাণ লোক ঈমান এনেছে সেই পরিমাণ ওহী এসেছেÑ তাতে আমি আশা করতে পারি যে কেয়ামতের দিন আমার অনুসারী সর্বাধিক হবে।” এই হাদীসে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত দান করা হয়েছে। অন্যান্য নবীর কাছে যত ওহী বা কিতাব নাযিল হয়েছে, কুরআন তা থেকে সব দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ। এবং কুরআনের মু‘জিযা সকল গ্রন্থের মু‘জিযাকে ডিঙ্গিয়ে গিয়েছে। সব নবীকেই কোন না কোন মু‘জিযা দেয়া হয়েছে। সেই সব আম্বিয়া কেরামের ইন্তেকালের পর তাঁদের মু‘জিযা শেষ হয়ে গেছে। সেই সব আজ নিছক দৃষ্টান্ত-কাহিনী হিসেবে বিদ্যমান। পক্ষান্তরে সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ (সা) কে আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে যে বিরাট ও মহান কিতাব দান করেছেন তা আজও অক্ষুণœ আছে।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft