বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
মাওলানা মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান :
Published : Sunday, 2 June, 2019 at 6:17 AM
খোশ আমদেদ মাহে রমজানলাইলাতুল ক্বদরের রাত্রিতে আল্লাহ মানব জাতির পরিপূর্ণ জীবন বিধানসম্বলিত একটি গ্রন্থ দান করে যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যতা দিয়েছেন সেজন্যই উক্ত রাত্রি আমাদের নিকট এত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ এই পবিত্র রাত্রিতে আল-কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে বলে এই রাত্রির এত বড় মর্যাদা। কিন্তু প্রতি বছর আমাদের নিকট লাইলাতুল কাদর আসে এবং যায়, কিন্তু যে রাত্রি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম সে রাত্রির কোন আবেদন আমাদেরকে স্পর্শ করতে পারছে না। ফলে আমরা আমাদের বাস্তব জীবনে তার কোন প্রতিফলন দেখতে পাইনা। আল-কুরআনের আলোকে জীবন গড়ার যে শপথ মুসলমানদের নেয়ার কথা তা কোন মুসলিমই নিতে পারছেনা। আমরা নিজেদের মুসলিম জাতিসত্ত্বার ভিত্তিতে ঐক্য গড়ার পরিবর্তে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নিয়ে বেশী ব্যস্ত।  ক্বদরের শিক্ষা ও রোজার উদ্দেশ্যই হলো নাফসের উন্নতি বা নাফসের তারাক্কি। নফসের প্রতি এই বিশেষণগুলোর প্রয়োগ সম্পর্কে ইসলামী দর্শন শাস্ত্রবিদদের দুটো মত পাওয়া যায়। এক মত এই যে, মানুষের নফসগুলো মুলতঃ তিন প্রকার। কারও নফস আম্মারা, কারও নফস লাওওামা এবং কারও নফস মুৎমায়িন্না। দ্বিতীয় মতটি এই যে, এগুলো যে কোন নফসের প্রতি অবস্থা বিশেষে প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যাই হোক, উভয় মত লক্ষ্য রেখে আমরা বলতে পারি যে , যে নফস মূলতঃ অথবা যে কোন নফস, যে অবস্থায় কোন অন্যায় কাজ সম্পাদন করার পরে ঐ নফসের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে, কোন অনুতাপ অনুশোচনা না আসে তবে সেই নফসকে অথবা নফসের ঐ অবস্থায় ঐ নফসকে আম্মারা বলা হবে। কিন্তু অন্যায় কাজটি সম্পাদনের পরে যদি নফসের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে অনুতাপ এসে ঐ নফসকে অস্থির করে তোলে তবে সেই নফসকে অথবা নফসের ঐ অবস্থায় ঐ নফসকে লাওওামা বলা হবে। আর যে নফস মূলতঃ অথবা যে নফস যে অবস্থায় কুপ্রবৃত্তির দ্বারা আদৌ প্রভাবান্বিত না হয়ে ‘আকল-বিবেকের মীমাংসা মত রূহ বা আত্মার নির্দেশ পালনে স্থির ও অটল থাকে সেই নফসকে অথবা নফসের ঐ প্রকার অবস্থায় ঐ নফসকে ‘মুৎমায়িন্না বলা হবে। নফস মুৎমায়িন্না সম্বন্ধে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (আখিরাতে নফস মুৎমায়িন্নাকে বলা হবে) “হে মুৎমায়িন্না নফস, তুমি সন্তুষ্ট হয়ে আমার প্রিয় বান্দাদের জামায়াতে শামিল হয়ে আমার জান্নাতে দাখিল হও।” কাজেই দেখা যায়, এই নফস মুৎমায়িন্না হাসিল করাই হচ্ছে মানুষের পক্ষে চরম রূহানী তরক্কী। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার ও তাঁর রাসূলের বিধিনিষেধ পরিষ্কারভাবে জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে ঐ বিধি-নিষেধ কোন প্রকার দ্বিরুক্তি বা আপত্তি না করে তাই যথার্থ বলে মেনে নেয় এবং নির্বিকার-চিত্তে, অম্ল¬ান বদনে তা পালন করে চলে তার নফসকে মুৎমায়িন্না বলা সঙ্গত হবে। কারণ সে আল্লাহর আদেশ পালন করে সন্তুষ্টও থাকে এবং সে আল্লাহর সন্তোষ লাভেও সক্ষম হয় আর একেই বলা হবে চরম রূহানী তরক্কী  হয়েছে।এই মাহে রমজানে রূহানী তরক্কী বা রূহানী উন্নতি লাভই রোজার আসল কাম্য। কাজেই দেখা যাচ্ছে মাহে রমজানে রোজা পালনের মাধ্যেমে যদি আতœার উন্নতিই না হয়,  রোজা রেখে যদি কোন ব্যক্তি মিথ্যা বলা পরিত্যাগ করতে পারলো না আবার অন্যের গীবত করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারলো না ,কথায় কথায় ঝগড়া বা গালি-গালাজ বন্ধ করতে পারলো না এবং পরের হক ও হারাম খাওয়া েেক নিজেকে বিরত রাখতে পারলো না তার রোজা তাকে মুক্তির বা জান্নাতের মহা সন্ধান দিতে পারে না। আবার তার দোয়াও আল্লাহ পাক গ্রহন করতে পারে না কেননা আল্লাহ পাক দোয়া কবুল হওয়ার জন্য হালাল খাওয়াকে শর্ত করে দিয়েছেন।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft