রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল খুশির ঈদ
এম. আইউব :
Published : Tuesday, 4 June, 2019 at 6:23 AM
আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল খুশির ঈদআজ চাঁদ দেখা গেলে কাল খুশির ঈদ। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানরা ঈদগাহে যাবে নামাজ আদায় করতে। সারাদেশের ঈদগাহে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। মুসলমানরা এদিন ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহে ইলা হামদ’ পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাবেন এবং নামাজ শেষে একই বাক্য বলতে বলতে বাড়িতে ফিরবেন।
রমজান মাস মুসলমানদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যান্য ইবাদতের পুরস্কার বান্দা তার আমলনামায় পেলেও রোজার পুরস্কার মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে দিবেন। রমজান মাসে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়। এ কারণে রমজান মহিমান্বিত মাস। সারা বিশ্বের মুসলমান এক মাস রোজা পালন করে আশায় থাকেন স্বাচ্ছন্দে ঈদের নামাজ আদায় করার জন্যে। এদিন পুরুষরা নতুন পোশাক পরে ঈদগাহে যান। নামাজ শেষে একজন আরেকজনের সাথে কুলাকুলি করেন। মঙ্গল কামনা করেন একে অপরের। তারপর বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন একমাস দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকা লোকজন।
হিজরি বর্ষপঞ্জী অনুসারে রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতর উৎসব পালন করা হয়। তবে, এই পঞ্জিকা অনুসারে কোনোও অবস্থাতে রমজান মাস ৩০ দিনের বেশি দীর্ঘ হবে না। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজানের সমাপ্তিতে শাওয়ালের প্রারম্ভ গণনা করা হয়। ঈদের আগের রাতটিকে ইসলামী পরিভাষায় লাইলাতুল জায়জা অর্থাৎ পুরস্কার রজনী এবং চলতি ভাষায় ‘চাঁদ রাত’ বলা হয়। শাওয়াল মাসের চাঁদ অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর একফালি নতুন চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদ হয়, এই কথা থেকেই চাঁদ রাত কথাটির উদ্ভব। ঈদের চাঁদ স্বচক্ষে দেখে তবেই ঈদের ঘোষণা দেয়া ইসলামী বিধান। মুসলমানদের জন্যে ঈদের পূর্বে পুরো রমজান মাস রোজা রাখা হলেও ঈদের দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ বা হারাম।
ঈদের দিন ভোরে মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদত করে থাকেন। ইসলামিক বিধান অনুসারে দু’ রাকাত ঈদের নামাজ ছয় তাকবিরের সাথে ময়দান বা বড় মসজিদে পড়া হয়। ফযরের নামাযের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের নামাযের সময় হয়। এই নামায আদায় করা মুসলমানদের জন্যে ওয়াজিব। ইমাম কর্তৃক শুক্রবারে জুম্মার নামাজের পূর্বে খুৎবা প্রদানের বিধান থাকলেও ঈদের নামাজের ক্ষেত্রে তা নামাজের পরে প্রদান করার নিয়ম ইসলামে রয়েছে। ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে খুৎবা প্রদান ইমামের জন্যে সুন্নত; তা শ্রবণ করা মুসল্লীর জন্যে ওয়াজিব। সাধারণত: ঈদের নামাজের পরে মুসলমানরা সমবেতভাবে মোনাজাত করে থাকে এবং একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের সম্ভাষণ বিনিময় করে। ঈদের বিশেষ শুভেচ্ছাসূচক সম্ভাষণটি হলো, ‘ঈদ মুবারাক’।
মুসলমানদের বিধান অনুযায়ী ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার আগে একটি খেজুর কিংবা খোরমা অথবা মিষ্টান্ন খেয়ে রওনা হওয়া সওয়াবের কাজ। ঈদুল ফিতরের ব্যাপারে ইসলামী নির্দেশসমূহের মধ্যে রয়েছে গোসল করা, মিসওয়াক করা, আতর-সুরমা লাগানো, এক রাস্তা দিয়ে ঈদের মাঠে গমন এবং নামাজ শেষে ভিন্ন পথে গৃহে প্রত্যাবর্তন। এছাড়া সর্বাগ্রে অজু-গোসলের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার বিধানও রয়েছে। ইসলামে নতুন  পোশাক পরিধান করার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিভিন্ন দেশে তা বহুল প্রচলিত একটি রীতিতে পরিণত হয়েছে।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের রমজান মাসের রোজার ভুলত্রুটি দূর করার জন্যে ঈদের দিন অভাবী বা দুস্থদের কাছে অর্থ প্রদান করা হয়, যেটিকে ফিতরা বলা হয়ে থাকে। এটি প্রদান করা মুসলমানদের জন্যে ওয়াজিব। ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করার বিধান রয়েছে। তবে, ভুলক্রমে নামাজ পড়া হয়ে গেলেও ফিতরা আদায় করার নির্দেশ ইসলামে রয়েছে। ফিতরার ন্যূনতম পরিমাণ ইসলামী বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট। সাধারণত ফিতরা নির্দিষ্ট পরিমাণ আটা বা অন্য শস্যের (যেমন: যব, কিসমিস) মূল্যের ভিত্তিতে হিসেব করা হয়। সচরাচর আড়াই কেজি আটার স্থানীয় মূল্যের ভিত্তিতে ন্যূনতম ফিতরার পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। স্বীয় গোলাম-এর ওপর মালিক কর্তৃক ফিতরা আদায়যোগ্য হলেও বাসার কাজের লোকের ওপর ফিতরা আদায়যোগ্য নয়; বরং তাকে ফিতরা দেয়া যেতে পারে। ইসলামে নিয়ম অনুযায়ী, জাকাত পাওয়ার যোগ্যরাই ফিতরা লাভের যোগ্য।
ঈদের দিনে সকালে প্রথম আনুষ্ঠানিকতা হলো নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া। ঈদের নামাজ সবার জন্যে। নামাজের পর সবাই একসাথে হওয়া, দেখা করা। ঈদের দিনে সালামি গ্রহণ করা প্রায় সব দেশেই রীতি আছে। তবে, এর ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা বা রীতি নেই।
ঈদের দিনে সেমাই সবচেয়ে প্রচলিত খাবার। বিশেষ আরো অনেক ধরনের খাবার ধনী গরিব সকলের ঘরে তৈরি করা হয়। এ উৎসবের আরো একটি রীতি হলো আশেপাশের সব বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া এবং প্রত্যেক বাড়িতেই হালকা কিছু খাওয়া। এ রীতি বাংলাদেশে অধিকাংশই মেনে থাকেন।
বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশে ঈদুল ফিতরই হলো বৃহত্তম বাৎসরিক উৎসব। বাংলাদেশে ঈদ উপলক্ষে সারা রমজান মাস ধরে সন্ধ্যাবেলা কেনাকাটা চলে। অধিকাংশ পরিবারে ঈদের সময়েই নতুন পোশাক কেনা হয়। পত্র-পত্রিকাগুলো ঈদ উপলক্ষে ঈদ সংখ্যা নামে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে। ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। ঈদের দিন ঘরে ঘরে সাধ্যমত বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। ঈদের দিনে সেমাই বা অন্যান্য মিষ্টি নাস্তা তৈরি করার চল রয়েছে। বাংলাদেশের শহরগুলো হতে ঈদের ছুটিতে প্রচুর লোক নিজেদের আদি নিবাসে বেড়াতে যায়। এ কারণে ঈদের সময়ে রেল, সড়ক, ও নৌপথে প্রচন্ড ভিড় দেখা যায়।
যশোরে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮ টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। বৃষ্টি হলেও যাতে নামাজ আদায় করা যায় সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিশাল প্যান্ডেল করেছে পৌরসভা। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ছাড়া শহর ও শহরতলির বিভিন্ন মসজিদ এবং ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আমিনিয়া মাদ্রাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮ টায়। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft