বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
একদর প্রতারণা চলছে ঈদ বাজারে
যশোরে কাপড়ের গুনগত মানের সাথে দামের মিল নেই
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Tuesday, 4 June, 2019 at 6:23 AM
একদর প্রতারণা চলছে ঈদ বাজারে গুণগত মানের সাথে দামের কোনো মিল নেই, যশোরের ঈদ বাজারে গলাকাটা অর্থ বাণিজ্য লিপ্ত হয়েছেন কাপড় ব্যবসায়ীরা। একই কাপড়ের দাম আগে কম থাকলেও ঈদ সামনে রেখে দাম বাড়িয়ে দিয়ে চলছে একদর প্রতারণা। কাপড় বাজারের মনিটরিং ইচ্ছামত দাম হাকিয়ে চলেছেন যার যার পন্যের। ছিট কাপড় থেকে শুরু করে মহিলাদের শাড়ি, থ্রি-পিস, টু-পিস, প্যান্ট জামা, গেঞ্জি, টি-শার্টসহ বিশেষ করে বাঁচ্চাদের জামাকাপড়ের উপর তারা চড়া দাম নিচ্ছেন বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। এছাড়া এক দরের ধুয়ো তুলে টম জেরি, বেবি ফ্যাশন ও ডোরেমনের মত অনেক দোকানে চলছে নৈরাজ্য।
মাত্র একদিন বাকি মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ উল ফিতরের। আর ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ করতে সব বয়সের মানুষের চায় নতুন পোশাক। শুধু নতুন পোশাক হলেই চলবে না, হতে হবে সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণও। সারাদেশের মত যশোরের কাপড় বিপণী বিতানগুলোতে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের ক্রেতাদের ভিড়। ব্যবসায়ীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করার পাশপাশি গলা কাটছেন ক্রেতাদের। যশোরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে  চোখে পড়েছে এধরনের নানা চিত্র। নানা ভার্সণের পোশাকের সংগ্রহ করে বর্ণিল সাজে সাজিয়ে ক্রেতাদের চোখ ধাঁধাঁনো হচ্ছে। ভারতীয় ডিজাইনের কাপড়, টিভি সিরিয়ালের দূর্লভ শাড়ির সংগ্রহ, কাশ্মীরি ডিজাইন পাকিস্তানি কাপড়ের ধুয়ো তুলে দাম হাকানো হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে জেস টাওয়ারের ব্লু ক্যাটস, শতরুপা থ্রি-পিস এ্ইচ এমএম রোডের টম এন্ড জেরি, ডোরেমন, বেবি ফ্যাশনসহ আইনজীবী সমিতি মোড়ে জ্যানথিক ভার্গো, রেলগেটে যেতে মুজিব সড়কের অভিযাত মাকেট খ্যাত দোকানগুলো, থানা মোড়ের রিসম্যান, সিটি প্লাজা ও বড়বাজারের একাধিক দোকানে একদর কেনা বেচা চলছে।
এসব দোকাগুলোতে কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, এখানকার অনেক দোকানেই চলছে এক দরের নামে প্রহসন। পন্যের গুনগত মানের সাথে দামের মিল নেই। বিশেষ করে শিশুদের কিশোর পোষাক নিয়ে চলছে নৈরাজ্য। সাথে বাচ্চাদের নিয়ে কেনা কাটার উপায় নেই। দোকানীরা একদর হাকিয়ে আছে, আবার শিশুরা পছন্দ করলেই ওই টাকা দিয়ে কিনতেই হচ্ছে। বিরামপুরের লিয়াকত আলীর ছেলে হাসিবুর রহমান জানান, তিনি ঈদের জন্য গেঞ্জি কিনেছেন থানা মেড়ের রিসম্যান থেকে। দাম নিয়েছে ১৬শ’ ৫০ টাকা। অথচ ঘন্টা খানেক পরেই একই গুনগত মানের গেঞ্জি অন্য একটি দোকানে ৯শ’ টাকায় বিক্রি করতে দেখেছেন। তিনি একদর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলেও জানান। বারান্দিপাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে আবিদুর রহমান মিলন জানিয়েছেন তিনি টম জেরি থেকে বাচ্চার পোষাক কিনতে গিয়ে ফিরে এসেছেন।  সেখানে একটি পোষাকের দাম হাকানো হয়েছে ১৮শ’ টাকা।  একই মানের পোষাক তিনি চুড়িপট্টির অপর একটি দোকান থেকে কিনেছেন মাত্র ৯শ’ টাকায়। চাড়া ভিটা থেকে আসা আরআর এফ এর ফিল্ড অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বেবি ফ্যাশানে আকাশ চুমি দাম। ঈদকে পঁজি করে রাতের আঁধারে মুল্য ট্যাগ পরিবর্তন করা হয়েছে। একই পোষাক দু’মাস আগেও ওই দোকানে ৫শ’ টাকা কম ছিল। ঘোপ নওয়াপড়া রোডের বাসিন্দা ও শিক্ষক রোকাইয়া ইলমাসহ কাপড় কিনতে আসা অনেকে জানান, একদরের দোকানে চলছে চরম প্রতারণা। পন্যের গুনগত মানের সাথে দামের কোনো মিল নেই। যেনো তেনো কাপড়ের দাম হাকানো হচ্ছে আকাশ চুম্বি। আর এই একদর প্রতারণায় পড়ে ক্রেতারা চরমভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আবার কোন কোন সাধারণ দোকানে পন্যের দাম চাওয়া হচ্ছে ন্যায্য মূল্যের থেকে দু’থেকে তিন গুন বেশি।
ডোরেমনে কাপড় কিনতে আসা মাগুরা সীমাখালীর আব্দুল ওয়াদুদের মেয়ে রুবাইয়া খাতুন জানান, বাচ্চার জন্য জামা প্যান্ট সেট চয়েজ করে দাম জিঙ্গাসা করলে দোকানীর জবাব আসে ২ হাজার ৩শ’ টাকা। আর এক দরের ওই দোকান থেকে ফিরে গিয়ে কয়েকটি দোকন যাচাই করে ওই সমমানের জামা প্যান্ট কিনেছেন মাত্র ১২শ’ টাকায়। যশোর রেল রোডের টিবি ক্লিনিক মোড়ের বাসিন্দা মুর্শিদ আলম আল রাজী জানান, ঈদের মার্কেটে প্রতিটি দোকানে কাপড়ের অস্বাভাবিক দাম। অন্যসব পন্য বাজারে কমবেশি নিয়ন্ত্রণ থাকলেও কাপড় বাজারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, কোনো মনিটরিং নেই। যে কারণে গলাকাটা বাণিজ্য চলে ঈদ মওকা কাজে লাগিয়ে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যশোরের গোবিন্দ স্টোর থেকে তিনি একটি শার্ট কিনেছেন ১৬শ’৫০ টাকায়। অথচ একই গুনগত মানের একটি শার্ট অপর একটি মার্কেটের একটি দোকানে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮শ’ টাকায়। ধর্মতলা থেকে আসা নাঈমুর রহমান গাজী জানান, অল্প দামের মাল বেশি দামে বিক্রি ধরনের কাজ করে চলেছেন তারা। তিনি আরও জানান, মুজিব সড়কের রঙ ফ্যাশনসহ বিভিন্ন দোকানেও ওই একদর বাণিজ্য চলছে। নিম্ন মানের থ্রি পিছ, শাড়ি, জামা, সেলোয়ারকে ইন্ডিয়ান প্রচার করে এবং বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল, সিনেমা আবার কখনো কখনো নায়ক নায়িকার নামের উপর নামকরণ করা কাপড়ের দাম হাকা হচ্ছে আকাশ চুম্বি। এ ব্যাপারে দ্রুত বাজার মনিটরিং দাবি করেছেন তিনি। ভোক্তা অধিকার নিশ্চিৎ করতে দ্রুত কাপড় বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানও দরকার।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft