সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মধ্য আর নিম্নবিত্তের ভরসা কালেক্টরেট মার্কেট
স্বপ্না দেবনাথ :
Published : Monday, 3 June, 2019 at 6:16 AM
মধ্য আর নিম্নবিত্তের ভরসা কালেক্টরেট মার্কেটএক দোকান থেকে আরেক দোকানের দুরত্ব মাত্র কয়েক ইঞ্চি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। ক্রেতাদের বসার মতো জায়গাও নেই। নেই ট্রায়াল রুমও। তবু ক্রেতাদের মধ্যে কোনো বিরক্তি নেই! সামান্য একটু জায়গাকেই হাসি মুখে ট্রায়াল রুম ভেবেই অবলীলায় যে যার পছন্দের পোশাকটিকে গায়ে দিয়ে দেখে নিচ্ছেন সব ঠিকঠাক আছে কিনা। এ চিত্র যশোরের অন্যতম পোশাক বাজার কালেক্টরেট মার্কেটের। শিশু এবং পুরুষদের পোশাকের সমাহারে সাজানো এ মার্কেট যদিও এখনো অনেকের কাছেই মধ্যবিত্তের মার্কেট নামেই পরিচিত।   
দোকানিরা মনে করেন সবসময়ই মধ্যবিত্ত, নি¤œ মধ্যবিত্তের কাছে ঈদসহ অন্যান্য উৎসবে কেনাকাটার পছন্দের শীর্ষে থাকে কালেক্টরেট মার্কেট। ক্রেতাদের চাওয়া আর পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের খুশি করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকে দোকানিদের। যদিও এখানে দোকান ভেদে রয়েছে পণ্যের মান এবং দামের প্রকারভেদ।
ইব্রাহিম রাজু নামে এক দোকানি বলেন, মূলত কালেক্টরেট মার্কেট মধ্যবিত্ত ক্রেতাদেরই। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে কেনাকাটার জন্যে নির্দিষ্ট ক্রেতারাই এখানে আসেন। সারাবছর বিক্রি থাকলেও ঈদে ক্রেতা সংখ্যা বাড়ে। তবে, এবছর তুলনামূলক বিক্রি কম।
নাহিদ হাসান, পিয়াল, রাফসান, রাব্বি, জুনাইদরা আসে পাঞ্জাবি পছন্দ করতে। বাজেট কম কিন্তু সব বন্ধুরা একসাথে একই রকম পাঞ্জাবি পরে এবার ঈদের নামাজ পড়বে বলে তারা ঠিক করেছে; তাই কালেক্টরেট মার্কেটে আসা। এসএসসি পাস করা এ ক্রেতারা জানায়, কাপুড়িয়া পট্টি এবং অন্যান্য রোডের অনেক দোকান ঘুরে তারা এখানে এসে ছয়টি পাঞ্জাবি কিনেছে। তারা মনে করে এখান থেকে পাঞ্জাবি কিনে তাদের লাভ হয়েছে।
প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক দম্পতি রুনা এবং খালিদ হাসান। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে এ মার্কেটে আসেন কেনাকাটা করতে। খালিদ জানান, তিনি ছাত্রাবস্থা থেকে এ মার্কেটের পোশাক পরেন। এখানে নির্দিষ্ট দু’টি গার্মেন্টস রয়েছে যেখানকার নিয়মিত ক্রেতা তিনি। ভাইপো ভাগ্নি এবং নিজের ছেলের জন্যে তিনি এখান থেকেই গত পাঁচ বছর ধরে ঈদের কেনাকাটা করেন।
ঈদ উপলক্ষে মার্কেটে বাড়তি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন বাবলু নামে এক ব্যক্তি। নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরে রমজান মাসে তিনি এ মার্কেটে নিরাপত্তার কাজ করেন। শহরের বাইরে থেকে অনেক ক্রেতা পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে কেনাকাটা করতে আসেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ মার্কেটে এসে কেউ খালি হাতে ফেরেন না।
নাজমুল হাসান নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি এখানে আসেন, কারণ এখনো এখানে একদর বিষয়টি সেভাবে চালু হয়নি। এখন ভ্যানে করেও একদামে শার্ট গেঞ্জি বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজারে মধ্যবিত্তদের অবস্থা সব থেকে খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দরদাম করে একটি জিনিস কিনলে আত্মিক সন্তুষ্টি মেলে।
রমজানের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে বেচা বিক্রি নিয়ে মার্কেটের অধিকাংশ দোকানি জানান, তাদের বিনিয়োগ কম থাকে। তাই লাভের আশাও কম। ঈদের সময় বিক্রি বেশি হবে এটা সবসময়ের চাওয়া। তবে, মার্কেটের একেবারে কয়েক গজের মধ্যে চলা ঈদ আনন্দ মেলার কারণে তাদের ব্যবসায়ে ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।   
এ বিষয়ে কালেক্টরেট মার্কেট সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, মেলার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তাদের সম্মান, আস্থা বরাবরই ছিল এবং আছে। পারস্পারিক আলোচনার মাধ্যমে মেলার সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছিল কিন্তু তা পার হলেও এখনো মেলা চলছে যা এ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জন্যে অনেকাংশেই ক্ষতির কারণ। বাহারী সাজসজ্জা আর মাইকিং ও ছাড়ের কারণে অনেক ক্রেতা প্রভাবিত হচ্ছেন। আগে মেলা শীতে আয়োজন করা হতো উল্লেখ করে তারা আরো জানান সারা বছর এখন নানা ধরনের মেলা চলে। আয়োজকসহ সংশ্লিষ্টদের মার্কেটের সাধারণ এ ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথাটাও চিন্তা করা উচিত।  
 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft